০১:৪৩ পি.এম
হিমাগারে হাজার হাজার টন আলু পড়ে রয়েছে। তবে ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে প্রতি কেজি আলু ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করছেন। কিন্তু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে গিয়ে কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি।
উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় ২০ টাকারও বেশি দাঁড়িয়েছে। ফলে কম দামে আলু বিক্রি করেও লোকসান কমানো সম্ভব হচ্ছে না তাদের। এই অবস্থায় কুড়িগ্রামের ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই বাজারে চাপ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খালি বস্তার সংকট, বাড়তি দাম এবং হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি। দাম বাড়বে—এমন আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণ করেছেন। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার পরিবর্তে ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। এখন ঋণ, বস্তা ও হিমাগার ভাড়ার দায় মেটাতে গিয়ে অনেক কৃষককে উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে সাচিং প্রুর মন্তব্য
হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, "ভালো দামের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন যে দাম, তাতে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া, বস্তা ও অন্যান্য খরচ যোগ করে আরও বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, "এ অঞ্চলে আলুর উৎপাদন বেশি। কিন্তু একসঙ্গে এত আলু বাজারে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন হিমাগার থেকে আলু বের করার জন্য কৃষকদের চাপ বাড়ছে, অথচ পাইকারের দেখা মিলছে কম।"
রোকন মিয়া জানান, "১১-১২ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করে কৃষকের কোনো লাভ নেই। অনেকে ঋণ করে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেছেন। দ্রুত দাম না বাড়লে তাঁদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে।"
বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাঁদের হিমাগারে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে ১২,৭৭১ হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, "এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এখানে উৎপাদন বেশি হয়। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। এ কারণে কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি আলু উৎপাদিত হওয়ায় তখন দাম কমে যায়।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারদর বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন