ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের নাগরিক


প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের নাগরিক

পাকিস্তানের একজন নাগরিক প্রথমবারের মতো বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন। তিনি দেশটির পরবর্তী ‘শেনঝৌ-২৪’ মিশনে অংশগ্রহণ করবেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) চীনের মহাকাশ সংস্থা (সিএমএসএ) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। এই অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি নভোচারীদের চীনা সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

চীনের ম্যানড স্পেস এজেন্সি (সিএমএসএ) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মনোনীত পাকিস্তানি নভোচারী মূলত একজন ‘পে-লোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি চীনা মিশন ‘শেনঝৌ-২৪’-এর ক্রুদের সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনে যাবেন।

আরও পড়ুন: গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শীতে কাঁপছে শিশুরা

সংস্থাটি আরও জানায়, তিনি অল্প সময়ের জন্য কক্ষপথে অবস্থান করবেন এবং পরবর্তী সময়ে গত মে মাসে তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে যুক্ত হওয়া ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তবে এই মিশনটি ঠিক কোন তারিখে শুরু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মহাকাশ অভিযানটি পরিচালিত হতে পারে।

সিএমএসএ তাৎক্ষণিকভাবে নভোচারীর নাম প্রকাশ না করলেও, গত এপ্রিলে চীনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত দুই পাকিস্তানি নভোচারী মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররম দাউদের নাম জানিয়েছিল বেইজিং।

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের চুক্তির অধীনে চীনে কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তানি নভোচারীরা আগামী কয়েক বছর ধরে চীনা ক্রুদের সঙ্গে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি মিশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, বেইজিং বিগত কয়েক বছর ধরে তাদের মহাকাশ গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। দেশটির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানব মিশন পাঠানো এবং এর মাধ্যমে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো। বহু বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানকেই মহাকাশ গবেষণার অন্যতম অংশীদার হিসেবে চীন বেছে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার তোপ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


৫৬তম জন্মদিনে ফিরে দেখা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবন

টালিউডের সেরা নায়িকাদের মধ্যে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নাম প্রথম সারিতে থাকবে। বাংলা সিনেমায় কাজ করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করা গুণী এই অভিনেত্রী। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার জন্মদিন।

১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় তার জন্ম হয়। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে শিক্ষাজীবন শেষ করে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় তার অভিনয় শুরু হয়। সেখান থেকেই তিনি বড়পর্দায় নিজের স্থান তৈরি করতে থাকেন। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধশতাধিক সিনেমায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তিনি টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।

সময় পরিবর্তনের সাথে বাংলা সিনেমার ভাষা এবং দর্শকের রুচি বদলেছে, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছেন। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।

কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্র বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।

ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় তিনি এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমার জন্য ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ঋতুপর্ণা।

বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানার সিনেমায় সমানভাবে উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,

"আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।"

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল ও আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তিনি আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো তার ব্যক্তিগত জীবনও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিহত তিতাসের বাড়িতে শোক জানাতে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


নিহত তিতাসের বাড়িতে শোক জানাতে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

শনিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিহত তিতাস শেখের বাড়িতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত হন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। এরপর তিনি নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, "তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।"

মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়।" তিনি জানান, মানব পাচারকারীদের শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট দেশ-বিদেশে সক্রিয়। তিনি বলেন, "যেসব রুটে তারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি।"

এছাড়া, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সেখানে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "ডিসি-ইউএনওদের দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালালচক্রকে গ্রেফতার করে।" বিদেশে নিখোঁজ ও আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, "গত ১৭ বছরে আমরা বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ লর্ড মাফিয়াদের দেখেছি, যারা এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।"

তিনি বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। শুধু দেশেই নয়, এই চক্র দেশের বাইরেও রয়েছে। দেশে এবং বিদেশে সব জায়গাতেই আমরা সোচ্চার রয়েছি।"

তিনি যোগ করেন, "মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সৈনিকরা শহীদ হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।"

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেলে। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেজো সন্তান ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানির পাশের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮২ জন

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ কর্তৃক বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৮২ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধ প্রবণ এলাকা সমূহে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এই গ্রেপ্তারকৃতদের আটক করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ১৭ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৫ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ৩৩ জন, আদাবর থানায় ১৩ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৭ জন এবং হাতিরঝিল থানায় ৭ জন রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে ১২,৭৭১ হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


সুনামগঞ্জে ১২,৭৭১ হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

মুহাম্মদ আমিনুল হক

সুনামগঞ্জ, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর, নদী ও পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় জেলা সুনামগঞ্জ। এই অঞ্চলে রয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প। অতীতে, কৃষকরা শুধুমাত্র ধান চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন।

বর্তমানে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকরা কৃষিতে বৈচিত্র্য এনেছেন। বোরো ও আমন ধানের পাশাপাশি, মৎস্য খামার এবং সবজি চাষ করে তারা জীবনযাত্রার মান উন্নত করছেন। ধান চাষের পাশাপাশি, এখন কৃষকরা সবজি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

এ বছর, সুনামগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ৭শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। গত বছরের তুলনায়, এবার ১১ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলার উঁচু এলাকাগুলোতে এ ধরনের চাষ বেশি হয়ে থাকে।

জেলার সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এই অঞ্চলের মানুষের মনোবল দৃঢ় থাকায় তারা জীবনের সংগ্রামে থেমে থাকেননি। অনাবাদি (ঝোপ-জঙ্গল) জমি চাষের আওতায় এনে, তারা ঘরবাড়ি নির্মাণসহ চাষযোগ্য জমিতে পরিণত করছেন। এখন কৃষকদের পরিশ্রমে পতিত ও অনাবাদি জমিতে সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

ভোর হলেই সুরমা ও জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ ফসলের পরিচর্চা করছেন। কেউ আবার সবজি (ফসল) বাজারে নেওয়ার জন্য জমি থেকে সংগ্রহ করছেন। এভাবে কৃষকদের ঘামঝড়া পরিশ্রমে চাষ হচ্ছে সবজি। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন জেলার কৃষকরা।

ধান চাষের পাশাপাশি, কম সময়ে সবজি উৎপাদন কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি, বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

হুড়ারকান্দা গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়া বাধা কপি ও ফুল কপির চাষ করছেন। তিনি বাসসকে বলেন, "সবজি আবাদ করে আগে যেভাবে লাভ হতো, এবার কি হবে তা বুঝে উঠতে পারছি না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন ও সেচের সমস্যা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ বাজারজাতকরণের জন্য আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

সুরমা ইউনিয়নের কৃষক মনির হোসেন জানান, "প্রতি বছরের ন্যায় এবারো সবজি আবাদের জন্য জমি বন্ধক নিয়েছি। এ সব জমিতে মরিচ, টমেটো ও ধনিয়ার চাষ করছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে।"

একই গ্রামের সুমা বেগম বলেন, "প্রতিবছর সবজির আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। তাই আমরা সবজি চাষ করি ভালো ফলন ও লাভের আশায়। এবার আমার স্বামী অসুস্থ হওয়ায় জমিতে কাজ করতে পারছেন না। তাই আমি নিজেই সাধ্যমত সবজি ক্ষেতে কাজ করছি। লোন নিয়ে জমি বন্ধক রাখছি।"

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া এলাকায় বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলানো হয়। এই জমিগুলো নিয়মিতভাবে চাষাবাদের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে, আগাম উৎপাদিত স্থানীয় সবজি সুনামগঞ্জের বাজারে আসায় স্বস্তি ফিরেছে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে নানা ধরনের তাজা সবজি রয়েছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষকদের আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে আসায় সরবরাহে পরিবর্তন এসেছে।

শহরতলী মুসলিম নগরের কৃষক বাচ্চু মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, বরবটি, ডুগিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন।

বাচ্চু মিয়া জানান, "৪৫ শতক জমিতে লাউ এবং ৪৫ শতক জমিতে শসার আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো লাউ বিক্রি করেছি। এছাড়া জমিতে অন্যান্য সবজি চাষ করেছি। এতে আমার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।"

সুনামগঞ্জে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়। এই সময় লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, টমেটো, লালশাক, মূলাশাক, পালংশাক ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। এসব ফসলের উৎপাদন ভালো রাখতে নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ, আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। বীজ নির্বাচন, সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সহায়তা নেওয়া যাবে। বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সবজি সংগ্রহের আগে মোড়কে উল্লেখ করা অপেক্ষার সময়ও অনুসরণ করতে হবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বাসসকে বলেন, "সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজি ফলন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন, সুরমা এবং গৌরারং ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সবজি বিক্রি শুরু করেছেন কৃষকেরা। ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৯শ’ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করছেন কৃষকরা।"

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে সুনামগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়বে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে অন্য এলাকাতেও সবজি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার অর্থনীতিতে সুফল আসবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%