শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১৮ পি.এম
দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন তাদের সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছে। এটি বাংলাদেশের যেকোনো ডেটা সেন্টারে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ।
সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জেডটিই-কে সঙ্গে নিয়ে গ্রামীণফোন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ৪৫০টি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল এই প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি গ্রামীণফোনের পরিচালিত অবকাঠামোজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন চালু হওয়া এই সোলার প্ল্যান্ট থেকে বছরে ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৮৮ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমবে। গ্রামীণফোনের লক্ষ্য হলো ডেটা সেন্টারের পরিচালন কার্যক্রমে নবায়নযোগ্য শক্তি কাজে লাগিয়ে পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং টেকসই অবকাঠামোর মাধ্যমে ডিজিটাল সংযোগ ও সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা। এই পদক্ষেপটি কোম্পানির ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান সিলেট ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ টেকনোলজি অফিসার আবুল কাসেম মহিউদ্দিন আল-আমিন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক, চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান এবং জেডটিই বাংলাদেশের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মাও জুন্যং উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারা চলমান থাকায় আমরা এমন একটি অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি যা শুধু নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ-উপযোগীই হবে না, বরং পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবে। ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রামীণফোনের কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। আমাদের ক্রমাগত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কার্যক্রমজুড়ে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সিলেট ডেটা সেন্টারের সোলার প্ল্যান্টটি এই অগ্রযাত্রায় এক প্রায়োগিক পদক্ষেপ, যা কোটি কোটি গ্রাহকের সেবায় নিয়োজিত ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমরা কীভাবে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে পারি তা তুলে ধরছে। আমরা টেকসই ও উদ্ভাবনী সল্যুশনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব যা আমাদের গ্রাহক, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করবে।’
জেডটিই বাংলাদেশের সিইও মাও জুন্যং বলেন, ‘কোনো ডেটা সেন্টারে বাংলাদেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর এই উদ্যোগে গ্রামীণফোনের পার্টনার হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই প্রকল্পটি দেখায় কীভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একত্রিত হয়ে আরও জ্বালানিসাশ্রয়ী ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন সোলার সল্যুশন যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করছি যা গ্রামীণফোনের টেকসই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই যৌথ উদ্যোগ শিল্পখাতে একটি উদাহরণ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখবে।’
এই উদ্যোগটি গ্রামীণফোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসই বিষয়টিকে একীভূত করার এবং পরিচালন ও পরিবেশ উভয়ক্ষেত্রে সুফল দেবে এমন সল্যুশনে বিনিয়োগের ধারাবাহিক প্রয়াসের প্রতিফলন। কোম্পানিটি নবায়নযোগ্য শক্তির বহুল ব্যবহার, জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি ডিজিটাল ভবিষ্যৎ তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে কার্বন নির্গমনের মাত্রা কম হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে যে, মক্কা অঞ্চলের দিকে আসা একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দ্বারা ছোঁড়া হয়েছিল। তবে, হুতিরা এই ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ‘হুতি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কা অঞ্চলে শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে জানান, শুক্রবার তাদের সংগঠন সৌদি ভূখণ্ডের দিকে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। তিনি বলেন, মক্কার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার সৌদি শত্রুপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং গুরুতর অপপ্রচার।
এর আগে, আল-মালিকি জানিয়েছিলেন যে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।
সম্প্রতি, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও হামলা চালাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার, হুতিরা দাবি করে যে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছয়টি হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে তেল স্থাপনা এবং বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব দেশটির সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় দুই দিনের শচীন মেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে, যা উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সুরকার শচীন দেববর্মণের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর চর্থায় শিল্পীর পৈতৃক বাড়িতে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলা উপলক্ষে সংগীত ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হলেও শিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির একটি বড় অংশ সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের দখলে থাকায় স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বাড়িটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কালচারাল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা উচিত।
শচীন দেববর্মণের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রতিবছর শিল্পীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়িতে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে অংশ নিতে কুমিল্লা ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগীত ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা আসেন।
শুধু সংগীতের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে বাড়িটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এখানে একসময় শচীন দেববর্মণের সঙ্গে সংগীতের আসর জমাতেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ তৎকালীন সময়ের খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞরা। সংগীতের নানা স্মৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা বাড়িটি এখনো যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হওয়ায় স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা হতাশ।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর শচীন দেববর্মণের কুমিল্লার পৈতৃক বাড়ির একটি বড় অংশে সরকারি হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। এরপর দীর্ঘ সময় বাড়িটির উল্লেখযোগ্য অংশ খামারের দখলে থেকে যায়, ফলে শিল্পীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি অনেকটা আড়ালে পড়ে যায়।
পরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বাড়িটি সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করার দাবি উঠতে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠনের তৎপরতায় বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। ২০১৩ সালে বাড়িটির একাংশ আংশিকভাবে বেদখলমুক্ত করা হয়। পরের বছর ২০১৪ সালে বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন জেলা প্রশাসন।
সংস্কারকাজের মাধ্যমে বাড়িটির কিছু অংশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পুরো বাড়ি এখনো সংরক্ষণের আওতায় আসেনি। জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনের সময় বাড়িটিতে মানুষের আনাগোনা বাড়লেও বছরের অন্য সময় এটি অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালুর দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, ‘শচীন দেববর্মণ শুধু কুমিল্লার নন, তিনি উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তার স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক বাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। বাড়িটির যে অংশ এখনো খামারের দখলে রয়েছে, তা দখলমুক্ত করে পুরো জায়গাকে একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে নতুন প্রজন্ম শচীন দেববর্মণ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরি হবে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন জানান, শিল্পীর পৈতৃক বাড়িটি সংরক্ষণ এবং সারা বছর সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে গেল ১০ জুলাই শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়িটি পরিদর্শন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। এসময় তিনি বাড়িটি ঘিরে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান।
শচীন দেববর্মণ ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের চর্থার এই পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ত্রিপুরার রাজপরিবারের সন্তান ছিলেন। বাংলা ও হিন্দি সংগীতজগতে অসামান্য অবদান রাখা এই শিল্পী সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
শিল্পীর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এবারের শচীন মেলাও তার স্মৃতি ও সংগীতকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি আয়োজন। তবে সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, প্রতিবছর নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শচীন দেববর্মণের পৈতৃক বাড়িকে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে শনিবার (৩১ অক্টোবর)। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁয় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোর জেলায় অবস্থিত।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ার কারণে বাকি সাতজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হচ্ছে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী।
নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম এবং খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার পর এখন স্বজনরা শেষবারের মতো একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন।
নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার নিহত শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশে থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’
মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন স্বজনরা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিজ্জামান জানিয়েছেন, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ দাফন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, "নির্বাচনে টাকা কোনো সমস্যা নয়, আপনারা গণজোয়ার সৃষ্টি করুন।"
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে লংগদু পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে জামায়াতের ইউনিয়নভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের মানুষ এখন চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ-সিন্ডিকেট-ঘুষখোর-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। তারা সৎ নেতৃত্ব চায়।"
শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ জামায়াতের পক্ষেই থাকবে। "প্রার্থী নির্বাচন করে দিলাম। কাজ শুরু করে দিন। এখনও সময় আছে, জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করুন। দেখবেন জনগণও প্রার্থীদের টাকা দিবে।"
তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে।"
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লংগদু উপজেলায় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় ৭ ইউনিয়নের মধ্যে বগাচতর, গুলশাখালী, কালাপাকুজ্জা, মাইনীমুখ এই ৪ ইউনিয়নে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ