প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মিসওয়াক একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ আমল ছিল। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, এটি দাঁত পরিষ্কার করতেও সহায়ক। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করলে নামাজের সওয়াব ৭০ গুণ বৃদ্ধি পায়।
মিসওয়াকের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" (মিশকাত: ৩৪৬)
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজি বলেছেন, "যে নামাজ মিসওয়াক করে আদায় করা হয়, সে নামাজ মিসওয়াক বিহীন নামাজের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি সওয়াবের।" (বায়হাকি, সুনানুল কুবরা: ১৫৯)
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা মিসওয়াক করো। নিশ্চয়ই মিসওয়াক মুখ পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ। যখনই জিবরাইল আমার কাছে আসেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার জন্য বলেন। এমনকি আমি ভয় করি যে, আমার ও আমার উম্মতের উপর তা ফরজ করা হয় কি-না। আমার উম্মতের উপর কঠিন হয়ে যাওয়ার ভয় না করলে মিসওয়াক করা আমি উম্মতের উপর ফরজ করে দিতাম। আমি মিসওয়াক করতেই থাকি এমনকি আশঙ্কা করি যে, আমি হয়ত আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব।" (ইবনু মাজাহ: ২৮৯)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াকের প্রতি এতটাই গুরুত্ব দিতেন এবং ভালোবাসতেন যে, মৃত্যুর সময়েও তিনি মিসওয়াক করা থেকে বিরত হননি। বরং, যখন তিনি মিসওয়াক করতে পারছিলেন না, তখন হজরত আয়েশা (রা.) নিজে থেকে মিসওয়াক চিবিয়ে নবীজির মুখে তুলে দিচ্ছিলেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, "নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে থাকা অবস্থায় আমার বুকে মাথা রেখে ইন্তেকাল করেন। তিনি অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যে কেউ দোয়া পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করতেন। আমি তাকে ঝাড়ফুঁক করছিলাম। এমন সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) এলো। তার হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে তাকালেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মিসওয়াকের প্রয়োজন বোধ করছেন। আমি সেটি নিয়ে চিবিয়ে প্রস্তুত করে তাকে দিলাম। তিনি সেটি দিয়ে সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন, যে রকম তিনি (সুস্থ সময়ে) করে থাকেন। এর পর তিনি সেটি আমাকে দিলেন। এর পরই তার হাত ঢলে পড়ল। পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে মহান আল্লাহ আমার থুতুকে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থুতুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন।" (বুখারি: ৪৪৫১)
মিসওয়াক করার নিয়ম
মিসওয়াকের আকার হতে হবে নিজ হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা, তবে এটি জরুরি বা আবশ্যক নয়। এর ফলে মিসওয়াক ধরতে সুবিধা হয়। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি নিচে রেখে মিসওয়াক ধরতে হবে। মধ্যমা ও তর্জনী থাকবে ওপরে, বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে। এতে মুখের ভেতর ভালোভাবে ঘুরিয়ে মিসওয়াক করা সম্ভব হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
মিসওয়াক করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি হলো ডান হাতে মিসওয়াক নিয়ে ডান দিক থেকে মিসওয়াক শুরু করা। দাঁতে প্রস্থে ও জিহ্বায় লম্বালম্বি মিসওয়াক করা সুন্নত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৭; আল বিনায়াহ: ১/২০৪, আদ্দুররুল মুখতার: ১/১১৩)
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন