ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন


ঘুমিয়েও যেভাবে অনেকে সতেজ থাকেন

সাধারণভাবে সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। কিছু মানুষ মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও সারাদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে ক্লান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা যায় না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর পেছনে বিশেষ কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর ইমিউনোলজির অধ্যাপক অ্যামি পিউ বার্নার্ড এমন একজন ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তুলনামূলকভাবে কম ঘুমিয়েও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ধরে রেখেছেন। সাধারণত তিনি রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যান এবং ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে জেগে ওঠেন। কখনো ঘুমাতে দেরি হলে তার ঘুমের সময় পাঁচ ঘণ্টায় নেমে আসে।

তবে, সকালে ঘুম থেকে উঠে কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে যাওয়া, এক ঘণ্টা ব্যায়াম করা এবং সকাল ৮টার আগেই দেড় ঘণ্টার কাজ শেষ করার মতো কর্মব্যস্ত রুটিন বজায় রাখেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার বাবা ও ভাইয়ের মধ্যেও একই ধরনের কম ঘুমানোর প্রবণতা রয়েছে।

আরও পড়ুন: উৎসবের খাবার খেয়ে পেট খারাপ? যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ

বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকদের কাছে রক্তের নমুনা পাঠান বার্নার্ড। পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, তার শরীরে একটি বিরল জিনগত পরিবর্তন রয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমানোর সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কম ঘুমের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য

বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে ‘ফ্যামিলিয়াল ন্যাচারাল শর্ট স্লিপ’ বা এফএনএসএস নামে অভিহিত করেছেন। যাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তারা সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে গেলেও অন্যদের তুলনায় অনেক আগে জেগে ওঠেন। তাদের দৈনিক ঘুমের পরিমাণ সাধারণত চার থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

এ পর্যন্ত গবেষকেরা এফএনএসএসের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন। গবেষক দলের নেতৃত্ব দেওয়া আণবিক জীববিজ্ঞানী ইং-হুই ফু জানান, এসব মানুষের বিশেষত্ব হলো, কম সময় ঘুমিয়েও তারা স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে পারেন। যদিও এর পেছনের পুরো প্রক্রিয়া এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু জিনগত পরিবর্তন ঘুমের সময় কমানোর পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও শরীরকে সুরক্ষা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: শীতে সুস্থ থাকতে খাবারের মেনুতে রাখুন ৬ উপাদান

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এফএনএসএস গবেষণায় আশাব্যঞ্জক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালে ইং-হুই ফুর নেতৃত্বে একটি গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে এফএনএসএসের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন ঘটানো হয়। এতে দেখা যায়, কম ঘুমানোর পরও এসব ইঁদুরের স্মৃতিশক্তি তুলনামূলক ভালো ছিল। অন্য একটি পরীক্ষায় একই ধরনের কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য আলঝেইমারস রোগের মতো অবস্থার ঝুঁকি কমাতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় যমজ দুই ভাইয়ের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাদের একজনের মধ্যে কম ঘুমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন থাকলেও অন্যজনের মধ্যে তা ছিল না। গবেষণায় দেখা যায়, জিনগত পরিবর্তন থাকা ভাইটি নিয়মিত অন্য ভাইয়ের তুলনায় প্রায় এক ঘণ্টা কম ঘুমাতেন। পরবর্তী সময়ে দুজনকে একটানা ৩৮ ঘণ্টা জাগিয়ে রাখার পরীক্ষায় কম ঘুমানো ভাইটির মনোযোগ ও কাজের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে বেশি অক্ষুণ্ন ছিল। অন্য ভাইয়ের তুলনায় তার কর্মক্ষমতার ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ কম দেখা যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, কম সময় ঘুমালেও তার গভীর ঘুমসহ নন-র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট বা নন-আরইএম ঘুমের পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ, কম সময়ের মধ্যেও তিনি ঘুমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যায় পর্যাপ্তভাবে সম্পন্ন করতে পারছিলেন।

ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরির সম্ভাবনা

আরও পড়ুন: ঘুমিয়ে ১৩ লাখ টাকা জিতলেন জিনিয়া চ্যাটার্জি

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রাকৃতিকভাবে কম ঘুমানোর পেছনে কাজ করা জিনগুলো কীভাবে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে, তা জানা গেলে ভবিষ্যতে ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসায় নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের পথ খুলতে পারে। এমনকি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কম ঘুমিয়েও কর্মক্ষম রাখার গবেষণাতেও এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ইং-হুই ফু। তার মতে, জিনগুলো কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে ঘুমের ঘাটতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে, তা আগে ভালোভাবে বুঝতে হবে। যথাযথ জ্ঞান ছাড়া এই প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ওষুধ তৈরি করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে আলঝেইমারস, পারকিনসনস কিংবা ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঘুমের সময় নির্ধারণে জিনের প্রভাব

শুধু বিরল জিনগত পরিবর্তন নয়, মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের সময় নির্ধারণেও অসংখ্য সাধারণ জিনের ভূমিকা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ব্যক্তিভেদে ঘুমের সময়ের পার্থক্যের ৩০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত জিনগত কারণে হতে পারে। এ পর্যন্ত ঘুমের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েক শ জিনগত অঞ্চল শনাক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে

প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রায় ২৪৪টি জিনগত অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে, যেগুলো ঘুমের সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়নি; প্রিপ্রিন্ট হিসেবে রয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও কিংস কলেজ লন্ডনের জিনতত্ত্ববিদ ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব জিনগত পরিবর্তনের প্রতিটির প্রভাব খুবই সামান্য। একটি পরিবর্তনের কারণে ঘুমের সময়ের পার্থক্য প্রায় এক মিনিট হতে পারে। তবে সবগুলো জিনগত বৈচিত্র্যের সম্মিলিত প্রভাবে একজন মানুষের ঘুমের সময় অন্যজনের তুলনায় প্রায় ২০ মিনিট কম বা বেশি হতে পারে।

কম ঘুমানোর জিনগত প্রবণতা সব সময় উপকারী নয়। কম ঘুমানোর জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকলেই যে তা সব ক্ষেত্রে ভালো ফল বয়ে আনবে, এমন নয়। এ বিষয়ে ভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক চিয়ারা পেত্রোসেলিনির নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ৩৪৩ জন মায়ের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর তাদের প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা ছিল গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটছে না? সমস্যায় ভুগছেন আর্থ্রাইটিসের কারণে

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কম ঘুমানোর প্রবণতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রসবোত্তর সাইকোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে কম প্রবণতাসম্পন্ন নারীদের তুলনায় অর্ধেক।

অনিদ্রার ক্ষেত্রেও গবেষকেরা একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করেন। তাদের ধারণা, জীবনের আগের পর্যায় থেকেই ঘুমের ব্যাঘাতের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় সন্তান জন্মের পর ঘুমের সমস্যা এসব নারীর মেজাজ ও মানসিক অবস্থার ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অন্য গবেষণায় কম ঘুমের প্রবণতার সঙ্গে বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যান ও তার দলের গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণভাবে কম ঘুমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত বৈশিষ্ট্য অনিদ্রা, ক্লান্তি এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এডিএইচডি, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস।

গবেষকদের বক্তব্য, মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয়তা জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কেউ পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সতেজ থাকেন বলে সবার জন্য কম ঘুমানো উপকারী—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রকৃতিগতভাবে কম ঘুমানোর সক্ষমতা যাদের রয়েছে, তারা মূলত একটি বিরল ব্যতিক্রম। তাই নিজের ঘুমের সময় কমিয়ে ফেলার আগে মনে রাখা জরুরি, অভ্যাসের কারণে ঘুম কম হওয়া আর জিনগতভাবে কম ঘুমিয়েও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা এক বিষয় নয়।

আরও পড়ুন: দাড়ি ছেঁটে গোঁফে মামদানি, স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ এম


পিরোজপুরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়ার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এক রোগী মারা গেছেন।

এটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে। এই ঘটনায় মৃতের স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন।

মৃত রোগী লাকি (৩০) পিরোজপুর সদর উপজেলার নরখালী গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী। তার চার মাস বয়সী একটি শিশুসহ মোট তিনটি সন্তান রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাকি বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

লাকির ননদ সোনিয়া জানান, তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানিয়েছেন যে লাকি পাঁচ থেকে ছয়বার পায়খানা করেছেন। তবে চিকিৎসক লাকির ডায়রিয়া হয়নি জানিয়ে তাকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করার নির্দেশ দেন।

সোনিয়া আরও জানান, একটি ইনজেকশন দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে লাকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। নার্সদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও তারা জানান, লাকি ঘুমাচ্ছেন। সোনিয়া বারবার নার্সদের অনুরোধ করেন লাকিকে পরীক্ষা করার জন্য, কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। রাত ৮টার পর শিফট পরিবর্তনের সময় দায়িত্ব নিতে আসা নার্সরা লাকিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। সোনিয়ার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে লাকির মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর জানা যাবে, ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা ছিল কি না।

লাকির চিকিৎসা দেওয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. স্বাগত হালদার বলেন, লাকিকে তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং তার শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তিনি ইসিজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। ব্যথা কমানোর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যথানাশক ইনজেকশনসহ কয়েকটি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। এ সময় রোগীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করাই জরুরি ছিল।

মেডিকেল টেস্টের কোনো রিপোর্ট না পাওয়ায় লাকির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে রোগনির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন, রোগীকে প্রাথমিকভাবে যথাযথ চিকিৎসাই দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে লাকির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে তার স্বজনেরা ছুটে আসেন। তবে সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি: ৭ নভেম্বর ২০২৬

নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গণ্য হয়। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতেরও গুরুত্ব রয়েছে।

হাদিসের আলোকে, নামাজ মুমিন এবং অমুসলিমের মধ্যে মূল পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষের পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই, দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি নিচে উল্লেখ করা হলো:

ফজর- ভোর ৪: ৫১ মিনিট

জোহর- দুপুর ১১: ৪৫ মিনিট

আসর- দুপুর ৩: ৪১ মিনিট

মাগরিব- সন্ধ্যা ৫: ২০ মিনিট

এশা- রাত ৬: ৩৫ মিনিট

নামাজ আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে যেসব প্রভাব ফেলতে পারে

ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেক মানুষ প্রতিদিন একই ধরনের খাবার গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। সকালে ডিম-রুটি, দুপুরে ভাত-ডাল এবং রাতে পরিচিত কিছু খাবার—এভাবেই অনেকের খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। এতে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে না এবং সময়ও সাশ্রয় হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে একই খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা কি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য শুধুমাত্র পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া যথেষ্ট নয়, বরং খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য এবং বৈচিত্র্য থাকা আবশ্যক। কারণ নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকে শরীরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘ সময় একই ধরনের খাবার খেলে শরীরে কিছু পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

১. পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে

শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, শর্করা, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের খাবার এসব পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক। কিন্তু প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার ফলে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যদি খাবারে মাছ, ডিম, ডাল, শাকসবজি এবং ফলের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান পেতে পারে না। দীর্ঘ সময় ধরে এমন খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে পুষ্টির ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে

হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ বা ফাইবার থাকা জরুরি। ফল, শাকসবজি, ডাল এবং পূর্ণশস্য আঁশের ভালো উৎস। এসব খাবার অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়ার কারণে খাদ্যতালিকায় এসব উপাদানের বৈচিত্র্য কমে গেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আঁশের ঘাটতি হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

৩. অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য কমতে পারে

মানুষের অন্ত্রে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য অণুজীব বসবাস করে। খাবার হজম, পুষ্টি শোষণ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম সচল রাখতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, ডাল এবং আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের এসব উপকারী অণুজীবের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই দীর্ঘ সময় একই ধরনের খাবার খেলে অন্ত্রের অণুজীবের বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে অন্ত্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

৪. ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে

একই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজের অভাব তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যতালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দিতে পারে। একইভাবে দুধ, মাছ অথবা অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৫. খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে

প্রতিদিন একই খাবার খেতে খেতে স্বাভাবিকভাবেই একসময় একঘেয়েমি চলে আসে। ফলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। এমনকি প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে এমন খাবারও অনেক সময় খেতে ইচ্ছা করে না।

এর ফলে কেউ কেউ খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেন অথবা প্রয়োজনীয় কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। এতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে যা খাবেন

সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন খাদ্যগোষ্ঠীর উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একই ধরনের খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাবারের ধরন পরিবর্তন করলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—

একই খাবার কি সব সময় ক্ষতিকর?

প্রতিদিন একই খাবার খেলে যে শরীরের ক্ষতি হবে, বিষয়টি এমন নয়। মূল বিবেচ্য হলো খাবারের পুষ্টিমান, পরিমাণ এবং খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি। একই ধরনের খাবারেও যদি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিক পরিমাণে থাকে, তাহলে তা স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং পূর্ণশস্য যুক্ত করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় এক নাবিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ এম


আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় এক নাবিক নিহত

আরব উপসাগরে একটি তেল পণ্যবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় জাহাজটির একজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ট্যাংকারটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান।

এমটি ভেলোস নামক ট্যাংকারটি বাহরাইনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল যখন এটি হামলার শিকার হয়। ট্যাংকারটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভেলোস ট্যাংকার্স এক বিবৃতির মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় তাদের একজন নাবিক গুরুতর আহত হন এবং পরে নিখোঁজ হয়ে যান। যদিও তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হামলার ঘটনায় জাহাজের অন্য কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।

হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন লেগে যায়। তবে জাহাজের ক্রু সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এ ঘটনায় সমুদ্রের পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঘটনার পর ট্যাংকারটি বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরে গিয়ে নোঙর করে। হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির বাইরের কাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এমটি ভেলোস ট্যাংকারে চালানো সর্বশেষ হামলায় ইরানি সেনাদের জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%