শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১৩ পি.এম
মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি নেওয়া হয়েছে বৃষ্টির কারণে। যদিও বিরতির আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারেনি, তবে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় সেশনে তারা দ্রুত ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে গেছে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড অর্জন করেছিল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিকদের শুরুটা ভালোই ছিল। কিন্তু ১ উইকেটে ২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শুরু করার পর বাংলাদেশ দ্রুত বিপর্যয়ে পড়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ আরও ৩ উইকেট হারায়। ফলে ১ উইকেটে ২৮ রান থেকে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩৩। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৪ রান। রোস্টন চেজ ৩টি এবং শামার জোসেফ ১টি উইকেট নেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের লিড ৬১ রান, এবং হাতে রয়েছে ৬ উইকেট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সাথে উল্লেখ করেছেন যে, তার দেশ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা রাখে না। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তিনি সমর্থন করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে কোনো পক্ষই বিজয়ী হতে পারবে না।
পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাই না। তবে যদি তাদের কেউ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা করতে পারে।’ তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমারা রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল, তা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফোনে আলাপ করেন পুতিন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় নেতাদের উদ্যোগে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি সঠিক পথে এগোনোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
যদিও রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বলছে, তবে বিভিন্ন ‘হাইব্রিড’ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ন্যাটোর জোরালো প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে ছোট পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলা চালিয়ে পুতিন নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর বিস্তার ঠেকানোর এবং জোটটির উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবে রাশিয়া। পুতিন এই সম্প্রসারণকে বর্তমান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে মনে করেন। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের দাবি উঠতে পারে।
এদিকে, রুশ হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে আমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। এর অর্থ হলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এতটা বাড়ানো, যাতে প্রতিপক্ষ হামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবে। আর তাতে কাজ না হলে ব্রিটেন যেন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মৃত্যুর তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তার নিখোঁজ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে, তাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তির হোন্ডা গলি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পিবিআইয়ের একটি দল। সেখানকার একটি দোকানের সামনে নম্বরপ্লেটহীন অবস্থায় পার্ক করা মোটরসাইকেলটি দেখতে পেয়ে জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত যানটি নিখোঁজ তাহসিফের বলে দ্বীপ নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সাহায্যে ঘটনার রাতে দীপ ও তাহসিফের সর্বশেষ অবস্থান টঙ্গীর মাজার বস্তিতে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ পুলিশকে জানিয়েছেন, উত্তরা থেকে দুটি বাইকে চড়ে তারা ঘোরার উদ্দেশ্যে মাজার বস্তি এলাকায় এসেছিলেন। বাইক রেখে তুরাগ নদের কিনারায় যাওয়ার পর তিনি তাহসিফকে হারিয়ে ফেলেন। ঘণ্টা খানেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাসায় ফিরে যান।
উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী পিবিআই কর্মকর্তা সাজিদ বলেন, ‘দ্বীপের দেখানো মতে আমরা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি। তবে কী কারণে তারা এত রাতে এই এলাকায় এসেছিলেন এবং কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত মূল রহস্য উন্মোচন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজাঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে সপরিবারে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে তার নিখোঁজ মোটরসাইকেলটির সন্ধান মিলছিল না, যা এই হত্যাকাণ্ডে বা মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অন্যতম গুরুত্ব বহন করছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিসওয়াক একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ আমল ছিল। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, এটি দাঁত পরিষ্কার করতেও সহায়ক। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করলে নামাজের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়।
মিসওয়াকের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" (মিশকাত: ৩৪৬)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজি বলেছেন, "যে নামাজ মিসওয়াক করে আদায় করা হয়, সে নামাজ মিসওয়াক বিহীন নামাজের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি সওয়াবের।" (বায়হাকি, সুনানুল কুবরা: ১৫৯)
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা মিসওয়াক করো। নিশ্চয়ই মিসওয়াক মুখ পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। যখনই জিবরাইল আমার কাছে আসেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য বলেন। এমনকি আমি ভয় করি যে, আমার ও আমার উম্মতের উপর তা ফরজ করা হয় কি-না। আমার উম্মতের উপর কঠিন হয়ে যাওয়ার ভয় না করলে মিসওয়াক করা আমি উম্মতের উপর ফরজ করে দিতাম। আমি মিসওয়াক করতেই থাকি এমনকি আশঙ্কা করি যে, আমি হয়ত আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব।" (ইবনু মাজাহ: ২৮৯)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াকের প্রতি এতটাই গুরুত্ব দিতেন এবং ভালোবাসতেন যে, মৃত্যুর সময়েও তিনি মিসওয়াক করা থেকে বিরত হননি। বরং, যখন তিনি মিসওয়াক করতে পারছিলেন না, তখন হজরত আয়েশা (রা.) নিজে থেকে মিসওয়াক চিবিয়ে নবীজির মুখে তুলে দিচ্ছিলেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, "নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে থাকা অবস্থায় আমার বুকে মাথা রেখে ইন্তেকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যে কেউ দোয়া পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি তাকে ঝাড়ফুঁক করছিলাম। এমন সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) এলো। তার হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে তাকালেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মিসওয়াকের প্রয়োজন বোধ করছেন। আমি সেটি নিয়ে চিবিয়ে প্রস্তুত করে তাকে দিলাম। তিনি সেটি দিয়ে সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন, যে রকম তিনি (সুস্থ সময়ে) করে থাকেন। এর পর তিনি সেটি আমাকে দিলেন। এর পরই তার হাত ঢলে পড়ল। পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে মহান আল্লাহ আমার থুতুকে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থুতুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন।" (বুখারি: ৪৪৫১)
মিসওয়াক করার নিয়ম
মিসওয়াকের আকার হতে হবে নিজ হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা, তবে এটি জরুরি বা আবশ্যক নয়। এর ফলে মিসওয়াক ধরতে সুবিধা হয়। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি নিচে রেখে মিসওয়াক ধরতে হবে। মধ্যমা ও তর্জনী থাকবে ওপরে, বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে। এতে মুখের ভেতর ভালোভাবে ঘুরিয়ে মিসওয়াক করা সম্ভব হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
মিসওয়াক করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে মিসওয়াক শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে ও জিহ্বায় লম্বালম্বি মিসওয়াক করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৭; আল বিনায়াহ: ১/২০৪, আদ্দুররুল মুখতার: ১/১১৩)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ব্যাংক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যখন প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানায়, নিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই প্রতিবেদনটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে প্রথমবার ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর মাইগভ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দ্বিতীয় দফায়ও ত্রুটি শনাক্ত হলে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক করে বিজিডি ই-গভ সার্ট।
এই পরিস্থিতিতে তথ্য সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতার চিত্র উঠে এসেছে বিজিডি ই-গভ সার্টের পর্যবেক্ষণে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং মেইনটেন্যান্সের কোনো চুক্তিও নেই। ভেন্ডরকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অর্থনৈতিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত। তাদের মতে, সমস্যার পেছনে অবহেলা ছাড়াও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাঠপর্যায়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সূচক ৫ শতাংশেরও নিচে রয়েছে। বাজেটও যথেষ্ট নয়। এমনকি ফ্রি ফায়ারওয়াল ও ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে; এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টির বেশি।
এমন অবস্থায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনলাইনভিত্তিক ‘ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম’ চালু করেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকসহ ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ট্রিপল এ’, ‘ট্রিপল বি’সহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হতে পারে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, রেটিং প্রকাশের সময় কোন খাত বা কোন উপাদানে দুর্বলতা রয়েছে, তা-ও জানানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার মান সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কিনতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির করা অডিট ও রেটিং দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, রেটিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘ট্রিপল’ র্যাংকিং পাওয়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ