প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টালিউডের সেরা নায়িকাদের মধ্যে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নাম প্রথম সারিতে থাকবে। বাংলা সিনেমায় কাজ করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করা গুণী এই অভিনেত্রী। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) তার জন্মদিন।
১৯৭০ সালের এই দিনে কলকাতায় তার জন্ম হয়। কলকাতার কার্মেল কনভেন্ট স্কুলে শিক্ষাজীবন শেষ করে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
১৯৮৯ সালে দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্বেত কপোত’-এর মাধ্যমে ছোটপর্দায় তার অভিনয় শুরু হয়। সেখান থেকেই তিনি বড়পর্দায় নিজের স্থান তৈরি করতে থাকেন। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। টালিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্ধশতাধিক সিনেমায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তিনি টালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেডি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন।
সময় পরিবর্তনের সাথে বাংলা সিনেমার ভাষা এবং দর্শকের রুচি বদলেছে, নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এসেছেন। কিন্তু নিজের অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং পর্দায় চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
কলকাতার শিল্পী হলেও ঋতুপর্ণা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার কাজের ক্ষেত্র বলিউড থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।
ঋতুপর্ণার অভিনয় জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘দহন’। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় তিনি এক ধর্ষিতা গৃহবধূর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সিনেমার জন্য ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ঋতুপর্ণা।
বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক ঘরানার সিনেমায় সমানভাবে উজ্জ্বল ও দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,
"আমি থামতে জানি না, থামতে চাই না, আমাকে থামানো যাবে না।"
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল ও আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে তিনি আজও একই উদ্যমে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে চলছেন। অভিনয়ের মতো তার ব্যক্তিগত জীবনও তিনি নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সঞ্জয় চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই অভিনেত্রী। দুই সন্তান অঙ্কন ও রিশোনা নিয়াকে নিয়ে তার সুখের সংসার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন