প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভাবনীয় বিজয়ের পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা মোড় আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা সেনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ লাভের পর ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ ঘোষণা ও বাজেট সংক্রান্ত ক্ষমতাকে সীমিত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান রিপাবলিকান নেতৃত্ব সংবিধান প্রদত্ত যুদ্ধ ঘোষণা এবং কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দের বিশেষ অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির যে পাঁচটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে তা নিম্নরূপ:
১. ইরান যুদ্ধের রাশ টানা: নতুন কংগ্রেস ইরান কেন্দ্রিক সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির রাশ টানতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সামরিক বাজেট কাটছাঁট করতে পারে অথবা নতুন নিয়োগ বা পদায়নে বাধা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেকোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে বাধ্য করতে পারে।
২. ইউক্রেনে সহায়তা বৃদ্ধি: মার্কিন সমর্থন ইউক্রেনের জন্য আরও জোরদার হতে পারে। কিভের জন্য একটি নতুন সামরিক ও আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ দ্রুত ভোটাভুটির জন্য কংগ্রেসে উত্থাপন করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা।
৩. ইসরায়েলে সামরিক সহায়তায় রাশ: ইসরায়েলে চলমান মার্কিন সামরিক সহায়তা সীমিত বা সাময়িকভাবে স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, বাজেট বরাদ্দের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের বন্ধ করা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বৈদেশিক সাহায্য পুনরায় চালু করতে পারে কংগ্রেস।
৪. লাতিন আমেরিকা নীতি পুনর্বিবেচনা: ভেনেজুয়েলায় ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং কিউবার ওপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা সহ সমগ্র লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াবে কংগ্রেস।
৫. যুদ্ধ ও ব্যয় ক্ষমতার ওপর আইনসভার নিয়ন্ত্রণ: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর লাগাম টেনে ধরে যেকোনো আন্তর্জাতিক সামরিক পদক্ষেপ ও বাজেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনেটের ৩৫টি আসন এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মোট ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোটগ্রহণ করা হয়। একই সাথে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে, যা রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন