শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১৫ পি.এম
দেশের ব্যাংক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যখন প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি জানায়, নিবন্ধিত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এই প্রতিবেদনটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে প্রথমবার ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর মাইগভ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দ্বিতীয় দফায়ও ত্রুটি শনাক্ত হলে সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকা পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সতর্ক করে বিজিডি ই-গভ সার্ট।
এই পরিস্থিতিতে তথ্য সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতার চিত্র উঠে এসেছে বিজিডি ই-গভ সার্টের পর্যবেক্ষণে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং মেইনটেন্যান্সের কোনো চুক্তিও নেই। ভেন্ডরকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
অর্থনৈতিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত। তাদের মতে, সমস্যার পেছনে অবহেলা ছাড়াও পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাঠপর্যায়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সূচক ৫ শতাংশেরও নিচে রয়েছে। বাজেটও যথেষ্ট নয়। এমনকি ফ্রি ফায়ারওয়াল ও ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে; এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১০টির বেশি।
এমন অবস্থায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনলাইনভিত্তিক ‘ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম’ চালু করেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকসহ ১১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থায় নিবন্ধন করেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে আইটি অডিট সম্পন্ন করার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। নিরাপত্তার মান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ট্রিপল এ’, ‘ট্রিপল বি’সহ মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হতে পারে।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, রেটিং প্রকাশের সময় কোন খাত বা কোন উপাদানে দুর্বলতা রয়েছে, তা-ও জানানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার মান সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কিনতে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার তাগিদ দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির করা অডিট ও রেটিং দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান আমিনুল হাকিম বলেন, রেটিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের কারসাজি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট কিংবা অর্থের বিনিময়ে ‘ট্রিপল’ র্যাংকিং পাওয়ার মতো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বোঝাতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করা।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেই আলোচনা সভায় প্রদত্ত বক্তব্যের বিষয়ে তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই। সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল আমার বক্তব্যের মূল কথা।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, ‘দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও শিল্পা শেঠি কারওয়া চৌথ উদ্যাপনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই ধর্মীয় বিশেষ দিনে উপবাস রেখে স্বামীদের সঙ্গে ব্রত পালন করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তারা নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিশেষ মুহূর্তের একাধিক ছবি প্রকাশ করেছেন। উভয়েই এদিন বউয়ের সাজে সজ্জিত ছিলেন।
প্রিয়াঙ্কা তার বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছেন,
"আমি কিছু বলার আগেই সে নিজে থেকেই বাড়ি ফিরে এলো। সে জানতো, আমার কাছে এর গুরুত্ব কতটা। কারওয়া চৌথের সময় যেন সে বাড়িতে থাকতে পারে, সেভাবেই সে তার সফরের পরিকল্পনা করেছিল। আমার মানুষটির মতো আর কেউ নেই। আপনাদের জীবনেও এমন ভালোবাসা আসুক। শুভ কারওয়া চৌথ।"
অন্যদিকে, শিল্পা শেঠি তার বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছেন,
"ভালোবাসাই পৃথিবীকে সচল রাখে তবে আমার পাশে তোমার উপস্থিতি, আমার সাথে তোমার উপবাস রাখা—এসবই আমার কাছে পুরো পৃথিবী।"
কারওয়া চৌথ হলো কার্তিক মাসের প্রথম পূর্ণিমার পর কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথি। এদিন, উত্তর ভারত, পশ্চিম ভারত এবং নেপালের বিবাহিত হিন্দু নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল এবং সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনায় সূর্যোদয় থেকে শুরু করে চাঁদ ওঠা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস করেন। অন্যান্য সাধারণ নারীদের মতো, স্বামীর মঙ্গলের জন্য এই ব্রত পালন করতে পিছিয়ে নেই বলিউডের সেলিব্রেটি অভিনেত্রীরাও।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, রেলওয়ের বহরে ধাপে ধাপে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ যুক্ত হতে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কোচগুলো ব্যবহার করে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরনো কোচগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। রেলওয়ের মহাপরিচালক জানান, দেশে আনা নতুন কোচগুলোর একটি অংশ ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন কোচ দিয়ে একটি নতুন ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও মোট ২০০টি নতুন কোচ দেশে আসবে। কোচগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদার ভিত্তিতে নতুন ট্রেন চালু করা এবং পুরনো কোচগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে।
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে আফজাল হোসেন বলেন, ‘এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। কারণ দেশের সব রেললাইন এখনও ব্রডগেজে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। সব লাইন ব্রডগেজে রূপান্তর হওয়ার পরই কেবল এই রুটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। তাছাড়া এ ধরনের দীর্ঘ রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকা পর্যন্ত রেল সংযোগের ব্যাপারে মহাপরিচালক বলেন, ‘বাংলাবান্ধার ওপারে ভারতের অংশে যদি রেললাইনের সংযোগ না থাকে, তবে শুধু আমাদের অংশে কাজ করে আঞ্চলিক যোগাযোগের সুফল মিলবে না। স্থলবন্দর থাকার কারণে আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হয়তো পূরণ হবে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে না। এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেই কেবল কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব।’ বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনাধীন ও স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রেলওয়ের বর্তমান অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা তদারকির বিষয়ে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্টেশনের মালামাল ওঠানামার (লোডিং ও আনলোডিং) সুবিধা এবং যাত্রীদের চাহিদা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেসব স্থানে চাহিদা বেশি, সেখানে প্রয়োজনে রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বাড়ানো কিংবা বেশি সংখ্যক কোচ যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জাহিদ হাসান, স্টেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর হাতিরঝিল থানা এলাকার অন্তর্গত স্থান থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) চারটি ককটেলসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য প্রদান করেন।
গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের নাম হলো জাহিদুল ইসলাম অনিক (২১) এবং শিহাব হোসেন অমি (১৯)।
রমনা মডেল থানার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রমনা মডেল থানাধীন রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তাদের হেফাজত থেকে তাজা চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
জননিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ