০৯:০৯ পি.এম
আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা এবং ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সকালে এবং রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া এবং দিনের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
এই সময় ধুলাবালি এবং শুষ্ক বাতাস শ্বাসতন্ত্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শীতের শুরুতে সুস্থ থাকার জন্য পোশাকের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখা, প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং পানিশূন্যতা এড়াতে সুষম খাবার অপরিহার্য।
এজন্য বিশেষ বা দামি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিচিত খাবারের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকলে শরীর সুস্থ রাখতে তা সহায়ক হবে। শীতের আগমনে প্রতিদিনের খাবারে যে ছয় ধরনের উপাদান রাখা উচিত, তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
আরও পড়ুন: উৎসবের খাবার খেয়ে পেট খারাপ? যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে ভিটামিন সি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং সবজি রাখতে হবে। পেয়ারা, আমলকী, কমলালেবু, লেবু এবং টমেটো এই ক্ষেত্রে ভালো উৎস। মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, কারণ এতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে। তবে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়া অধিক কার্যকর, কারণ এতে আঁশও পাওয়া যায়।
প্রোটিনযুক্ত খাবার খান
শরীরের কোষ গঠন এবং মেরামত, পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। এ সময় প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল এবং দুধ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খাবার খান না, তাদের জন্য প্রতিটি প্রধান খাবারে প্রোটিনের কোনো না কোনো উৎস রাখা জরুরি। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে ১৩ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি
আদা, হলুদ ও রসুনের ব্যবহার বাড়ান
শীতের সময় রান্নায় আদা, হলুদ এবং রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। আদা এবং হলুদে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে, রসুনেও রয়েছে বিভিন্ন উপকারী যৌগ। গলা খুসখুস করলে আদা দিয়ে হালকা গরম চা পান করা যেতে পারে। আবার রাতে এক কাপ গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়েও খাওয়া যায়।
শরীরের শক্তি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদাম, আখরোট, চিনাবাদাম এবং বিভিন্ন বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এগুলো পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিনের নাশতায় রাখা যেতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খাবার নির্বাচন করুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের তালিকায় টক দইয়ের মতো গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার রাখা উচিত। পাশাপাশি ডাল, শাকসবজি, ফল এবং গোটা শস্যে থাকা আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে
পর্যাপ্ত পানি এবং উষ্ণ তরল খাবার গ্রহণ করা আবশ্যক। শীতকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হলেও শরীরের পানির প্রয়োজন কমে না। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সবজির স্যুপ, মুরগির ঝোল, ডাল এবং হালকা গরম পানীয় খাওয়া যেতে পারে। গলা শুকিয়ে গেলে বা অস্বস্তি হলে কুসুম গরম পানি পান করলে আরাম পাওয়া যায়। চাইলে হালকা গরম পানিতে মধু এবং লেবু মিশিয়েও পান করা যেতে পারে।
শীতে সুস্থ থাকতে আরও কিছু অভ্যাস
খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ধুলাবালি এবং ধোঁয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ পরিষ্কার করতে হবে এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা কাশি যদি দীর্ঘদিন থাকে অথবা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন