ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা


মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা

চট্টগ্রাম, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্তব্য করেছেন যে, ৭ নভেম্বরের চেতনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। ঐ বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেইট বিপ্লব উদ্যানে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৫ সালের সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। শহীদ জিয়ার গণতান্ত্রিক দর্শন এবং রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সকালে নগরীর নসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

পরে সকাল ১১টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবে আত্মত্যাগকারী বীরদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরপর রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে একটি গভীর রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটে। সেদিন বিপ্লবী সিপাহি-জনতা ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিনসহ নগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভলকানাইজিং দোকানের হাওয়া মেশিনের মাধ্যমে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর পায়ুপথে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকান মালিক মো. আফজাল হোসেন (৫০) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঘোড়াঘাট থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে প্রেরণ করেছে।

শিশুটির পায়ুপথ ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছে, যা তার বাবার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর ঘোড়াঘাট উপজেলার ২নং পালশা ইউনিয়নের ডুগডুগীহাট বাজারে অভিযুক্ত আফজাল হোসেনের ভলকানাইজিং দোকানে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন শিশুটির পায়ুপথে হাওয়া মেশিনের মাধ্যমে বাতাস প্রবেশ করানো হয়, যার ফলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শিশুটির বাবা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ছেলের মুসলমানি উপলক্ষে তিনি ২৫ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি চৌরিয়া গ্রামে যান। ২৬ অক্টোবর ছেলের মুসলমানি সম্পন্ন হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর তিনি ঢাকায় ফিরে যান। এর মধ্যে ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় শ্বশুরের মাধ্যমে ছেলের অসুস্থতার খবর পান। পরে শিশুটিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির বাবার দাবি, হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে বাতাস থাকার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পরে শিশুটির কাছে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আফজাল হোসেনের দোকানে হাওয়া মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথে বাতাস প্রবেশ করানোর বিষয়টি জানা যায়। শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এমন কাজ করার অভিযোগও তিনি করেছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঘোড়াঘাট থানায় মো. আফজাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানান, এ বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিকে শনিবার বিকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, যিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ ত্যাগ করেছিলেন, তাকে দেশে ফিরে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য প্রদান করেন, যা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা মানুষ হত্যা করে পালিয়েছেন, এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সেই হুংকার বুঝে গেছে। কাজেই আপনাদের এখন দেশে আসতেই হবে। গোপনে নয়, এখনই চলে আসেন, প্রয়োজনে আমরা টিকিট দিয়ে দেব।’

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে যারা দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।

পলাতকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও জনগণের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে হবে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।

নান্দাইলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে ১৮৬টি রাস্তা ইটের সোলিং করা হয়েছে এবং আরও ১০৪টি রাস্তা ইটের সোলিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে এগারো কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের অনুদান আনা হয়েছে, যা ময়মনসিংহের অন্য কোনো উপজেলায় আসেনি। গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ৩৬টি ঘর প্রদান করা হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ১০৪টি ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরপুর ও চরবেতাগৈর সেতু নির্মাণসহ ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে জনগণের মতামত ও জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বিএনপি। আপনারা উন্নয়নের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

সমাবেশে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও আপনাদের সেবা করে যেতে চাই। উন্নয়নের মাঠে, রাজপথে এবং সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।

নান্দাইলের স্থানীয় চন্ডিপাশা স্কুল মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশ বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ অংশ নেয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উৎসবের খাবার খেয়ে পেট খারাপ? যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


উৎসবের খাবার খেয়ে পেট খারাপ? যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

উৎসবের আয়োজনের সময় বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। আগের রাতেই রান্না করা ডাল ও ভাত, বড় পাত্রে রাখা পনিরের ঝোল দীর্ঘ সময় ঠান্ডা হয়ে যায় এবং দুধের মিষ্টি খোলা বাক্সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়। অতিথিদের আগমন ও বুফেতে সাজানো খাবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে পড়ে থাকার কারণে খাবারে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনেকেই উৎসবের খাবার খেয়ে পেট খারাপ হওয়াকে আনন্দ-উৎসবের স্বাভাবিক ফল বলে মনে করেন। সাধারণত এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সমস্যা সেরে যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে একই দিন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

খাবার খাওয়ার পর কত সময়ের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তা থেকে সমস্যার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। খাবার খাওয়ার এক থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণত খাবারে আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকা বিষাক্ত পদার্থ এর কারণ হতে পারে। হাত দিয়ে খাবার পরিবেশন করে ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ব্যাকটেরিয়া বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় গরম অবস্থায় রাখা ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তার করতে পারে। এই অবস্থায় হঠাৎ বমি ও পেটে মোচড় শুরু হয়, তবে সাধারণত এক দিনের মধ্যেই উপসর্গ কমে আসে।

অন্যদিকে, খাবার খাওয়ার আট থেকে ৭২ ঘণ্টা পর অসুস্থতা শুরু হলে এর পেছনে সালমোনেলা, শিগেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর বা ক্ষতিকর ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া দায়ী হতে পারে। এসব জীবাণু অন্ত্রে বংশবিস্তার করে এবং ফলে জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এবং পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না

পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা কালো, আলকাতরার মতো পায়খানা হওয়া গুরুতর লক্ষণ। এর অর্থ হতে পারে, সংক্রমণকারী জীবাণু অন্ত্রের ভেতরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ডায়রিয়ার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি (১০১.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হলেও সতর্ক হতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে একই দিন চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মল পরীক্ষা করানো জরুরি।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আগে লোপেরামাইড বা এ ধরনের ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ না খাওয়াই ভালো। কারণ, এসব ওষুধ অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল কমিয়ে দেয়। এতে সংক্রমণকারী জীবাণু অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থেকে যেতে পারে।

পানিশূন্যতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট জটিলতার বড় একটি অংশের জন্য দায়ী পানিশূন্যতা। প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, দিনে তিনবারের কম প্রস্রাব হওয়া, জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া এবং চোখ বসে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ছয় ঘণ্টা ধরে ওরস্যালাইন খাওয়ার পরও প্রতিবার বমি হয়ে গেলে শরীরে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে তৃষ্ণার অনুভূতি কম হতে পারে। তাই তাদের অসুস্থতার সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর এক গ্লাস করে ওরস্যালাইন অল্প অল্প করে পান করলে শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। শুধু পানি, চা কিংবা কোমল পানীয় শরীরের পানির ঘাটতি কিছুটা পূরণ করলেও ওরস্যালাইনের মতো সোডিয়াম ও গ্লুকোজের সমন্বয় থাকে না। অথচ এই দুই উপাদান অন্ত্রে পানি শোষণে সাহায্য করে।

স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

স্নায়বিক জটিলতা তুলনামূলক বিরল হলেও সবচেয়ে বিপজ্জনক। বাড়িতে কৌটাজাত বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা খাবার, কিছু বিষাক্ত মাশরুম কিংবা সামুদ্রিক খাবারের বিষক্রিয়া থেকে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

চোখে ঝাপসা বা দুটি করে দেখা, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা এবং হাত-পায়ে ধীরে ধীরে দুর্বলতা ছড়িয়ে পড়া—এসব লক্ষণ বটুলিনাম টক্সিনের বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। খাবার খাওয়ার পর মুখের চারপাশে ঝিনঝিন অনুভূতি হলেও সতর্ক হতে হবে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

পেটব্যথার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ

খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সাধারণত পেটে ঢেউয়ের মতো মোচড় বা ব্যথা হয়, যা কিছুক্ষণ পর কমে আসে। কিন্তু ব্যথা যদি একটানা থাকে, পেটের নির্দিষ্ট কোনো জায়গায়—বিশেষ করে ডান দিকের নিচের অংশে—অনুভূত হয় কিংবা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা অন্ত্রে ছিদ্র হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। পেট শক্ত হয়ে যাওয়া এবং স্পর্শ করলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলেও দ্রুত সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।

২৪ ঘণ্টার বেশি বমি, তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া কিংবা দ্বিতীয় দিনেও জ্বর বাড়তে থাকলে সংক্রমণের কারণ শনাক্ত করতে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকও লাগতে পারে।

রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়ার কয়েক দিন পর প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কমে যাওয়া, শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া কিংবা মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোমের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট কিছু ধরনের সংক্রমণের পর কিডনির এই জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা

ডায়রিয়া ও বমির কারণে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এমনকি ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস বা হাইপারঅসমোলার অবস্থার মতো গুরুতর জটিলতাও তৈরি হতে পারে। আবার অসুস্থতার কারণে খাবার কম খেয়েও ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ওষুধ চালিয়ে গেলে রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া কিছু প্রচলিত ওষুধ পানিশূন্যতার সময় ঝুঁকি বাড়ায়। মেটফরমিন গ্রহণে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমপাগ্লিফ্লোজিন ও ডাপাগ্লিফ্লোজিনের মতো এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও কিটোঅ্যাসিডোসিস ঘটাতে পারে।

অন্যদিকে, এসিই ইনহিবিটর, এআরবি, মূত্রবর্ধক ওষুধ এবং ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক পানিশূন্যতার সময় কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা অনেক সময় সাময়িকভাবে কিছু ওষুধ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। তবে নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। অসুস্থতার প্রথম দিনেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

এ সময় প্রতি চার ঘণ্টা পরপর রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা, শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে কিটোন পরীক্ষা করা এবং মুখে ফলের মতো গন্ধ, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা বমিভাব অব্যাহত থাকলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত বেসাল ইনসুলিন চালিয়ে যেতে হয়, তবে এর মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, কিডনি বা লিভারের রোগী এবং স্টেরয়েড কিংবা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায় এমন ওষুধ গ্রহণকারীদের সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় অপাস্তুরিত দুধ ও নরম পনিরে থাকা লিস্টেরিয়া ব্যাকটেরিয়া গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও পৌঁছাতে পারে। তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জ্বর দেখা দিলেও একই দিন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সংহতি দিবসে বিঘ্ন ঘটিয়ে ওসির বদলি ঠেকাতে ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেত্রীদের মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


জাতীয় সংহতি দিবসে বিঘ্ন ঘটিয়ে ওসির বদলি ঠেকাতে ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেত্রীদের মানববন্ধন

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবসের কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু নাছের রায়হানের বদলি ঠেকাতে এক বিতর্কিত মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওসি নিজের বদলির আদেশ বাতিল করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এবং তার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া নেহার খানম নামের এক নারীর নেতৃত্বে এই মানববন্ধনের আয়োজন করান। আজ বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) কাঠালিয়া থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওসি আবু নাছের রায়হানের বদলির আদেশ হলে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এখানে থেকে যাওয়ার অপচেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করে থানার সামনেই এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ওসির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, এই মানববন্ধনের মূল সমন্বয়ক নেহার খানম

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%