ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগের বড় প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশের সামনে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগের বড় প্রতিশ্রুতি, বাংলাদেশের সামনে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

জাপান সফরের একটি প্রধান অর্জন হলো বিশাল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি ইনিশিয়েটিভ’ বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তারা মনে করেন, এই সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে, যা ভূরাজনৈতিক অবস্থানে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

চীন ও মালয়েশিয়া সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে যান। চার দিনের এই সফরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৩টি নথিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বের স্তরে পৌঁছেছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের জাপান সফরটি গতানুগতিক ছিল না। অটোমোবাইল, প্রযুক্তি এবং মাতারবাড়িতে বিজনেস হাব-এ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি পূর্বের সফরগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী ছিল।

আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ১৪ জন: আমিনুল হক

তিনি বলেন, সফরের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। সাধারণত বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব দেখা যায়, কিন্তু যৌথ ঘোষণার ভাষা দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ যথেষ্ট তথ্য ও প্রস্তাবনা প্রদান করেছে। এটি আগের যেকোনো সফরের তুলনায় বড় ধরনের ব্যতিক্রম ছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, জাপান বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে এবং তারা তা বাস্তবায়নে আগ্রহী। ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে ২ লাখ অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ঘাটতি প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি রফতানি বৃদ্ধি পেলেও, বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রফতানি আরও বাড়াতে ঢাকা গুরুত্ব দিয়েছে।

ড. মাহফুজ কবির বলেন, জাপান সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর সরকার ঝুলে আছে, আরবরাই ‘কিংমেকার’

সফরের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো জাপানের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ’ বা বিগ-বি। এই উদ্যোগে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাপানের আগ্রহও স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগ-বির সম্ভাব্য পরিধি ভারতের সেভেন সিস্টারস অঞ্চল, মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কীভাবে এই উদ্যোগ থেকে সর্বাধিক সুবিধা পেতে পারে, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

ড. মাহফুজ কবির বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হাব গড়ে তোলার বিষয়টিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সেটি হবে দ্বিতীয় লক্ষ্য। বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলো বিগ-বি উদ্যোগে একত্রিত হলে তা সকলের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান জানান, বাংলাদেশের পক্ষে পুরো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই ভূমিকা পালনের জন্য উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আঞ্চলিক সংহতির বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর বাতাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু, প্রবীণ ও হৃদরোগী

জাপান সফরে অর্থনৈতিক অর্জনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি জাপানের সমর্থন অর্জন সফরের অন্যতম বড় সাফল্য।

কামরুল হাসান বলেন, কীভাবে রোহিঙ্গারা পূর্ণ নাগরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে জাপান।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেলেও, কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাপান হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পরিবেশের ওপর।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে উজান বিলে অবৈধ জাল ও বাঁধ ধ্বংস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীতে নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন, ১৪৪ ধারা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ এম


ইনানীতে নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন, ১৪৪ ধারা জারি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় নলকূপ স্থাপনকালে মাটির গভীর থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন লাগার ঘটনায় ২০০ মিটার এলাকার মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এই ঘটনার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত একটি আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আদেশটি পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজের কাছে একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এই সময় মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর সময় গ্যাস বের হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ঘটনাস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে। তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগুনের উৎস এবং আশপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই অবস্থায় ঘটনাস্থল ও আশপাশে আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে এমন সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে আগুনের উৎস থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার দূরত্বে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘর অগোছালো থাকলে মনের ওপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব, গবেষণা বলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


ঘর অগোছালো থাকলে মনের ওপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব, গবেষণা বলছে

সারাদিনের কাজ শেষে যখন কেউ ঘরে ফিরে একটু শান্তিতে বসার চেষ্টা করেন, তখন যদি সোফায় ছড়িয়ে থাকা কাপড়, টেবিলে জমে থাকা কাগজপত্র, মেঝেতে পড়ে থাকা খেলনা কিংবা রান্নাঘরের অপরিষ্কার বাসনপত্রের দৃশ্য দেখে বিরক্তি অনুভব করেন, তখন বিষয়টিকে কেবল ঘর পরিষ্কারের ঝামেলা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মানসিক স্বস্তির সঙ্গে চারপাশের পরিবেশের একটি সম্পর্ক বিদ্যমান।

অগোছালো ঘর ও মানসিক চাপের সম্পর্ক

ঘর অগোছালো থাকলে কি সত্যিই মন খারাপ হয়? ২০২৫ সালের আগস্টে Journal of Environmental Psychology সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৫০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা এই গবেষণায় দেখতে পান যে, ঘরের অগোছালো অবস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার মধ্যে একটি নেতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান। যাঁরা নিজেদের ঘরকে বেশি অগোছালো মনে করেন, তাঁদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতির পরিমাণ বেশি এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি ও মানসিক সুস্থতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

তবে গবেষণাটি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে অগোছালো ঘরই মানসিক অশান্তির একমাত্র কারণ। মানসিক চাপের মধ্যে থাকা ব্যক্তির জন্য ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কটি দুই দিক থেকেই কাজ করতে পারে।

চোখের সামনে বিশৃঙ্খলা থাকলে মনের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। চাবি কোথায় রাখা হয়েছে, জরুরি কাগজপত্র কোথায় আছে, কিংবা কাপড়ের স্তূপের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি খুঁজে পাওয়া—এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যাগুলো প্রতিদিনের বিরক্তি বাড়াতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যদি কেউ ঘরে ফিরেই অসমাপ্ত কাজের তালিকা দেখে, তাহলে অবসর সময়েও মনে হতে পারে যে অনেক কিছু এখনো করা বাকি। এর ফলে বাড়িতে থেকেও বিশ্রামের অনুভূতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ঘরের পরিবেশ কি মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষক ডারবি স্যাক্সবে ও রেনা রেপেত্তির ২০১০ সালের একটি গবেষণায় ৩০ জন দ্বৈত-আয়ের দম্পতির বাড়ির পরিবেশ ও মানসিক অবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেসব নারী তাঁদের ঘরকে বেশি চাপপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে দিনের সঙ্গে নেতিবাচক মেজাজ বাড়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। তাঁদের কর্টিসলের দৈনিক ওঠানামার ধরনও তুলনামূলকভাবে কম খাড়া ছিল, যা কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষণাটি ছোট পরিসরের হওয়ায় এর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে বাড়ির পরিবেশ যে মানুষের মানসিক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তা বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

অগোছালো ঘর থেকে অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অনেকেই ঘর অগোছালো দেখে মনে মনে ভাবেন, ‘এতটুকু কাজও কেন করতে পারছি না?’ কর্মজীবী মানুষ, ছোট সন্তানের অভিভাবক কিংবা যাঁদের ওপর পরিবারের বেশির ভাগ দায়িত্ব থাকে, তাঁদের জন্য ঘর গোছানো আরও একটি অসমাপ্ত কাজের বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

ফলে শুধু ঘরের বিশৃঙ্খলা নয়, নিজের প্রতি বিরক্তি ও অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অথচ ক্লান্তি, সময়ের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা মানসিক চাপের মতো বাস্তব কারণেও ঘর অগোছালো থাকতে পারে। তাই ঘর গোছানো না থাকাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি আমাদের বিশ্রাম, অভ্যাস ও দৈনন্দিন অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। গবেষণায় অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে কম মানসিক সুস্থতা ও বেশি নেতিবাচক অনুভূতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অগোছালো ঘর সরাসরি মানসিক সমস্যার কারণ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নয়।

চলবে....

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে উজান বিলে অবৈধ জাল ও বাঁধ ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


কালিয়াকৈরে উজান বিলে অবৈধ জাল ও বাঁধ ধ্বংস

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে একটি কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলে ৫৫টি নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং এক অসাধু জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন কালিয়াকৈর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শিলা। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, একটি অসাধু চক্র উজান বিলে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রিং জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে মা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নির্বিচারে নিধন করে আসছিল। খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫টি রিং জাল ও ২০টি কারেন্ট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বিলের অবৈধ বাঁধ ভেঙে দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, কারেন্ট ও রিং জালের কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। মা মাছ ও পোনা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নিয়মিত নজরদারির দাবি তুলেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর বাতাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু, প্রবীণ ও হৃদরোগী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


ঢাকায় অস্বাস্থ্যকর বাতাস, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু, প্রবীণ ও হৃদরোগী

জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মেগাসিটি ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ৯ম অবস্থানে রয়েছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৪২, যা শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান স্কোর ওঠানামা করতে পারে।

তালিকার শীর্ষে থাকা সৌদি আরবের রিয়াদের বাতাসে দূষণের মাত্রা আবারো ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ২১৭, যা রিয়াদবাসীর জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’।

এদিকে, বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর তালিকায় পাঁচটি দেশ রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- পাকিস্তানের লাহোর, ভারতের মুম্বাই, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, চীনের সাংহাই ও ইরাকের বাগদাদ।

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১১ দেশের বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এই দেশগুলো হলো- কাজাখস্তানের আলমাতি, পাকিস্তানের করাচি, উজবেকিস্তানের তাসকান্ত, কঙ্গোর কিনসাসা, চীনের গুয়াংজু ও হাংজু, ভিয়েতনামের হেনোয় ও হো চি মিন সিটি, নেদারল্যান্ডসের রোটারদাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েতের কুয়েত সিটি।

একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য জানায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। এই প্রতিষ্ঠানটি বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মানকে বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায়ে ধরা হয়।

বায়ুদূষণ বাড়লে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এই অবস্থায় দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেয়া হয়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%