ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: গ্রামীণ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ


উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর: গ্রামীণ উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমের উদাহরণ

হারুন আল নাসিফ

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসম্পৃক্ততার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল ১ নভেম্বর। ১৯৭৬ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান খনন কাজের উদ্বোধন করেন। স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

পাঁচ দশক আগে খাদ্য ঘাটতি, কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ। খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজে স্থানীয় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যও ছিল।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রী টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন

স্বাধীনতার পর দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ছিল এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম উদ্যোগ। উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প ছিল স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এ কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বেতনা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খননে স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। হাজারো মানুষ বিনা পারিশ্রমিকে কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে খননকাজে যোগ দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, কাজের সময় স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণকারীদের দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো।

স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে প্রায় ছয় মাসে খননকাজ সম্পন্ন হয়। এর ফলে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয় এবং প্রায় ২২ হাজার একর জমিতে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়। খালের দুই পাশে সেচের জন্য প্রায় ২০টি পাম্প স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে এলাকায় ইরি-বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে।

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা ‘উলশী মডেল’

আরও পড়ুন: লোনাপানি কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ড. লতিফুল ইসলাম

খাল খননের ওই কর্মসূচির বিশেষত্ব ছিল উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। কোনো ঠিকাদারি শ্রমিক নির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে কাজটি বাস্তবায়িত হয়। এর মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়, যা পরবর্তী সময়ে ‘উলশী মডেল’ নামে পরিচিতি পায়।

উলশী গ্রামের শতবর্ষী বাসিন্দা আবদুল বারিক মন্ডল ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে গ্রামে এসেছিলেন। তিনি নিজেই কোদাল হাতে মাটি কাটেন এবং মাটি ভর্তি ঝুড়ি বহনেও অংশ নেন।

বারিক মন্ডলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, খননকাজের সময় জিয়াউর রহমান তাঁর ভাই করিম বকস মণ্ডলের মাথায় মাটি ভর্তি ঝুড়ি তুলে দিয়েছিলেন। এ সময় করিমের মাথায় থাকা স্থানীয়ভাবে ‘টোকা’ বা ‘মাথাল’ নামে পরিচিত বাঁশ ও তালপাতার তৈরি ঐতিহ্যবাহী টুপিটিও তিনি নিজের মাথায় পরেন। ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা খায়রুজ্জামান মধু বলেন, ‘উলশীর খাল শুধু একটি খাল নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন। এই খাল খনন হয়েছিল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, কৃষিকে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

আরও পড়ুন: রাসায়নিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশক প্রত্যাহারের নির্দেশ

খাল খননের সময় জিয়াউর রহমান স্থানীয় একটি ভবনে রাত যাপন করেন। পরে ভবনটি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে কৃষকদের নিয়ে বৈঠক ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হতো। বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে খাল খননের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষকদের সংগঠিত করার কাজেও স্থানটি ভূমিকা রাখে।

উলশী প্রকল্পের পর দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়, যার মোট দৈর্ঘ্য ছিল ৬৭৫ দশমিক ১৮ মাইল। এ পরিসংখ্যান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরে।

দীর্ঘ অবহেলার পর পুনঃখননের উদ্যোগ

সময়ের সঙ্গে নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটিতে পলি জমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে খালটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিতে থাকে। খালের পাড়ের স্মৃতিচিহ্ন ও ঐতিহাসিক ভবনটির অবস্থাও নাজুক হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খালটি পুনরুদ্ধার ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

আরও পড়ুন: তিস্তার ভাঙনে কৃষকরা ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ঐতিহাসিক খালটির পুনঃখননের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি প্রস্তাবও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

যশোর-৩ (যশোর সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, উলশী খাল পুনঃখনন এবং যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ছিল জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যশোরের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

পাঁচ দশক পর নতুন অধ্যায়

উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্পের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি কোদাল হাতে প্রথম মাটি কেটে এ কাজের সূচনা করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী টোকা মাথায় ও হাতে কোদাল নিয়ে খালের দুই পাড়ে সমবেত হন। উদ্বোধন উপলক্ষে দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: নাটোরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই ৩০ অক্টোবর শুরু

পাঁচ দশক আগে জিয়াউর রহমানের উদ্বোধন করা খালটির পাশে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী স্মারক স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুনঃখনন সম্পন্ন হলে খালটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে খালটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগের স্মৃতি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ দশক আগে উলশী-যদুনাথপুরে যে উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উন্নয়নকাজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছিল, তার ৫০ বছর পূর্তিতে পুনঃখনন কর্মসূচি সেই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

আরও পড়ুন: বাম্পার ফলনেও দাম নেই, পঞ্চগড়ে কৃষক ক্ষেতের লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাজারীবাগে পুলিশের ওপর হামলায় পাঁচজন গ্রেপ্তার, আহত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


হাজারীবাগে পুলিশের ওপর হামলায় পাঁচজন গ্রেপ্তার, আহত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশের টহল দলের ওপর হামলা, সরকারি পিকআপ ভ্যানের ভাঙচুর এবং গাড়িচালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তার অভিযানটি পরিচালনা করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে আজ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ চর ওয়াশপুর এলাকার একটি বাড়ির ছাদে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের অনুসন্ধানকালে, একদল লোক আকস্মিকভাবে টহল দলের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময়, তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে টহল দলের গাড়িচালক, কনস্টেবলের ডান হাতের কবজি ও ডান কাঁধে গুরুতর আঘাত করে এবং সরকারি পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ও বডি ভাঙচুর করে।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. বিল্লাল হোসেন সানি (২০), আফসানা আক্তার রিয়া (২৪), ফাতেমা আক্তার সনিয়া (৩৭), মো. রুবেল মাজি ওরফে রড রুবেল (৩০) এবং মাইদুল ইসলাম তামিম (২০)।

এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে হাজারীবাগ থানা পুলিশের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব, সেরা সাঁতারু রাফি-মাইশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব, সেরা সাঁতারু রাফি-মাইশা

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : আজ মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে ‘৩৫তম জাতীয়, সাঁতার, ডাইভিং ও ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতা-২০২৬’ শেষ হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৩৪টি স্বর্ণ, ২৪টি রৌপ্য এবং ১৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে প্রথম স্থান লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, যারা ১৬টি স্বর্ণ, ২২টি রৌপ্য ও ২৬টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। তৃতীয় স্থানে বিকেএসপি, যারা ২টি রৌপ্য ও ৬টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে। এছাড়া, নিকলী সুইমিং ক্লাব, কিশোরগঞ্জ ২টি ব্রোঞ্জ এবং বাংলাদেশ পুলিশ ১টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে পদক তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, যিনি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।

দলগত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং রানার্স আপ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ট্রফি প্রদান করা হয়। ওয়াটারপোলোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, রানার্স আপ বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

ডাইভিংয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং রানার্স আপ বিকেএসপি।

পুরুষ বিভাগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামিউল ইসলাম রাফি ৪টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৭টি স্বর্ণ পদক অর্জন করে সেরা সাঁতারু নির্বাচিত হন। মহিলা বিভাগে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফাতিহা মাহতাব মাইশা ৩টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৫টি স্বর্ণ ও ১টি রৌপ্য পদক অর্জন করে সেরা সাঁতারু হন। নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করা সাঁতারুকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রতিযোগিতার ৪র্থ ও শেষ দিনে সাঁতারে ৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিনে সাঁতারে ৪টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এই প্রতিযোগিতায় সাঁতারে মোট ২০টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষায় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


শিক্ষায় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উন্নত দেশগুলোর মতো প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আজ শনিবার রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘বিএনএমপিসি ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষায় সরকারের নীতি ও ভিশন তুলে ধরে উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। সরকার ২০২৮ সাল থেকে পরিমার্জিত কারিকুলামের আলোকে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’, ‘খেলাধুলা’ এবং ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ শীর্ষক নতুন চারটি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, শ্রেণি পাঠদানকে আধুনিক করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে পাঠদান পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে শিগগিরই ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান কার্নিভালে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনী পরিদর্শন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নদী বাঁচানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভাবনা দেখে তিনি অভিভূত। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের মতো ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক ও সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হলে এসব তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রজেক্টগুলোর বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রসঙ্গে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তাদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবন থেকে কক্ষচ্যুত হয়ে যাওয়া নয়; বরং ভবিষ্যতে আরও উদ্যম ও প্রস্তুতি নিয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা চালাতে হবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২টি উদ্ভাবনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং পরে আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোর বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের প্রিন্সিপাল লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে বাসের চাপায় অটোরিকশা চালক আতিক নিহত, তিন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে বাসের চাপায় অটোরিকশা চালক আতিক নিহত, তিন আহত

নারায়ণগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ : সদর উপজেলার চারারগোপ এলাকায় আজ একটি বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন আতিক (৩৫) নামের এক অটোরিকশা চালক। বাসটি উৎসব ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ছিল।

দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরে। নিহত চালক আতিক গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মো. মাসুদ রানা (৩৯), শাওন (৪০) এবং মো. মোজাম্মেল (৪০) অন্তর্ভুক্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের একটি বাস যাত্রী নামিয়ে টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি রাস্তার পাশে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমাণ পাঁচটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে রিকশাগুলো সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশা চালক আতিককে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০-শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘাতক বাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাগুলো পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%