প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পারমাণবিক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে সাতটি কঠোর শর্ত তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে কাতারের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেয়া সাতটি শর্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমরা হরমুজ প্রণালী খুলব না এবং কোনো আলোচনায়ও বসব না।’ অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, তেহরানের এই প্রস্তাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ‘খালিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইরানের প্রধান দাবিগুলো হলো-
১. সামরিক সংঘাত বন্ধ: লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা সমস্ত নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।
৩. নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. জব্দ সম্পদ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত ফ্রিজ বা জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
৫. মার্কিন সেনা হ্রাস: মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সেনা সংখ্যা কমাতে হবে।
৬. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সংঘাতের কারণে সৃষ্ট যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৭. হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা: ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সামরিক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
কূটনৈতিক স্তরে মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালালেও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে হলে সেখানে অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে তেহরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হলে তারা আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। হাউছিরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মার্কিন-ইসরাইলপন্থী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ফলে ইরানের এই নতুন সাত শর্তের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি ও স্থায়িত্ব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন