ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পারমাণবিক আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ কড়া শর্ত


পারমাণবিক আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ কড়া শর্ত

পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে সাতটি কঠোর শর্ত তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে কাতারের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেয়া সাতটি শর্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালী খুলব না এবং কোনো আলোচনায়ও বসব না।’ অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, তেহরানের এই প্রস্তাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ‘খালিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইরানের প্রধান দাবিগুলো হলো-

আরও পড়ুন: গাজায় ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শীতে কাঁপছে শিশুরা

১. সামরিক সংঘাত বন্ধ: লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা সমস্ত নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।

৩. নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. জব্দ সম্পদ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত ফ্রিজ বা জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার তোপ

৫. মার্কিন সেনা হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সেনা সংখ্যা কমাতে হবে।

৬. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সংঘাতের কারণে সৃষ্ট যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

৭. হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা: ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সামরিক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

কূটনৈতিক স্তরে মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালালেও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে হলে সেখানে অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রথম বিদেশি নভোচারী হিসেবে চীনের মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন পাকিস্তানের নাগরিক

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে তেহরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হলে তারা আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। হাউছিরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মার্কিন-ইসরাইলপন্থী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইরানের এই নতুন সাত শর্তের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থায়িত্ব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জরুরি কিছু তথ্য জেনে নিন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল আবার শুরু হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের জন্য দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। এবার দ্বীপে গিয়ে রাত কাটানোর সুযোগও রয়েছে।

তবে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য যাওয়ার আগে জাহাজের টিকিট, যাতায়াত খরচ, আবাসন ও প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আগেভাগেই সংগ্রহ করুন জাহাজের টিকিট

যদি সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তাহলে দেরি না করে জাহাজের টিকিট বুকিং করে নেওয়া উচিত। শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট এড়াতে ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের পরই টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা উচিত।

জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, গ্রাহকসেবা নম্বর অথবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা সম্ভব। বুকিংয়ের আগে যাত্রার সময় ও টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

কোন কোন জাহাজে যেতে পারবেন

চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে প্রায় ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে-ক্রুজার ১, এমভি বারো আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে কোন জাহাজের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

যাতায়াত খরচ কত হতে পারে

জাহাজের টিকিটের মূল্য আসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে। সাধারণ আসন থেকে শুরু করে বিজনেস চেয়ার, মোজার্ট চেয়ার, বেড ও কেবিন—বিভিন্ন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যায়।

যাওয়া-আসার জন্য এসব আসনের টিকিটের দাম প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে আসনের সুবিধা, ভাড়া এবং আসন খালি আছে কি না, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ট্রাভেল পাস নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যেতে পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক। তবে এ জন্য আলাদাভাবে নিবন্ধনের ঝামেলা পোহাতে হবে না।

জাহাজের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন ও ট্রাভেল পাসসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানই সম্পন্ন করবে।

আগে থেকেই বুকিং দিন হোটেল বা রিসোর্ট।

দ্বীপে রাত কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে আগেভাগেই আবাসন নিশ্চিত করা উচিত। সেন্টমার্টিনে ২৩০টিরও বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। তবে সেখানে পৌঁছে থাকার জায়গা খোঁজার পরিবর্তে যাওয়ার আগেই পছন্দের হোটেল বুকিং দিলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে। আবাসনের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী হোটেল-রিসোর্টের ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে।

হোটেল বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে চলমান অফার ও বিশেষ ছাড় সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দ্বীপে প্রবেশের সময় প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।

ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। সৈকতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, রাতে দীর্ঘসময় উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখা কিংবা সৈকতে বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

এছাড়া সৈকতের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহার না করে বাইসাইকেল বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক পর্যটকের। তাই ভ্রমণের আনন্দ যেন প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ এম


শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে নাতনির টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙলেন এনসিপি নেতারা

ভাষা সৈনিক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাসভবন কুমিল্লায় স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

এটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি এবং দুই বারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, যিনি ওই বাড়ির ওয়ারিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে বাড়িটি সংস্কার, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি, আরমা দত্ত ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’

এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তারা জানান, বাড়িটি বিক্রির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পুরোনো স্থাপনা সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাই তারা সাইনবোর্ড ভেঙে দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়ে প্রথমে বাড়ির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং পরে সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।

রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি একটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। সুতরাং, বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না হয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, তারা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।

এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, "আমরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আশা করি সরকার এবং ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্ত আমাদের পাশে পাবেন। যদি এই জায়গা বিক্রি বা বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।"

আরমা দত্ত বলেন, "এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লাবাসীও এ বিষয়টি জানে। তাই এ বাড়িটির জায়গা আমি কী করব, রাখব না বিক্রি করব, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।"

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, এ বিষয়ে এখনো কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে নেই কোল পালমার ও ফিল ফোডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে নেই কোল পালমার ও ফিল ফোডেন

আসন্ন নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে স্থান পেয়েছেন দুই তরুণ ফুটবলার জুব বেলিংহ্যাম ও জশ কিং। তবে চেলসির কোল পালমার এবং ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেনের মতো তারকা ফুটবলাররা দলে জায়গা পাননি।

ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল ঘোষিত দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন জুব বেলিংহ্যাম। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের তারকা জুড বেলিংহ্যামের ছোট ভাই। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভালো পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে কোচের নজর আকর্ষণ করেছেন এই মিডফিল্ডার।

এছাড়া, ১৯ বছর বয়সি জশ কিংও প্রথমবারের মতো সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। ফুলহ্যামের হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত দুটি গোল করে ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। যদিও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি স্কোয়াডে থাকলেও মূল দলে তার স্থান হয়নি। তবে অনূর্ধ্ব-২১ দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য এবার তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।

এদিকে, টুখেলের ঘোষিত দলে বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম চেলসির ফরোয়ার্ড কোল পালমার। চলতি মৌসুমে তিনি ক্লাবের হয়ে ১১ ম্যাচে পাঁচ গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন। পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে দলে রাখা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দল থেকে পালমারের নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি কোচ টুখেল ভালোভাবে নেননি।

দলে নেই ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনও। চলতি মৌসুমে ছয় ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ছয়টি অবদান রাখলেও জাতীয় দলের স্কোয়াডে তার স্থান হয়নি। বিশ্বকাপের দল এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতিতেও তিনি উপেক্ষিত ছিলেন।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার মাইনো চোটের কারণে দল থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও সেবার মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। একইভাবে ইনজুরির কারণে এবারের দলে নেই ডিফেন্ডার ট্রেভোহ চালোবাহ ও টিনো লিভ্রামেন্তো।

তবে চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন জেড স্পেন্স। বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ইন্টার মিলানের এই ফুলব্যাক। পাশাপাশি আর্সেনালের ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটও কোচের ডাক পেয়েছেন। এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের রাইটব্যাক ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন।

ইংল্যান্ড স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: জর্ডান পিকফোর্ড, জেমস ট্রাফোর্ড, জেসন স্টিল

ডিফেন্ডার: এজরি কনসা, মার্ক গুয়েহি, জ্যারড ব্র্যানথওয়েট, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, লুইস হল, জ্যারেল কোয়ানসা, জেড স্পেন্স, বেন হোয়াইট

মিডফিল্ডার: জুড বেলিংহ্যাম, জুব বেলিংহ্যাম, জশ কিং, জেমস গার্নার, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, এবেরেচি এজে, মাইলস লুইস-স্কেলি, ডেকলান রাইস

ফরোয়ার্ড: হ্যারি কেইন, মরগান গিবস-হোয়াইট, ডমিনিক ক্যালভার্ট-লেউইন, অ্যান্থনি গর্ডন, রিও এনগুমোহা, মরগান রজার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি বিজেপি এমপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি বিজেপি এমপির

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির লোকসভা সদস্য নিশিকান্ত দুবে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরকে নিজেদের দখলে নেওয়ার খোলাখুলি উসকানি দিয়েছেন। তিনি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের এই অঞ্চলগুলোকে ভারতের অংশে পরিণত বা ‘পুনরুদ্ধার’ করার দাবি তুলে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা আসন থেকে নির্বাচিত এই এমপি বিতর্কিত উসকানি দেন। উল্লেখ্য, গোড্ডাতে আদানির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।

দেশভাগের সময়কার ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা করে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর তীব্র সমালোচনা করেন নিশিকান্ত। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কিন্তু নেহরুর ভুল নীতির কারণে তা জোর করে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত অভিযোগ করেন, নেহরু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের হাতে না থাকায় উত্তর-পূর্ব ভারতের অনগ্রসরতার জন্য এটি দায়ী। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ উত্তর-পূর্বাঞ্চল যে পিছিয়ে রয়েছে এবং সেখানকার খনিজ সম্পদ সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তার একমাত্র কারণ চট্টগ্রাম বন্দর হাতে না থাকা। তাই সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের।’

এছাড়া সিলেটে গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে ‘মুসলিম লীগ রেড আর্মি’র সদস্য দাবি করে নিশিকান্ত বলেন, পরবর্তীতে কংগ্রেস তাকে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল।

বিজেপি এমপির এই ভূখণ্ড দখলের দাবির সমর্থন জানিয়েছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর ও ‘তিপ্রা মথা’ দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার একটি বিশাল অংশ হস্তান্তর করা ঐতিহাসিক ভুল ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর থাকলে আজ ‘চিকেনস নেক’ (শিলিগুড়ি করিডোর) নিয়ে ভারতকে দুশ্চিন্তা করতে হতো না।

নানা উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নিশিকান্ত দুবে আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ এবং বিহারের কাটিহার ও কিষানগঞ্জ নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবি তুলেছিলেন। এ ছাড়া তৃণমূলের সাবেক এমপি মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগকারীও ছিলেন এই বিজেপি নেতা। বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%