প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভাষা সৈনিক এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বাসভবন কুমিল্লায় স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
এটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। সাইনবোর্ড ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি এবং দুই বারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, যিনি ওই বাড়ির ওয়ারিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতে বাড়িটি সংস্কার, স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সম্প্রতি, আরমা দত্ত ওই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল—‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’
এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, বাড়িটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তারা জানান, বাড়িটি বিক্রির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পুরোনো স্থাপনা সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। তাই তারা সাইনবোর্ড ভেঙে দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর এনসিপি নেতারা সেখানে গিয়ে প্রথমে বাড়ির সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং পরে সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন।
রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি একটি সাধারণ স্থাপনা নয়; এটি ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। সুতরাং, বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না হয়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয় যে, তারা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করবেন এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।
এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, "আমরা একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আশা করি সরকার এবং ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্ত আমাদের পাশে পাবেন। যদি এই জায়গা বিক্রি বা বহুতল ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।"
আরমা দত্ত বলেন, "এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লাবাসীও এ বিষয়টি জানে। তাই এ বাড়িটির জায়গা আমি কী করব, রাখব না বিক্রি করব, এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।"
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, এ বিষয়ে এখনো কেউ অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে।"
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে ও তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন