০৮:৪৪ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার জন্য দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
শনিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিহত তিতাস শেখের বাড়িতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত হন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। এরপর তিনি নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, "তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন। মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।"
আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়।" তিনি জানান, মানব পাচারকারীদের শনাক্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট দেশ-বিদেশে সক্রিয়। তিনি বলেন, "যেসব রুটে তারা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি।"
এছাড়া, সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সেখানে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "ডিসি-ইউএনওদের দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালালচক্রকে গ্রেফতার করে।" বিদেশে নিখোঁজ ও আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, "গত ১৭ বছরে আমরা বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ লর্ড মাফিয়াদের দেখেছি, যারা এই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মানব পাচারকারীদের দমন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।"
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার
তিনি বলেন, "পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। শুধু দেশেই নয়, এই চক্র দেশের বাইরেও রয়েছে। দেশে এবং বিদেশে সব জায়গাতেই আমরা সোচ্চার রয়েছি।"
তিনি যোগ করেন, "মানব পাচারকারীদের কারণে তিতাসের মতো সাহসী সৈনিকরা শহীদ হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও স্বাভাবিকভাবে বিদেশে যেতে পারছে না। এ কারণে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।"
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেলে। পরিবারের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেজো সন্তান ছিলেন। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। পরে লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নানির পাশের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন