প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি একই সাথে উল্লেখ করেছেন যে, তার দেশ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা রাখে না। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তিনি সমর্থন করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে কোনো পক্ষই বিজয়ী হতে পারবে না।
পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে পুতিন বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাই না। তবে যদি তাদের কেউ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে তারা তা করতে পারে।’ তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমারা রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য নিয়েছিল, তা অর্জনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফোনে আলাপ করেন পুতিন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় নেতাদের উদ্যোগে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি সঠিক পথে এগোনোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
যদিও রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বলছে, তবে বিভিন্ন ‘হাইব্রিড’ হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ন্যাটোর জোরালো প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশে ছোট পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলা চালিয়ে পুতিন নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।
দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর বিস্তার ঠেকানোর এবং জোটটির উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবে রাশিয়া। পুতিন এই সম্প্রসারণকে বর্তমান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে মনে করেন। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের দাবি উঠতে পারে।
এদিকে, রুশ হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।
দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে আমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। এর অর্থ হলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এতটা বাড়ানো, যাতে প্রতিপক্ষ হামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবে। আর তাতে কাজ না হলে ব্রিটেন যেন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন