ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান


প্রয়োজনে টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, গণহত্যাকারী এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলাদেশে আসবেন বলছেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখনই আসুন। প্রয়োজনে আমরাই টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন।’

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে বিভাজনের সৃষ্টি হলেই জিয়া পরিবারের আবির্ভাব ঘটে। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে দেশটাকেও বিভাজনে পরিণত করেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনীতি দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আর এখন আবার ওই জিয়া পরিবারের কারণেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পলাতক হাসিনাকে দেশে ফিরতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির জন্য আজ আমরা গর্বিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সব সময় অরাজকতা করে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে গণহত্যা চালিয়ে লাখ-কোটি টাকা লুটপাট করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার বিচার এই মাটিতেই হবে। আপনারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দেন, বাস্তবে কিছুই হবে না। পালিয়েছেন, এবার হাইটা হাইটা হ্যান্ডকাফ পইরা আসতে হবে এবং বিচারের আওতায় আসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর আপনারা যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, মানুষ তা ভুলে যায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে এবং এই স্বাধীনতা লুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা দেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’

জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আজ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি উন্নয়ন শুরু করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের আশপাশে যারাই এই উন্নয়নে বাধা দেবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। লুটপাটের রাজনীতি যারা করেছে, তাদের আর আসতে দেওয়া হবে না।’

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে শিশুর পায়ুপথে মেশিন দিয়ে বাতাস দেওয়ার অভিযোগে দোকানি গ্রেফতার

নান্দাইলের নিজস্ব আসনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নান্দাইলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে এখানে ১৮৬টি রাস্তার ইটের সলিং করা হয়েছে এবং আরো ১০৪টি রাস্তা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া আরো সাড়ে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে রাস্তা পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৩৬টি ঘর করে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরো ১০৪টি ঘর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পারুখি ব্রিজসহ আরো অনেক ব্রিজের অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার বাবা যেভাবে সংসদ সদস্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছিলেন, আমিও আপনাদের কর্মী হয়ে সেভাবেই কাজ করতে চাই।’

নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, এডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: মীর হেলাল: ৭ নভেম্বরের চেতনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল প্রেরণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সমাবেশে রাশেদ খাঁন

‘৭১ ও ‘২৪-এর রাজাকার একাকার: রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


‘৭১ ও ‘২৪-এর রাজাকার একাকার: রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, ৭১-এর রাজাকার এবং ২৪-এর রাজাকার একত্রিত হয়ে একাকার হয়ে গেছে।

তিনি শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, "এই বাংলাদেশে যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্ম না হতো, তাহলে এই স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না। আজকে যে সময় জনগণের ভোটে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তখন আমরা লক্ষ্য করছি সেই ৭১-এর রাজাকার এবং ২৪-এর রাজাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তারা সরকারকে পতনের চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও বলেন, "ঘোষণা দিতে চাই, ওই ৭১-এর রাজাকার, ২৪-এর রাজাকার যদি বিএনপি সরকারকে পতন করতে চায়, ওদেরকে পতন করা হবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, দেখতে পাচ্ছি পদে পদে তারা এই রাষ্ট্রকে নিয়ে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করছে। অতীতে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র করে তারা পার পায়নি, এখনো চক্রান্ত করে সেই ৭১-এর রাজাকার জামায়াতে ইসলামী এবং ২৪-এর রাজাকার আওয়ামী লীগ সফল হতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।"

রাশেদ খাঁন বলেন, "আওয়ামী লীগের সময় শুধুমাত্র ৭ই মার্চ পালন করা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ই মার্চ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ৭ই নভেম্বর কোনোভাবেই তার থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এই দিনটিকে আওয়ামী লীগ পালন করতে দেয়নি। আমাদের সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে প্রথমবারের মতো আজকে এই দিবসটি পালন করছি। এই দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "৭ই নভেম্বর বাংলাদেশে এসেছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরে ভারত চেষ্টা করছিল এই বাংলাদেশে আরেকটি সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে। ৩ নভেম্বর সেই প্রচেষ্টা অবশ্যই সফল হয়েছিল, কিন্তু ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জনগণ ও সিপাহিরা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তিনি ক্ষমতা দখল করেন নাই, যেহেতু তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিপ্লব-প্রতিবিপ্লব আমরা দেখেছি ৭১-এর পর থেকে। ওই সময় জিয়াউর রহমান ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না, যাকে বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করতে পারছিল। যে কারণে তাকে বাংলাদেশের জনগণ সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। যারা বলে থাকে যে বিএনপি জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসেছিল, ওরা ইতিহাসকে বিকৃত করছে। ওরা ইতিহাস জানে না।"

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে বিএনপির উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠ থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে র্যালিতে অংশ নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় ২ ড্রেজার ও ২ বাল্কহেড জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


বরিশালে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় ২ ড্রেজার ও ২ বাল্কহেড জব্দ

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : বরিশালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২টি ড্রেজার এবং ২টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের সদর থানাধীন চরবাড়িয়া সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল কর্তৃক রুটিন টহল চলাকালীন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য ২টি বাল্কহেড ও ২টি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার ও বাল্কহেড মালিকদের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। এরপর মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেড ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোনালদোর অবসরে নিজের দায় দেখছেন না পর্তুগাল কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


রোনালদোর অবসরে নিজের দায় দেখছেন না পর্তুগাল কোচ

পর্তুগাল ফুটবল দলের কোচ জর্জ জেসুস ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবসরের পেছনে নিজের কোনো দায় দেখছেন না। রোনালদো তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে অবসর নেওয়ার পর নেশন্স লিগের জন্য গতকাল পর্তুগালের স্কোয়াড ঘোষণা করেন জেসুস।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় দলকে বিদায় জানান পর্তুগিজ সুপারস্টার। জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে রোনালদোর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার প্রায় দেড় মাস পর তার এই সিদ্ধান্ত আসে। গত মাসের শেষের দিকে রোনালদোকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২ নভেম্বর শেষ হয়েছে।

দল ঘোষণা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রোনালদোর সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে দায়ী মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস বলেন, “না, হয়তো আমি কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছি, তবে সেটা আমার কারণে নয়। বিষয়টি ওর নিজের মাথায় ছিল, আরও বেশি ডাক পাওয়া, নাকি কম ডাক পাওয়া। এ নিয়ে আমাদের কয়েকবার কথাও হয়েছে। এমনটা ঘটতে পারে কি না, সেটিও আলোচনা করেছি। তবে না, ওর বিদায়ের বিষয়ে কোনো কিছুর জন্যই আমি নিজেকে অপরাধী মনে করি না। ওর সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।”

জেসুস জানিয়েছেন, সর্বশেষ দল ঘোষণার সময় রোনালদোকে দলে রাখার পরিকল্পনা তার ছিল। তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, সে ফিরে আসবে। নিঃসন্দেহে আমি তাকে দলে ডাকতে চেয়েছিলাম। তার মনে হয়েছে, জাতীয় দল ছাড়ার এটাই সঠিক সময়। আর সেই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে...”

রোনালদো পর্তুগালের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। জাতীয় দলের সঙ্গে রোনালদোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১৪৬ গোল। ম্যাচ আর গোল দুটিই রেকর্ডসংখ্যা, তার চেয়ে বেশি ম্যাচ কেউ খেলেননি, গোলও করেননি। পর্তুগালের হয়ে তিনি জিতেছেন একটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও দুটি নেশন্স লিগের ট্রফি। তার আগমনের আগে কখনও কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে না পারা পর্তুগাল রোনালদোকে নিয়ে খেলেছে চারবার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার তোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


গণতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি, মোদি সরকারকে সোনিয়ার তোপ

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের শাসনের গত ১২ বছরে দেশের গণতন্ত্র, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণ এখন এই ক্ষতির বিষয়টি উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৭৯ বছর বয়সি সোনিয়া গান্ধী সম্প্রতি দ্য হিন্দু ইন্টারভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী ১০ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তার স্মৃতিকথা বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ।

সাক্ষাৎকারে ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের একসময়কার একচ্ছত্র আধিপত্য কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান যে তিনি এ নিয়ে খুব বেশি হতাশ নন।

সোনিয়া বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমাদের দেশ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘মানুষ এখন অসন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এবং ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে পারছে। তবে আমি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, দেশের মানুষ আবারও সুশাসন ফিরে আসাকে স্বাগত জানাবে।’

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতের রাজনীতি আবার নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে তারা।

এ ছাড়া জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

সোনিয়ার বক্তব্যের জবাব বিজেপির

সোনিয়া গান্ধীর গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি কংগ্রেস নেত্রীকে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

মেঘওয়াল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন সোনিয়াজি। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, ১৯৭৫ সালের কথা কি তার মনে নেই? তখন গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজারো জ্যেষ্ঠ নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সাংবাদিকদের কণ্ঠও রোধ করা হয়েছিল। সেই সময়ের কথাও তার মনে রাখা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তার নেতৃত্বেই ভারত বিশ্বজুড়ে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলে দাবি করেন এই মন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংও সোনিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের নয়টি রাজ্যে গত ৪০ বছর ধরে কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই। তার দাবি, এই সেই কংগ্রেস, যারা একসময় জরুরি অবস্থা জারি করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করেছিল।

জরুরি অবস্থা নিয়ে যা বললেন সোনিয়া

সাক্ষাৎকারে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার পটভূমি নিয়েও কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সোনিয়ার ভাষায়, সে সময় বিভিন্ন স্থানে সহিংস বিক্ষোভ চলছিল। সরকারি কার্যালয় ও গণপরিবহনে আগুন দেওয়া হচ্ছিল। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ অমান্য করার আহ্বানও জানানো হচ্ছিল।

তবে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই না গেয়ে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ পরিস্থিতির সমাধান হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকালে আমরা বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। ভুলে গেলে চলবে না, ইন্দিরা গান্ধী নিজেই পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের মার্চে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে জরুরি অবস্থার সময় অতিরিক্ত কঠোরতার জন্য তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছিলেন।’

সোনিয়া স্বীকার করেন, রাজনীতিতে কখনো কখনো সমঝোতা করতে হয়। তবে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে তার দল কখনো কোনো সমঝোতা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে জানান তিনি।

নির্বাচনে সমান সুযোগ পাচ্ছে না বিরোধীরা: সোনিয়া

২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর কংগ্রেস এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি ১০ মাসে ১৪ বার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের দাবি, দেশে অনেক নির্বাচনেই কারচুপি হয়েছে। এ কারণে দলটি আবার ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

সোনিয়া গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে সমান সুযোগ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি হতাশ নই। কারণ, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সমান সুযোগ পায়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, মূলধারার গণমাধ্যম, বিপুল অর্থের ব্যবহার এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।’

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সোনিয়া বলেন, ‘এত চাপের মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে একমাত্র কংগ্রেস। আমাদের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও দেশের প্রতিটি গ্রাম ও জেলায় কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা সংবিধানে উল্লেখিত মূল্যবোধ রক্ষায় লড়াই করছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং মানুষ এখন এ বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন।

সোনিয়া জানান, কংগ্রেস একই মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করছে এবং দিন দিন দলটির নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়ছে।

মোদির রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও মন্তব্য

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উত্থান নিয়েও কথা বলেন সোনিয়া গান্ধী।

মোদির চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গল্প তার প্রচার দল কিছুটা বাড়িয়ে প্রচার করেছে কিনা, এমন প্রশ্নে সোনিয়া বলেন, আরএসএসের ভেতরে একজন সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে উঠে এসে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য মোদিকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটা সত্য যে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আদর্শিক পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন। তবে রাজনীতিতে সফল হওয়ার অনেক পথ রয়েছে। কংগ্রেসের মধ্যেও এমন উদাহরণ আছে। যেমন—ড. মনমোহন সিং ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। আরএসএসের কাছ থেকে আমাদের শেখার মতো তেমন কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%