ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে হঠাৎ বড় পতন


বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে হঠাৎ বড় পতন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের পরেও যথেষ্ট মুনাফা না আসার আশঙ্কার কারণে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এর ফলস্বরূপ, শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সময়ে রুপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও ব্যাপকভাবে কমেছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই তিন ধাতুর দাম ‘অতিবিক্রীত’ বা ওভারসোল্ড অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৮০ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে আসে। এটি ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৯৮ দশমিক ৯০ ডলারে স্থির হয়েছে।

একই সময়ে রুপার দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো রুপার দাম ৫০ ডলারের নিচে নেমেছে। এছাড়া, প্যালাডিয়ামের দামও প্রতি আউন্স ১ হাজার ডলারের নিচে চলে গেছে।

আরও পড়ুন: নগদ টাকার ব্যবহারে ব্যয় বাড়ছে, ডিজিটাল লেনদেনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং মন্তব্য করেছেন, ‘পরিস্থিতি যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামলে ধাতু খাতেও এর প্রভাব পড়ে। এআই খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল ভবিষ্যৎ মুনাফার প্রত্যাশা। কিন্তু এখন সেই ভিত্তিতেই ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে।’

কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে উল্লেখ করেছেন, শুক্রবার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের বড় দরপতনের কারণে স্বর্ণসহ অন্যান্য নিরাপদ সম্পদ বাধ্য হয়ে বিক্রি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে মার্জিন কলের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে পৌঁছেছিল। তারপর থেকে দাম ৩০ শতাংশ কমেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কা এবং এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে স্বর্ণের দামে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম যখনই প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নামে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়তে শুরু করে।

অন্যদিকে, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো সাদা মূল্যবান ধাতুগুলো স্বর্ণের মতো সুবিধা পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এই তিন ধাতুর ক্ষেত্রে এ ধরনের চাহিদা নেই।

আরও পড়ুন: ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে কমল ১৬৩৩ টাকা

চলতি সপ্তাহে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম ৭ থেকে ৯ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে স্বর্ণের দাম কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এতে তিন ধাতুর আপেক্ষিক শক্তি সূচক বা রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স (আরএসআই) গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গভীরভাবে ‘ওভারসোল্ড’ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। বাজার বিশ্লেষণে এটি দরপতনের তীব্র গতির ইঙ্গিত দেয়।

তাই ওং বলেছেন, ‘সাদা ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই দরপতন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মতো আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও অব্যাহত রয়েছে।’

শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রুপার বাজার ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছিল। তবে এইচএসবিসি জানিয়েছে, শিল্প ও গহনা খাতে রুপার চাহিদা কমছে। ব্যাংকটি আশা করছে, ২০২৭ সালে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম হবে ৬৪ ডলার। চলতি বছরের জন্য তাদের গড় মূল্য পূর্বাভাস ছিল ৭১ ডলার।

বর্তমানে এক আউন্স স্বর্ণ কিনতে ৭৯ আউন্স রুপা প্রয়োজন হচ্ছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ জানুয়ারিতে স্বর্ণের সমপরিমাণ দাম পেতে প্রয়োজন হতো মাত্র ৪৬ আউন্স রুপা। ওই সময় রুপার দাম রেকর্ড ১২২ ডলারে পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুন: বর্তমান সরকারের ওপর বিশ্বের দারুণ আগ্রহ আছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ঐতিহাসিক হিসাবেও স্বর্ণের তুলনায় রুপার দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। পরামর্শক সংস্থা মেটালস ফোকাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার দামের অনুপাতের গড় ছিল ৮২।

এদিকে, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে গত ১৩ ও ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম প্রতি আউন্স ১ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি স্বর্ণ ও প্লাটিনামের দামের অনুপাত বেড়ে ২ দশমিক ৭ হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ।

অটোমোবাইল খাতে চাহিদা কমার আশঙ্কায় প্লাটিনামের দামও চাপের মুখে রয়েছে। সর্বশেষ ধাতুটির দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪২৫ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ৩ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়াম বিক্রি হচ্ছে ৯৭৬ দশমিক ০৮ ডলারে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণফোন সিলেটে চালু করল দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউপি সদস্যকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউপি সদস্যকে গ্রেফতারের পর ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় হত্যাসহ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের রামচরণ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজাম উদ্দিন সুখচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানউল্লাহ গ্রামের মৃত সাঈদুল হকের ছেলে এবং ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন ধারায় ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর পুলিশের একটি দল তাকে রামচরণ বাজার থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত পুলিশকে ঘেরাও করে এবং তার স্বজনদের সহায়তায় নিজাম উদ্দিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতারের পর তার স্বজনরা পুলিশকে ঘিরে ধরলে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে পালিয়ে যায়। তাকে পুনরায় গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের কর্তব্যকাজে যারা বাধা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন নেসেটের প্রথম দিনেই স্পিকারকে সরাতে একাট্টা নেতানিয়াহু বিরোধীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


নতুন নেসেটের প্রথম দিনেই স্পিকারকে সরাতে একাট্টা নেতানিয়াহু বিরোধীরা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণের পরিকল্পনা করছে। আগামী মাসে নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরাইলের নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পরেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য বিরোধী নেতারা একাধিক বৈঠক করছেন।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চেঞ্জ ব্লক’ নামের জোটে ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইসরাইল বেইতেনু এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলগুলোর সম্মিলিতভাবে ১২০ আসনের নেসেটে ৬৭টি আসন রয়েছে। তাই ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি জানিয়েছেন, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ওহানাকে সরানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন স্পিকার হিসেবে কাকে বসানো হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে নতুন স্পিকার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিরোধী দলগুলো।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চ্যানেল ১২-তে সেরির সঙ্গে আলাপকালে দ্য ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান বলেন, ২৬তম নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর ‘প্রথম কাজই হবে’ নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধান নিয়োগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্ট শুরু হবে আগামী ১০ নভেম্বর। সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চললেও নির্ধারিত ওই দিনেই নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হবে। নতুন স্পিকার নিয়োগের ভোট নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণের দিনেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে, ইসরাইলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্ত এখনও চলমান।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাসের শেষ দিনে দূষিত শহরের তালিকায় ১৪তম অবস্থানে ঢাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৫ পি.এম


মাসের শেষ দিনে দূষিত শহরের তালিকায় ১৪তম অবস্থানে ঢাকা

জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় এবং বাংলাদেশও এই দূষণের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। চলতি মাসের বেশিরভাগ সময় ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর ছিল। তবে মাসের শেষ দিনে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পিছিয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অবস্থান বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৪তম। এ সময় রাজধানীর বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১১৩, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত। এর আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৪৪। এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাতাসের মানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।

এদিকে, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির বায়ুমান সূচক ৩১০, যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ের দূষণ নির্দেশ করে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের আরেক শহর করাচি, যার বায়ুমান সূচক ১৫৮, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য।

অন্যদিকে, অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের তালিকায় রয়েছে চীনের সাংহাই ও হাংজু এবং উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য শহরের বাতাসও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই, চীনের উহান ও গুয়াংজু, ভিয়েতনামের হ্যানয় ও হো চি মিন সিটি, নেদারল্যান্ডসের রটারডাম, মিশরের কায়রো, কিরগিজস্তানের বিশকেক, আফগানিস্তানের কাবুল, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল এবং বাহরাইনের মানামা।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শহরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুমান সূচক বা একিউআইয়ের মাধ্যমে বাতাসের দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো বলে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০ হলে এটি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত এটি খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে বাতাসের মান ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

বায়ুদূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। তাই দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাইরে গেলে উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু পরিবর্তনে সংকট বাড়ছে, ঝুঁকিতে দেশের পৌনে ২ কোটি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


জলবায়ু পরিবর্তনে সংকট বাড়ছে, ঝুঁকিতে দেশের পৌনে ২ কোটি মানুষ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে উপকূলের জনজীবন, কৃষি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি উচ্চমাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্টে’ বাংলাদেশের জন্য এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চমাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। এতে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশের জিডিপির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে ভূমি দেবে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় বদ্বীপ ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বদ্বীপের কিছু অংশ বছরে ৪ থেকে ৫৫ মিলিমিটার পর্যন্ত দেবে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধুমাত্র বসতভিটা ও কৃষিজমিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে। নিরাপদ পানি, জীবিকা ও বসবাসের অনিশ্চয়তায় উপকূলের একাংশের মানুষ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ছে, স্থানীয় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, অধিক লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে ওই অঞ্চলের নারী ও কিশোরীরা উপকূল ছেড়ে ঢাকা কিংবা অন্য শহরাঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ এই অভিবাসনের ফলে যেসব এলাকায় তারা আশ্রয় নিচ্ছেন, সেখানে নতুন করে পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে কার্যকর পরিকল্পনা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এজন্য জলবায়ু সহনশীল উপাদান ও বীজ ব্যবহার করতে হবে এবং উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় কোথায় এবং কীভাবে আশ্রয় নেয়া যাবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতি থাকতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিজেদের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর শুধু পরিবেশগত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। ফলে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর অভিযোজন উদ্যোগ জরুরি হয়ে উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%