ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সুনামগঞ্জে ১২,৭৭১ হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ


সুনামগঞ্জে ১২,৭৭১ হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

মুহাম্মদ আমিনুল হক

সুনামগঞ্জ, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর, নদী ও পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় জেলা সুনামগঞ্জ। এই অঞ্চলে রয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প। অতীতে, কৃষকরা শুধুমাত্র ধান চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন।

বর্তমানে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকরা কৃষিতে বৈচিত্র্য এনেছেন। বোরো ও আমন ধানের পাশাপাশি, মৎস্য খামার এবং সবজি চাষ করে তারা জীবনযাত্রার মান উন্নত করছেন। ধান চাষের পাশাপাশি, এখন কৃষকরা সবজি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সাচিং প্রুর মন্তব্য

এ বছর, সুনামগঞ্জ জেলায় ১২ হাজার ৭শ’ ৭১ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। গত বছরের তুলনায়, এবার ১১ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। সদর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলার উঁচু এলাকাগুলোতে এ ধরনের চাষ বেশি হয়ে থাকে।

জেলার সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে শীতকালীন সবজির চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। এই অঞ্চলের মানুষের মনোবল দৃঢ় থাকায় তারা জীবনের সংগ্রামে থেমে থাকেননি। অনাবাদি (ঝোপ-জঙ্গল) জমি চাষের আওতায় এনে, তারা ঘরবাড়ি নির্মাণসহ চাষযোগ্য জমিতে পরিণত করছেন। এখন কৃষকদের পরিশ্রমে পতিত ও অনাবাদি জমিতে সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

ভোর হলেই সুরমা ও জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ ফসলের পরিচর্চা করছেন। কেউ আবার সবজি (ফসল) বাজারে নেওয়ার জন্য জমি থেকে সংগ্রহ করছেন। এভাবে কৃষকদের ঘামঝড়া পরিশ্রমে চাষ হচ্ছে সবজি। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন জেলার কৃষকরা।

ধান চাষের পাশাপাশি, কম সময়ে সবজি উৎপাদন কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি, বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শীতের আগমনে খেজুর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা

হুড়ারকান্দা গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়া বাধা কপি ও ফুল কপির চাষ করছেন। তিনি বাসসকে বলেন, "সবজি আবাদ করে আগে যেভাবে লাভ হতো, এবার কি হবে তা বুঝে উঠতে পারছি না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পরিবহন ও সেচের সমস্যা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ বাজারজাতকরণের জন্য আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

সুরমা ইউনিয়নের কৃষক মনির হোসেন জানান, "প্রতি বছরের ন্যায় এবারো সবজি আবাদের জন্য জমি বন্ধক নিয়েছি। এ সব জমিতে মরিচ, টমেটো ও ধনিয়ার চাষ করছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে।"

একই গ্রামের সুমা বেগম বলেন, "প্রতিবছর সবজির আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। তাই আমরা সবজি চাষ করি ভালো ফলন ও লাভের আশায়। এবার আমার স্বামী অসুস্থ হওয়ায় জমিতে কাজ করতে পারছেন না। তাই আমি নিজেই সাধ্যমত সবজি ক্ষেতে কাজ করছি। লোন নিয়ে জমি বন্ধক রাখছি।"

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঝরঝরিয়া এলাকায় বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলানো হয়। এই জমিগুলো নিয়মিতভাবে চাষাবাদের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কৃষকরা।

আরও পড়ুন: উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছরে স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রামীণ উন্নয়ন উদাহরণ

এদিকে, আগাম উৎপাদিত স্থানীয় সবজি সুনামগঞ্জের বাজারে আসায় স্বস্তি ফিরেছে।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে নানা ধরনের তাজা সবজি রয়েছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষকদের আগাম উৎপাদিত সবজি বাজারে আসায় সরবরাহে পরিবর্তন এসেছে।

শহরতলী মুসলিম নগরের কৃষক বাচ্চু মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, বরবটি, ডুগিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন।

বাচ্চু মিয়া জানান, "৪৫ শতক জমিতে লাউ এবং ৪৫ শতক জমিতে শসার আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো লাউ বিক্রি করেছি। এছাড়া জমিতে অন্যান্য সবজি চাষ করেছি। এতে আমার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।"

আরও পড়ুন: উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: গ্রামীণ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ

সুনামগঞ্জে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়। এই সময় লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, টমেটো, লালশাক, মূলাশাক, পালংশাক ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। এসব ফসলের উৎপাদন ভালো রাখতে নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ, আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ ও সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। বীজ নির্বাচন, সার প্রয়োগ, রোগবালাই দমন ও আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে সহায়তা নেওয়া যাবে। বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সবজি সংগ্রহের আগে মোড়কে উল্লেখ করা অপেক্ষার সময়ও অনুসরণ করতে হবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বাসসকে বলেন, "সদর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে আগাম শীতকালীন সবজি ফলন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন, সুরমা এবং গৌরারং ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সবজি বিক্রি শুরু করেছেন কৃষকেরা। ৩টি ইউনিয়নে প্রায় ৯শ’ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করছেন কৃষকরা।"

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে সুনামগঞ্জে আগাম শীতকালীন সবজির উৎপাদন বাড়বে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে অন্য এলাকাতেও সবজি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার অর্থনীতিতে সুফল আসবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রী টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম রেঞ্জে বিশেষ অভিযানে ১০৯৮ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


চট্টগ্রাম রেঞ্জে বিশেষ অভিযানে ১০৯৮ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রতিরোধে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮০ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৬৬ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৬১ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৬ জন, ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪৮ জন, পরোয়ানামূলে ১৮৫ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া, মাদক মামলায় ৭৬ জন মাদকসেবী এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে মোট ১২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩২ জনকে কারাদণ্ড এবং মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ সময় ৩৪টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযানে ৩৮ হাজার ১৩৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭ কেজি ৩৬০ গ্রাম গাঁজা, ১০ লিটার চোলাই মদ এবং নয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৫৪২ জনের মধ্যে ৩৩৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক কিশোর গ্যাং সদস্য আটকের সংখ্যা হলো- চট্টগ্রামে ৯৫, কক্সবাজারে ২৮, কুমিল্লায় ২২৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭, চাঁদপুরে ৩২, নোয়াখালীতে ৩১, ফেনীতে ১৬, লক্ষ্মীপুরে ৫২, রাঙ্গামাটিতে ১৬, খাগড়াছড়িতে আট জন এবং বান্দরবানে ২১ জন।

অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ৩৪ সদস্যের মধ্যে চট্টগ্রামে সাত জন, কক্সবাজারে দু’জন, কুমিল্লায় নয় জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জন, চাঁদপুরে সাত জন এবং নোয়াখালীতে আট জন রয়েছেন।

জনস্বার্থে অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সাচিং প্রুর মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সাচিং প্রুর মন্তব্য

বান্দরবান, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনাবাদি এবং টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি ও কাজুবাদাম চাষের মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।

আজ জেলার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় চিম্বুক রেঞ্জের বাবুপাড়ায় স্থানীয় এক কৃষক উদ্যোক্তার কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী সাচিং প্রু জানান, ইতোমধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

তিনি কৃষকদের প্রযুক্তিগত এবং নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের কফি ও কাজুবাদাম, রাম্বুটান গবেষণা, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সমন্বিত প্রযুক্তি ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদি ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি, কাজুবাদাম এবং রাম্বুটান বাগান গড়ে তুলতে আমরা চাষিদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।

পাহাড়ে কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পানির সংকট সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে সাচিং প্রু জানান, ম্রো পাড়াগুলোতে পানির সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকেও পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও জানান, কেবল দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণ নয়, পাহাড়ের ফলজ বাগান ও কৃষিতে পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করতে ঝিরিগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সারা বছর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার কাজ চলছে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে, মন্ত্রী রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, গণহত্যাকারী এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলাদেশে আসবেন বলছেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখনই আসুন। প্রয়োজনে আমরাই টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন।’

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে বিভাজনের সৃষ্টি হলেই জিয়া পরিবারের আবির্ভাব ঘটে। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে দেশটাকেও বিভাজনে পরিণত করেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনীতি দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আর এখন আবার ওই জিয়া পরিবারের কারণেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির জন্য আজ আমরা গর্বিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সব সময় অরাজকতা করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে গণহত্যা চালিয়ে লাখ-কোটি টাকা লুটপাট করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার বিচার এই মাটিতেই হবে। আপনারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দেন, বাস্তবে কিছুই হবে না। পালিয়েছেন, এবার হাইটা হাইটা হ্যান্ডকাফ পইরা আসতে হবে এবং বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর আপনারা যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, মানুষ তা ভুলে যায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে এবং এই স্বাধীনতা লুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা দেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’

জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আজ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি উন্নয়ন শুরু করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের আশপাশে যারাই এই উন্নয়নে বাধা দেবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। লুটপাটের রাজনীতি যারা করেছে, তাদের আর আসতে দেওয়া হবে না।’

নান্দাইলের নিজস্ব আসনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নান্দাইলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে এখানে ১৮৬টি রাস্তার ইটের সলিং করা হয়েছে এবং আরো ১০৪টি রাস্তা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া আরো সাড়ে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে রাস্তা পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৩৬টি ঘর করে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরো ১০৪টি ঘর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পারুখি ব্রিজসহ আরো অনেক ব্রিজের অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার বাবা যেভাবে সংসদ সদস্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছিলেন, আমিও আপনাদের কর্মী হয়ে সেভাবেই কাজ করতে চাই।’

নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, এডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সমাবেশে রাশেদ খাঁন

‘৭১ ও ‘২৪-এর রাজাকার একাকার: রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


‘৭১ ও ‘২৪-এর রাজাকার একাকার: রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, ৭১-এর রাজাকার এবং ২৪-এর রাজাকার একত্রিত হয়ে একাকার হয়ে গেছে।

তিনি শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, "এই বাংলাদেশে যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম না হতো, তাহলে এই স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না। আজকে যে সময় জনগণের ভোটে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন আমরা লক্ষ্য করছি সেই ৭১-এর রাজাকার এবং ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তারা সরকারকে পতনের চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও বলেন, "ঘোষণা দিতে চাই, ওই ৭১-এর রাজাকার, ২৪-এর রাজাকার যদি বিএনপি সরকারকে পতন করতে চায়, ওদেরকে পতন করা হবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেখতে পাচ্ছি পদে পদে তারা এই রাষ্ট্রকে নিয়ে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করে তারা পার পায়নি, এখনো চক্রান্ত করে সেই ৭১-এর রাজাকার জামায়াতে ইসলামী এবং ২৪-এর রাজাকার আওয়ামী লীগ সফল হতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।"

রাশেদ খাঁন বলেন, "আওয়ামী লীগের সময় শুধুমাত্র ৭ই মার্চ পালন করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই মার্চ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ৭ই নভেম্বর কোনোভাবেই তার থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এই দিনটিকে আওয়ামী লীগ পালন করতে দেয়নি। আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে প্রথমবারের মতো আজকে এই দিবসটি পালন করছি। এই দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "৭ই নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরে ভারত চেষ্টা করছিল এই বাংলাদেশে আরেকটি সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে। ৩ নভেম্বর সেই প্রচেষ্টা অবশ্যই সফল হয়েছিল, কিন্তু ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জনগণ ও সিপাহিরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তিনি ক্ষমতা দখল করেন নাই, যেহেতু তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিপ্লব-প্রতিবিপ্লব আমরা দেখেছি ৭১-এর পর থেকে। ওই সময় জিয়াউর রহমান ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না, যাকে বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করতে পারছিল। যে কারণে তাকে বাংলাদেশের জনগণ সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। যারা বলে থাকে যে বিএনপি জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসেছিল, ওরা ইতিহাসকে বিকৃত করছে। ওরা ইতিহাস জানে না।"

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে র্যালিতে অংশ নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%