প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের ব্যাংক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যখন প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানায়, নিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই প্রতিবেদনটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে প্রথমবার ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর মাইগভ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দ্বিতীয় দফায়ও ত্রুটি শনাক্ত হলে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক করে বিজিডি ই-গভ সার্ট।
এই পরিস্থিতিতে তথ্য সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতার চিত্র উঠে এসেছে বিজিডি ই-গভ সার্টের পর্যবেক্ষণে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং মেইনটেন্যান্সের কোনো চুক্তিও নেই। ভেন্ডরকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অর্থনৈতিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত। তাদের মতে, সমস্যার পেছনে অবহেলা ছাড়াও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাঠপর্যায়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সূচক ৫ শতাংশেরও নিচে রয়েছে। বাজেটও যথেষ্ট নয়। এমনকি ফ্রি ফায়ারওয়াল ও ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে; এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টির বেশি।
এমন অবস্থায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনলাইনভিত্তিক ‘ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম’ চালু করেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকসহ ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ট্রিপল এ’, ‘ট্রিপল বি’সহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হতে পারে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, রেটিং প্রকাশের সময় কোন খাত বা কোন উপাদানে দুর্বলতা রয়েছে, তা-ও জানানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার মান সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কিনতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির করা অডিট ও রেটিং দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, রেটিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘ট্রিপল’ র্যাংকিং পাওয়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন