ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরান সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় পতন


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরান সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় পতন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) শেষ হওয়ার পর নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। বাজার বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছেন। এই দুই টানাপোড়েনের মাঝে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও, পরবর্তীতে তা নিম্নমুখী হয়ে সপ্তাহের সবচেয়ে বড় দরপতনের দিকে এগোচ্ছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent Crude) ফিউচার দর ১.৩৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৯৩ ডলারে নেমে এসেছে। দিনের শুরুর দিকে এর দাম লাফিয়ে প্রায় ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের ফিউচার দর ১.৪৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯.১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে দুই বেঞ্চমার্কেই এখন উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: অমাবস্যার অন্ধকারে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পার হওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে যেতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি রয়েছে।

জ্বালানি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপ'-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বব ম্যাকন্যালি সিএনবিসি-কে (CNBC) দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় সামরিক সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। আর এমনটি ঘটলে তেলের উভয় বেঞ্চমার্কের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সূত্র: সিএনবিসি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাভার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাভার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেনের মৃত্যু

সাভার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলা ট্রিবিউনের প্রাক্তন প্রতিনিধি নাদিম হোসেন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর। মৃত্যুর সময় তিনি বাবা-মা, দুই বোন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর নাদিম হোসেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাদিম হোসেন। তিনি সাভার প্রেসক্লাবের নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল এই সাংবাদিকের অকাল প্রয়াণে সাভার প্রেস ক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "নাদিম হাসান একজন তরুণ, প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক ছিলেন। তিনি একাধারে একজন গুণী সাংগঠনিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যু সাভারের সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।"

সাভার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভার প্রেসক্লাবের সামনে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হৃীলার গহীন পাহাড়ে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


হৃীলার গহীন পাহাড়ে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের গহিন পাহাড়ে দ্বিতীয় দিনেও মাদক ও মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের অভিযানে এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর শুক্রবার দুপুর ও বিকেলে যৌথবাহিনী আরও শক্তিশালী অভিযান পরিচালনা করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হ্নীলার গহিন পাহাড়ে তিনটি অজ্ঞাতনামা লাশ পড়ে রয়েছে। তবে লাশ উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ কিংবা যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে লাশগুলোর পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে টেকনাফে যৌথবাহিনীর চলমান অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক পাচার, মানব পাচার ও সন্ত্রাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।"

বৃহষ্পতিবার অভিয়ানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ সেনাসদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখের রামু সেনানিবাসে একদফা জানায়া শেষে দেশের বাড়ি ফরিদপুর নগরকান্দায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে মাদক ও মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের সমর্থনে শুক্রবারেও উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। এতে বক্তারা বীর সেনাসদস্য তিতাসের জন্য শোক ও পরিবার সদস্যদের সমবেদনা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রিতে ওমরাহ পালনের সুযোগ, কুইজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আবেদন করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


ফ্রিতে ওমরাহ পালনের সুযোগ, কুইজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আবেদন করুন

সৌদি সরকার বিনা খরচে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ প্রদান করছে। এই সুযোগের জন্য অংশগ্রহণ করতে হবে একটি কুইজ প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল অ্যাপ ‘নুসুক’ এর মাধ্যমে।

প্রতিযোগিতা শুরু হবে পহেলা নভেম্বর থেকে এবং চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরা পাবেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ প্যাকেজ। এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, ভিসা এবং মক্কা ও মদিনায় ১০ রাতের থাকার ব্যবস্থা। বিজয়ী চাইলে আরো একজনকে সাথে নিতে পারবেন।

নুসুক অ্যাপের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম ব্যবহারকারীরা এই লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। আবেদন করার জন্য কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে:

অ্যাপ ডাউনলোড: প্রথমে স্মার্টফোনে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল Nusuk অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে।

অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন: অ্যাপে প্রবেশ করে নিজের নাম, ই-মেইল, দেশের নাম এবং বৈধ পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সাইন-আপ করতে হবে। এরপর ই-মেইলে আসা ওটিপি (OTP) কোড দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভ্যারিফাই করতে হবে।

চ্যালেঞ্জ সেকশনে প্রবেশ: অ্যাপের মেনু থেকে ‘Game Center’ বা ‘Nusuk Challenge’ অপশনে যেতে হবে।

দৈনিক কুইজের উত্তর: সেখানে পবিত্র কোরআন, নবীজির সিরাত, ওমরাহর নিয়মকানুন বা ইসলামিক ইতিহাসের ওপর বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে প্রশ্ন করা হয়। একটি বিষয় বেছে নিয়ে ডিজিটাল চাবি সংগ্রহ করতে হবে এবং এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তর দিলে নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৈনিক লটারির (Raffle Draw) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি: নিজের ইনভাইট কোড ব্যবহার করে বন্ধু বা পরিবারকে অ্যাপে আমন্ত্রণ জানালে অতিরিক্ত চাবি পাওয়া যায়, যা লটারিতে জেতার সুযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অবশ্যই নুসুক-এর অফিশিয়াল অ্যাপ বা ভেরিফাইড মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন আরও ১০ জন পাবেন জমজমের পানির বিশেষ কার্ড।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লজ্জার বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লজ্জার বিদায়

মহানায়কেরা সাধারণত জানেন কখন মঞ্চ ত্যাগ করতে হয়। একটি পুরনো প্রবাদ রয়েছে, “দর্শকদের আরও চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রেখে বিদায় নাও।” কিন্তু ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দর্শক-সমর্থকদের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিলেন।

এই কারণেই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ কয়েকটি বছর ভালোবাসা ও সম্মানের পরিবর্তে উপহাস এবং সমালোচনার মধ্যে কাটিয়েছে। বিপরীত দৃশ্য দেখা গিয়েছিল লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে, যিনি মাত্র এক মাসেরও কম সময় আগে আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন সম্মান ও শ্রদ্ধার আবরণে।

ক্যারিয়ারের শেষের দিকে অনেকের দৃষ্টিতে রোনালদো রবার্তো মার্তিনেজের দলের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত না হয়ে বোঝা হয়ে উঠেছিলেন। ৪১ বছর বয়সে তিনি এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু বয়স তার পক্ষে ছিল না। মাঠে তার পরিশ্রমী পারফরম্যান্সও আগের মতো ছিল না। সমালোচকদের ধারণা ছিল, তিনি বিশ্বকাপে পর্তুগালের সম্ভাবনা বাড়ানোর পরিবর্তে কমিয়ে দিচ্ছিলেন।

এসব কথার কিছু সত্যতা ছিল। এই কারণেই মার্তিনেজের উত্তরসূরি জর্জ জেসুস পরোক্ষভাবে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখেন। গত মাসের উয়েফা নেশনস লিগে জেসুস যখন তার খেলার সময় সীমিত করতে শুরু করেন, তখন বিরোধ চরমে পৌঁছে যায়। নিজের প্রতি আচরণের প্রতিবাদে রোনালদো ব্যক্তিগত জেটে করে দল ছেড়ে চলে যান।

ফলস্বরূপ, তিনি ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও নামমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। অবসর ঘোষণার পরদিনই জেসুস পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য পর্তুগাল দলের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।

একটি গৌরবোজ্জ্বল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য এটি ছিল একটি বিশৃঙ্খল সমাপ্তি। অথচ নিজের সেরা সময়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সত্যিই ছিল অসাধারণ। ২০১৬ ইউরোতে তিনি পর্তুগালকে শিরোপা জিততে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও টাচলাইনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্য আজও ফুটবল ইতিহাসের একটি অংশ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে রয়েছে। ২২ বছরের ব্যবধানে করা প্রথম ও শেষ গোল মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে তিনি করেছেন ১৪৬ গোল। গত মাসে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির আন্তর্জাতিক অবসরের পর গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টাইন তারকার গোলসংখ্যা রোনালদোর চেয়ে ২০টি কম। বর্তমানে সক্রিয় কোনো ফুটবলারই ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।

বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু (৯৪), পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কি (৯২) কিংবা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন (৯১) যতই চেষ্টা করুন না কেন, রোনালদোর ১৪৬ গোলের রেকর্ড হয়তো চিরকাল অটুটই থাকবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ২৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখনো অক্ষুণ্ণ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসি (২০৮ ম্যাচ)। ফলে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ (২০৬) বা কাতারের হাসান আল-হাইদোস (১৯৩) আরও তিন-চার বছর না খেললে এটিও রোনালদোরই রেকর্ড হয়ে থাকবে।

গোল ও ম্যাচ সংখ্যার এই রেকর্ডগুলো তার অবিশ্বাস্য দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রমাণ। তবে যদি তিনি পাঁচ বছর আগে, আলি দাইয়ের ১০৮ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতেন, তাহলে হয়তো সময়কে হারাতে না পারার বাস্তবতা মেনে নিতে না চাওয়ার কারণে তার উত্তরাধিকার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

প্রথম ফাটল দেখা যায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল করার পর কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাকে একাদশ থেকে বাদ দেন। তার পরিবর্তে খেলতে নেমে গনসালো রামোস সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। তখন মনে হয়েছিল, রোনালদোর পথচলা শেষ হয়ে এসেছে।

কিন্তু নতুন কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে তিনি খেলা চালিয়ে যান। ইউরো ২০২৪-এ অংশ নেন, যদিও একটি গোলও করতে পারেননি। শক্তি ও সামর্থ্য কমে যাওয়ার পরও এবারের বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “আমি ফিরে এসেছি!”

কিন্তু ততদিনে তিনি নিজের ছায়ায় পরিণত হয়েছিলেন। শেষ দুটি বিশ্বকাপ ও শেষ ইউরোতে তার পারফরম্যান্স, আর ক্লাব ফুটবলে সৌদি আরবের আল-নাসরে খেলা, নতুন প্রজন্মের কাছে তার কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করে দেয়।

তারা শুনেছে রোনালদোর মহত্ত্বের গল্প, কিন্তু দেখেছে একজন বৃদ্ধ ফুটবলারকে, যিনি সেই গল্পের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছেন না। তবে ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যে রোনালদোকে দেখা গেছে, তিনি ছিলেন অবিশ্বাস্য।

তার ছিল দুর্দান্ত গতি, অবিশ্বাস্য দ্রুত স্টেপ-ওভার, অসাধারণ শক্তি, ক্ষমতা এবং এমন এক লাফ দেওয়ার সামর্থ্য, যা তাকে অসম্ভব উচ্চতা থেকেও হেডে গোল করতে সাহায্য করত। তিনি ছিলেন নির্মম ফিনিশার। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ফ্রি-কিক থেকেও ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতা।

যদি তিনি ফ্রান্স, স্পেন বা জার্মানির মতো ইউরোপের পরাশক্তি কোনো দেশের হয়ে খেলতেন, তাহলে সম্ভবত অন্তত একটি বিশ্বকাপ ও আরও কয়েকটি ইউরো জিততেন। তবে এটাও সত্য যে পর্তুগালকে তিনি নিজেই সেই অভিজাত কাতারে তুলে আনতে সাহায্য করেছেন।

২০০৩ সালে তার অভিষেকের আগে পর্তুগাল ইতিহাসে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোতে খেলেছিল। কিন্তু রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তারা কখনোই বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়নি। এই সময়ে তারা ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোতে অংশ নিয়েছে। অধিকাংশ টুর্নামেন্টে রোনালদোই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। ইউরো ২০১৬ ছিল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

আজকের পর্তুগাল অবশ্য ভিন্ন। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, পেদ্রো নেতো, ভিতিনিয়া ও নুনো মেন্দেসদের মতো তারকায় ভরপুর দলটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দল।

এখন তাদের আর রোনালদোকে দরকার নেই, অন্তত ২০২০-এর দশকের রোনালদোকে নয়। যদি সেরা সময়ের রোনালদো থাকতেন, তাহলে পর্তুগাল বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হতো। কিন্তু সমস্যা হলো, জর্জ জেসুস যেমন বুঝেছেন, বয়স্ক রোনালদো আর সেই মহান রোনালদো নন।

রোনালদোকে ছাড়া নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত জেসুসের সঠিক ছিল। তবে নিজের সময় ফুরিয়ে এসেছে, সেটা বুঝতে রোনালদোর অনেক বেশি সময় লেগেছে।

তবুও ফুটবল যখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে স্মরণ করবে, তখন তার শেষ দিকের সংগ্রাম নয়, বরং সেই দুর্দান্ত, অপ্রতিরোধ্য এবং ইতিহাস বদলে দেওয়া রোনালদোকেই মনে রাখা উচিত। আর শেষ পর্যন্ত, মানুষ সেটাই মনে রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%