ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লজ্জার বিদায়


রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের লজ্জার বিদায়

মহানায়কেরা সাধারণত জানেন কখন মঞ্চ ত্যাগ করতে হয়। একটি পুরনো প্রবাদ রয়েছে, “দর্শকদের আরও চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রেখে বিদায় নাও।” কিন্তু ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দর্শক-সমর্থকদের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিলেন।

এই কারণেই পর্তুগালের জার্সিতে তার শেষ কয়েকটি বছর ভালোবাসা ও সম্মানের পরিবর্তে উপহাস এবং সমালোচনার মধ্যে কাটিয়েছে। বিপরীত দৃশ্য দেখা গিয়েছিল লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে, যিনি মাত্র এক মাসেরও কম সময় আগে আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন সম্মান ও শ্রদ্ধার আবরণে।

ক্যারিয়ারের শেষের দিকে অনেকের দৃষ্টিতে রোনালদো রবার্তো মার্তিনেজের দলের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত না হয়ে বোঝা হয়ে উঠেছিলেন। ৪১ বছর বয়সে তিনি এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন, কিন্তু বয়স তার পক্ষে ছিল না। মাঠে তার পরিশ্রমী পারফরম্যান্সও আগের মতো ছিল না। সমালোচকদের ধারণা ছিল, তিনি বিশ্বকাপে পর্তুগালের সম্ভাবনা বাড়ানোর পরিবর্তে কমিয়ে দিচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বিরতির আগে মাইকেল ক্যারিকের ভবিষ্যত অনিশ্চিত

এসব কথার কিছু সত্যতা ছিল। এই কারণেই মার্তিনেজের উত্তরসূরি জর্জ জেসুস পরোক্ষভাবে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখেন। গত মাসের উয়েফা নেশনস লিগে জেসুস যখন তার খেলার সময় সীমিত করতে শুরু করেন, তখন বিরোধ চরমে পৌঁছে যায়। নিজের প্রতি আচরণের প্রতিবাদে রোনালদো ব্যক্তিগত জেটে করে দল ছেড়ে চলে যান।

ফলস্বরূপ, তিনি ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও নামমাত্র অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। অবসর ঘোষণার পরদিনই জেসুস পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য পর্তুগাল দলের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।

একটি গৌরবোজ্জ্বল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য এটি ছিল একটি বিশৃঙ্খল সমাপ্তি। অথচ নিজের সেরা সময়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সত্যিই ছিল অসাধারণ। ২০১৬ ইউরোতে তিনি পর্তুগালকে শিরোপা জিততে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও টাচলাইনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্য আজও ফুটবল ইতিহাসের একটি অংশ।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে রয়েছে। ২২ বছরের ব্যবধানে করা প্রথম ও শেষ গোল মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে তিনি করেছেন ১৪৬ গোল। গত মাসে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির আন্তর্জাতিক অবসরের পর গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টাইন তারকার গোলসংখ্যা রোনালদোর চেয়ে ২০টি কম। বর্তমানে সক্রিয় কোনো ফুটবলারই ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: কোকেন সেবনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় ক্রিস লিন

বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু (৯৪), পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানডোভস্কি (৯২) কিংবা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন (৯১) যতই চেষ্টা করুন না কেন, রোনালদোর ১৪৬ গোলের রেকর্ড হয়তো চিরকাল অটুটই থাকবে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ২৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখনো অক্ষুণ্ণ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মেসি (২০৮ ম্যাচ)। ফলে ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ (২০৬) বা কাতারের হাসান আল-হাইদোস (১৯৩) আরও তিন-চার বছর না খেললে এটিও রোনালদোরই রেকর্ড হয়ে থাকবে।

গোল ও ম্যাচ সংখ্যার এই রেকর্ডগুলো তার অবিশ্বাস্য দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রমাণ। তবে যদি তিনি পাঁচ বছর আগে, আলি দাইয়ের ১০৮ গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতেন, তাহলে হয়তো সময়কে হারাতে না পারার বাস্তবতা মেনে নিতে না চাওয়ার কারণে তার উত্তরাধিকার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।

প্রথম ফাটল দেখা যায় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল করার পর কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাকে একাদশ থেকে বাদ দেন। তার পরিবর্তে খেলতে নেমে গনসালো রামোস সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। তখন মনে হয়েছিল, রোনালদোর পথচলা শেষ হয়ে এসেছে।

কিন্তু নতুন কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে তিনি খেলা চালিয়ে যান। ইউরো ২০২৪-এ অংশ নেন, যদিও একটি গোলও করতে পারেননি। শক্তি ও সামর্থ্য কমে যাওয়ার পরও এবারের বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “আমি ফিরে এসেছি!”

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বিকেএসপির ভর্তির অফার লেটার পেল প্রান্তিকা

কিন্তু ততদিনে তিনি নিজের ছায়ায় পরিণত হয়েছিলেন। শেষ দুটি বিশ্বকাপ ও শেষ ইউরোতে তার পারফরম্যান্স, আর ক্লাব ফুটবলে সৌদি আরবের আল-নাসরে খেলা, নতুন প্রজন্মের কাছে তার কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করে দেয়।

তারা শুনেছে রোনালদোর মহত্ত্বের গল্প, কিন্তু দেখেছে একজন বৃদ্ধ ফুটবলারকে, যিনি সেই গল্পের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছেন না। তবে ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যে রোনালদোকে দেখা গেছে, তিনি ছিলেন অবিশ্বাস্য।

তার ছিল দুর্দান্ত গতি, অবিশ্বাস্য দ্রুত স্টেপ-ওভার, অসাধারণ শক্তি, ক্ষমতা এবং এমন এক লাফ দেওয়ার সামর্থ্য, যা তাকে অসম্ভব উচ্চতা থেকেও হেডে গোল করতে সাহায্য করত। তিনি ছিলেন নির্মম ফিনিশার। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ফ্রি-কিক থেকেও ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতা।

যদি তিনি ফ্রান্স, স্পেন বা জার্মানির মতো ইউরোপের পরাশক্তি কোনো দেশের হয়ে খেলতেন, তাহলে সম্ভবত অন্তত একটি বিশ্বকাপ ও আরও কয়েকটি ইউরো জিততেন। তবে এটাও সত্য যে পর্তুগালকে তিনি নিজেই সেই অভিজাত কাতারে তুলে আনতে সাহায্য করেছেন।

আরও পড়ুন: বেলিংহ্যামের ভাইসহ ইংল্যান্ড দলে নতুন দুই খেলোয়াড়

২০০৩ সালে তার অভিষেকের আগে পর্তুগাল ইতিহাসে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোতে খেলেছিল। কিন্তু রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তারা কখনোই বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়নি। এই সময়ে তারা ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোতে অংশ নিয়েছে। অধিকাংশ টুর্নামেন্টে রোনালদোই দলকে টেনে নিয়ে গেছেন। ইউরো ২০১৬ ছিল তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

আজকের পর্তুগাল অবশ্য ভিন্ন। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা, জোয়াও নেভেস, পেদ্রো নেতো, ভিতিনিয়া ও নুনো মেন্দেসদের মতো তারকায় ভরপুর দলটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দল।

এখন তাদের আর রোনালদোকে দরকার নেই, অন্তত ২০২০-এর দশকের রোনালদোকে নয়। যদি সেরা সময়ের রোনালদো থাকতেন, তাহলে পর্তুগাল বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হতো। কিন্তু সমস্যা হলো, জর্জ জেসুস যেমন বুঝেছেন, বয়স্ক রোনালদো আর সেই মহান রোনালদো নন।

রোনালদোকে ছাড়া নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত জেসুসের সঠিক ছিল। তবে নিজের সময় ফুরিয়ে এসেছে, সেটা বুঝতে রোনালদোর অনেক বেশি সময় লেগেছে।

আরও পড়ুন: ক্লাবে ব্রাত্য হয়েও আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ডাক পেলেন ডিফেন্ডার অ্যারন আনসেলমিনো

তবুও ফুটবল যখন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে স্মরণ করবে, তখন তার শেষ দিকের সংগ্রাম নয়, বরং সেই দুর্দান্ত, অপ্রতিরোধ্য এবং ইতিহাস বদলে দেওয়া রোনালদোকেই মনে রাখা উচিত। আর শেষ পর্যন্ত, মানুষ সেটাই মনে রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ আ‘লীগের ঝটিকা মিছিল: ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলো এসএমপি পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ আ‘লীগের ঝটিকা মিছিল: ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলো এসএমপি পুলিশ

সিলেট নগরীতে আজ (শুক্রবার) সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিলের প্রচেষ্টার সময় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে নগরীর জেলরোড ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, সিলেট জকিগঞ্জের হাতিডহর গ্রামের শামসুল ইসলামের পুত্র মো. শাহেক আহমেদ (৩২); একই গ্রামের মৃত ইব্রাহিম আলীর পুত্র সেলিম আহমেদ (৩৭), মৌলভীরচক গ্রামের আবুল কালামের পুত্র মুন্না আহমেদ (২৯); কানাইঘাট থানার মেছা গ্রামের ফরিদ আলীর পুত্র দেলোয়ার হোসেন (৩৫), বীরদল আগফুদ গ্রামের মেজবাহ উদ্দিনের পুত্র তানিম ইকবাল (১৯), একই গ্রামের নুরুল হকের পুত্র সালেহ আহমেদ (১৮); নগরীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০নং রোডের বর হইকান্দি গ্রামের লিমন আহমেদের পুত্র ফাহিম হাসান রবি (১৮), গোপশহর গ্রামের আব্দুল মালিক খানের পুত্র জাকের খান (২৯); সিলেট কানাইঘাটের মহেশপুর গ্রামের নসির আহমেদের পুত্র কিবরিয়া আহমেদ (৩০), দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি গ্রামের রেহান উল্লাহর পুত্র জুনায়েদ আহমেদ (৩৮), কানাইঘাটের জয়পুর পূর্ণখলা গ্রামের মৃত মকবুল আলীর পুত্র আলী আহমদ (৪৫) এবং কানাইঘাট থানার বীরদল ছোটফৌদ গ্রামের মৃত মমিন উদ্দিনের পুত্র এন এম নাদিম (২০)।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহানগরীর জেলরোড থেকে ধোপাদিঘীর পার পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের জেলা এবং মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করছিল। পরে কোতোয়ালি মডেল থানার ৫টি টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি বড় ব্যানার, ৫টি ফেস্টুন এবং ১৫টি লাল ক্যাপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর আদালতে সোপর্দ করা হবে তাদের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%