০৮:৩৪ পি.এম
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভ, অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা নতুন করে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ আ‘লীগের ঝটিকা মিছিল: ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলো এসএমপি পুলিশ
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ছিল। তবে কিছু কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের ভিত্তিতে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হয়েছে, কারণ কাজের চাপ বেশি ছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেদিনও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আন্দোলনের সময় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশি বাধার মুখে চৌরাস্তায় দাঁড়িয়েই তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবা, গাজীপুর জেলা সদস্যসচিব আবুল কাশেম মাস্টার, এবি পার্টির জেলা ও মহানগর সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুল ইসলাম ইমন, এনসিপি গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম টিটু, কার্যকরী সদস্য হাবিব চৌধুরী, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির সদস্যসচিব উমর ফারুক, জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য সাহানা আক্তার, গাজীপুর মহানগর শ্রমিক শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম রাহুল, সদর মেট্রো থানার আহ্বায়ক আলী আকবর আকাশ, সদস্যসচিব রেদুয়ানুল হক মণ্ডল এবং গাজীপুর জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মাহিব হাসান রুদ্রসহ শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৪ নভেম্বর চন্দনা চৌরাস্তায় গায়েবানা জানাজার কর্মসূচিতে আহত বলে উল্লেখ করা কোনাবাড়ী মেট্রো থানার সদস্যসচিব জামান ঢালি ও মুখ্য সংগঠক রকিবুল হাসান জয়ও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আরও পড়ুন: হৃীলার গহীন পাহাড়ে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে
দোয়া মাহফিল শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, সরকার শ্রমিকদের মজুরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দিয়ে তাঁদের আশ্বাসের মধ্যে আটকে রেখেছে। ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করা শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তার, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাঁর স্মরণে সংশ্লিষ্ট সড়কের নামকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
তবে কয়েক দিনের অস্থিরতার পর শুক্রবার পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলে নতুন কোনো সহিংসতার খবর না পাওয়া এবং অধিকাংশ কারখানা সাপ্তাহিক ছুটিতে থাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান, শ্রমিকদের কাজে ফেরা এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাভার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেনের মৃত্যু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন