০৩:৩৫ পি.এম
ইরানের ওপর কয়েক মাস ধরে চলমান নৌ অবরোধের পর, যুক্তরাষ্ট্র এবার স্থলপথ এবং কাস্পিয়ান সাগরের মাধ্যমে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্যের চলাচল সীমিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি নতুন বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে এই উদ্দেশ্যে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামের এই বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পথ সংকুচিত করার পাশাপাশি, দেশটির অর্থের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করার লক্ষ্য রয়েছে ওয়াশিংটনের।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, এই টাস্কফোর্স ইরানের উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সামগ্রী এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে কাজ করবে। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেফ হারবার সুবিধা বাতিলের কথা ভাবছে
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাস্কফোর্স আয়রন গেটের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় অবস্থিত হবে। এই উদ্যোগটি দেশের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে পরিচালিত হবে এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাও এতে যুক্ত থাকবে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানের জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে সাতটি দেশের স্থলসীমান্ত রয়েছে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং পূর্বে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। সব মিলিয়ে এই দেশের সঙ্গে ইরানের স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার।
এছাড়া উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূল রয়েছে। ফলে স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে পণ্য, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি পরিবহনের পথগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের আওতায় আসতে পারে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন সীমিত করার এই নতুন উদ্যোগের ফলে তেহরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বিস্তৃত হতে যাচ্ছে। তবে নতুন টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে ইরানের সব স্থলবাণিজ্যে সরাসরি অবরোধ আরোপ করা হয়নি। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে অস্ত্র, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্য, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি প্রদেশ হচ্ছে?
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন