০৮:৪০ পি.এম
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সতর্ক করেছে যে, মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় মোটরযান চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সধারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসে পরিবর্তন এনে সংশোধিত বিধিমালা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিআরটিএর ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সধারীরা শুধুমাত্র বৈধ প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রশিক্ষণের সময় মোটরযান চালাতে পারবেন। এসময় গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজ শেষে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়
মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ চালক রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে সামনে ও পেছনে দৃশ্যমান স্থানে লাল রঙের বড় ‘L’ চিহ্ন লিখে অথবা বোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ‘L’ শব্দটি Learner-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই চিহ্ন দেখে অন্যান্য চালকরা বুঝতে পারবেন যে, গাড়িটি একজন নতুন চালক চালাচ্ছেন। ফলে তারা সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে চলতে পারবেন।
এদিকে, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগত জটিলতা দূর করতে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার।
সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ নম্বর বিধির মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট-সংক্রান্ত বিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকার সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনে লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলের নকশা ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের ক্ষমতা বিআরটিএকে দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গা, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে।
একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নম্বরপ্লেটে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা ও যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ হতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি (১০) থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বর্তমানে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো এক রকম নয়। কিছু মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট স্থাপন করা কঠিন। এ কারণে মোটরসাইকেলের গঠন অনুযায়ী নম্বরপ্লেটের আকার ও বিন্যাস নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সড়কে যানবাহন শনাক্তকরণ, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও সামনের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ায় যানবাহন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: মাদক, বাল্যবিবাহ ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে: রাশেদ খান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন