ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নেতানিয়াহুকে হটাতে ২৮ দিন সময় পাচ্ছেন আইজেনকোট, কীভাবে সরকার গঠন হতে পারে


নেতানিয়াহুকে হটাতে ২৮ দিন সময় পাচ্ছেন আইজেনকোট, কীভাবে সরকার গঠন হতে পারে

বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের মাধ্যমে। আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিনের সময় পাবেন এবং প্রয়োজন হলে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো সম্ভব।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজেনকোটকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আইজেনকোটের চার দলের জোট ৪৮ আসন পেয়েছে, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট ৫৩ আসন লাভ করেছে। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে ৬৭ আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা ছিলেন। আরব দলগুলো এই নির্বাচনে রেকর্ড ১৯ আসন পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেফ হারবার সুবিধা বাতিলের কথা ভাবছে

নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজোগ।

বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন, যার মধ্যে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন প্রদান করেছেন। সরকার গঠনের জন্য ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টির সমর্থন প্রয়োজন।

তবে আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। যদি তিনি এসব দলের সমর্থন পান, তবে তার জোটের আসনসংখ্যা ৬৭টি হবে। অন্যদিকে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসের সমর্থন পেলে বিরোধীদের আসনসংখ্যা ৬১টি হবে।

আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত ছিল, কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি প্রদেশ হচ্ছে?

আইজেনকোট যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজনকে মনোনীত করতে পারবেন। তাকে চূড়ান্তভাবে ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। যদি এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমাদ তিবি মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তিবির মতে, আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। যদিও এ ধরনের সরকার আরব দলগুলোর প্রত্যাশিত সরকার হবে না। তবুও নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা করছে নেতানিয়াহুর দল

এদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা সরকার গঠন করলে ইসরাইলের পতন ঘটবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন ঐক্যের সময়। জনগণের ইচ্ছা এটাই, সময়েরও এটাই দাবি। সন্ত্রাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব দল হামাসকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের অস্তিত্ব দুর্বল করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, এই সপ্তাহের শুরুতেই কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে সন্ত্রাসের সমর্থকদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। এমন একটি সরকার ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চাওয়া এবং এর ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষের লোকদের ওপর নির্ভরশীল হবে।

আরও পড়ুন: আইজেনকটের সামনে ৫ পথ, নেতানিয়াহুর ভুলের অপেক্ষা

এ ধরনের সরকার ইরানের হুমকি এবং গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাতসহ ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৩টি ভূপাতিত করেছে সৌদি জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৩টি ভূপাতিত করেছে সৌদি জোট

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এবার রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের পরবর্তী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চলে ছোড়া একটি এবং রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সউদী আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম, আল-আহসা ও বুখাইক এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ইয়েমেনের হুথিরা পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

এর কিছু সময় পরে রিয়াদকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

নভেম্বরের শুরু থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের হিসাব অনুযায়ী, মাসের প্রথম আট দিনে দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া অন্তত ১৫টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল, নাজরান, মক্কা ও মদিনা অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।

হামলার পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যে শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বদিকে আল-শারিয়া গ্রামে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ শিশু, ৮ নারী ও ১২ পুরুষ রয়েছেন। তবে হতাহতের এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেন্দ্র জানিয়েছে, হামলার অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখছে।

এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই হামলার জন্যও সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিরা পরস্পরকে দায়ী করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সৌদি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে গত জুলাইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, জুলাইয়ে লড়াই শুরুর পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ, খাদ্য ও পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নতুন করে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, আলজাজিরা, আরব নিউজ ও এএফপি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানসার অস্ত্রোপচারের পর ‘বেশ ভালো আছি’ বললেন পোপ লিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


ক্যানসার অস্ত্রোপচারের পর ‘বেশ ভালো আছি’ বললেন পোপ লিও

ক্যানসার অস্ত্রোপচারের পর পোপ চতুর্দশ লিও তাঁর শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে তিনি ‘বেশ ভালো আছেন’। লাতিন আমেরিকার তিনটি দেশ সফরের সূচি শুরু করার আগে তিনি এই তথ্য জানান।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উরুগুয়ে যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোপ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার সময় যাঁরা তাঁকে সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে পোপ বলেন, "ভয় পাওয়ার কিছু নেই।" তাঁর মতে, ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

লাতিন আমেরিকার তিন দেশের সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে পোপ উরুগুয়ে সফর শুরু করেছেন। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উরুগুয়েতে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা সবচেয়ে কম এবং দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি ধর্মনিরপেক্ষ। ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের কারণে তিন সপ্তাহ আগে তাঁর এই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লস অ্যাঞ্জেলেসে নানা আয়োজনে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


লস অ্যাঞ্জেলেসে নানা আয়োজনে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত

লস অ্যাঞ্জেলেসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ পালন করা হয়েছে।

এই দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিকেলে কনস্যুলেটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় একটি বিশেষ আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরতে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। বক্তারা বিগত সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির বিচারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

কনসাল জেনারেল কাজী মুহম্মদ জাবেদ ইকবাল তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তার উদ্যোগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।

কনসাল জেনারেল বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার পাশাপাশি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। তিনি 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসীদের আরও উন্নত ও সহজলভ্য কনস্যুলার সেবা প্রদানের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

আলোচনা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন রাজ্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজয়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


মার্কিন রাজ্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজয়ী

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক বিজয় অর্জন করেছেন। স্থানীয় সময় ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই ফলাফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন। বিজয়ীদের মধ্যে আছেন আবুল খান, শেখ রহমান, মাসুদুর রহমান এবং হাসিব ফাতেমী।

নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিক জয় লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী এবং অন্য তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন। রিপাবলিকান পার্টি থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের প্রতিনিধি হিসেবে সপ্তম মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের আবুল খান।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী শেখ রহমান পঞ্চম মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের সন্তান। কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হয়েছেন চাঁদপুরের মাসুদুর রহমান। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এবারও বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন।

নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের হাসিব ফাতেমী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%