১০:৫০ পি.এম
রাত ১১টা বা ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার পর, যখন ঘড়ির কাঁটা ৩টার আশপাশে পৌঁছায়, তখন অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ঘুম আবার আসা কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে ভোর হয়ে গেলে সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরে ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা অনুভব করা যায়। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে।
গভীর রাতে বা ভোরের আগে ঘুম ভেঙে যাওয়া সব সময় অস্বাভাবিক নয়। অতিরিক্ত চিন্তা, উদ্বেগ কিংবা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। বিশেষ করে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একবার ঘুম ভেঙে গেলে আবার ঘুমিয়ে পড়া কঠিন হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রথমে মোবাইল ফোনের দিকে হাত বাড়ান। কেউ পছন্দের ভিডিও বা রিল দেখতে শুরু করেন, আবার কেউ ঘুম না আসার কারণে পরদিনের কাজ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এসব অভ্যাস ঘুমে ফেরার পথকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন: জেকে লাইফস্টাইলে তিন নতুন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিয়োগ
মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত মাখিজার মতে, গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। এক-দুই দিন এমন হলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়মিত এমন হলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। অতিরিক্ত মদ্যপান, রাতে দেরি করে খাওয়া, গভীর রাত পর্যন্ত ধূমপান, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
কানাডার ঘুমবিষয়ক চিকিৎসক মাইকেল ব্রিউসের মতে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে তিনটি কাজ এড়িয়ে চলা উচিত।
১. বারবার ঘড়ি বা মোবাইলে সময় দেখা
ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর বারবার মোবাইল জ্বালিয়ে সময় দেখা উচিত নয়। এতে পর্দার আলো চোখে পড়ার পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। কখন ঘুম আসবে, আর সকালে উঠতে কত সময় বাকি—এসব ভাবনা থেকে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে।
আরও পড়ুন: শীতে সুস্থ থাকতে খাবারের মেনুতে রাখুন ৬ উপাদান
২. মোবাইলে রিল, খবর বা ভিডিও দেখা
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইলে রিল, খবর কিংবা ভিডিও দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। মোবাইলের পর্দার আলো, ভিডিওর দৃশ্য ও শব্দ মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে। ফলে ঘুমের ভাব কেটে যায় এবং আবার ঘুমিয়ে পড়তে সমস্যা হয়।
৩. ঘুম না এলেও দীর্ঘক্ষণ বিছানায় পড়ে থাকা
অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও ঘুম না এলে বিছানায় শুয়ে থাকার পরিবর্তে কিছুক্ষণের জন্য উঠে পড়া উচিত। এ সময় হালকা পায়চারি করা কিংবা বই পড়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মোবাইলে পিডিএফ পড়া বা টেলিভিশন দেখা উচিত নয়। ঘরের উজ্জ্বল আলো না জ্বালিয়ে টেবিল ল্যাম্পের মতো মৃদু আলোয় বই পড়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে ১৩ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে অযথা দুশ্চিন্তা না করে শান্ত থাকার চেষ্টা করা উচিত। তবে নিয়মিত ঘুম ভেঙে যাওয়া, আবার ঘুমাতে না পারা কিংবা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন