প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এবার রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের পরবর্তী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বাঞ্চলে ছোড়া একটি এবং রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সউদী আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম, আল-আহসা ও বুখাইক এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ইয়েমেনের হুথিরা পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
এর কিছু সময় পরে রিয়াদকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
নভেম্বরের শুরু থেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের হিসাব অনুযায়ী, মাসের প্রথম আট দিনে দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া অন্তত ১৫টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল, নাজরান, মক্কা ও মদিনা অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।
হামলার পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যে শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বদিকে আল-শারিয়া গ্রামে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ওই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ শিশু, ৮ নারী ও ১২ পুরুষ রয়েছেন। তবে হতাহতের এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেন্দ্র জানিয়েছে, হামলার অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখছে।
এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই হামলার জন্যও সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিরা পরস্পরকে দায়ী করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সৌদি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে গত জুলাইয়ে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, জুলাইয়ে লড়াই শুরুর পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ, খাদ্য ও পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দেশটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নতুন করে বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, আলজাজিরা, আরব নিউজ ও এএফপি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন