০১:৪৪ পি.এম
বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে ইসরাইলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের মাধ্যমে। আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিনের সময় পাবেন এবং প্রয়োজন হলে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো সম্ভব।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজেনকোটকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আইজেনকোটের চার দলের জোট ৪৮ আসন পেয়েছে, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট ৫৩ আসন লাভ করেছে। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে ৬৭ আইনপ্রণেতা আইজেনকোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা ছিলেন। আরব দলগুলো এই নির্বাচনে রেকর্ড ১৯ আসন পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেফ হারবার সুবিধা বাতিলের কথা ভাবছে
নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজোগ।
বিরোধী দল ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন, যার মধ্যে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন প্রদান করেছেন। সরকার গঠনের জন্য ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টির সমর্থন প্রয়োজন।
তবে আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। যদি তিনি এসব দলের সমর্থন পান, তবে তার জোটের আসনসংখ্যা ৬৭টি হবে। অন্যদিকে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসের সমর্থন পেলে বিরোধীদের আসনসংখ্যা ৬১টি হবে।
আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত ছিল, কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি প্রদেশ হচ্ছে?
আইজেনকোট যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজনকে মনোনীত করতে পারবেন। তাকে চূড়ান্তভাবে ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। যদি এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ নেতা আহমাদ তিবি মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তিবির মতে, আইজেনকোট আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। যদিও এ ধরনের সরকার আরব দলগুলোর প্রত্যাশিত সরকার হবে না। তবুও নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা করছে নেতানিয়াহুর দল
এদিকে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থনে বিরোধীরা সরকার গঠন করলে ইসরাইলের পতন ঘটবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন ঐক্যের সময়। জনগণের ইচ্ছা এটাই, সময়েরও এটাই দাবি। সন্ত্রাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব দল হামাসকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের অস্তিত্ব দুর্বল করতে চায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, এই সপ্তাহের শুরুতেই কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে সন্ত্রাসের সমর্থকদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। এমন একটি সরকার ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চাওয়া এবং এর ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষের লোকদের ওপর নির্ভরশীল হবে।
আরও পড়ুন: আইজেনকটের সামনে ৫ পথ, নেতানিয়াহুর ভুলের অপেক্ষা
এ ধরনের সরকার ইরানের হুমকি এবং গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাতসহ ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন