শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৪ পি.এম
বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "এ সরকার গোলামির সরকার না। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ আছে বিশ্বের।"
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন, যা ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার আসার সম্ভাবনা আছে। তা ঋণ বা বিনিয়োগ আকারে আসতে পারে। ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে জাপান থেকে অর্থনৈতিক মিশন আসবে দ্রুতই।"
বিগ বি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-টোকিওর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা হয়েছে। তবে অন্য কোনো দেশের প্রসঙ্গে আলোচনা হয়নি। বিগ বি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ ছিল না।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাপান থেকে এলএনজি আনতে যাননি। তিনি জাপানের এলএনজি টার্মিনাল দেখতে গিয়েছিলেন। কারণ বাংলাদেশও টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, "কোনো ধরনের ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন হিসেবে নয়, বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের সঙ্গে সমান সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এ সরকার গোলামির সরকার না। গত ১৫ বছর গোলামি করে বেড়িয়েছে বিগত সরকার। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ বিশ্বের।"
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মাতারবাড়ি নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবির বলেন, জামায়াতের আমির বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন যৌথ বিবৃতি না পড়েই। তিনি বলেন, "আগে যৌথ বিবৃতিটা পড়েন। পড়ে দায়িত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সুরের বাদ্যযন্ত্র তবলায় তাল ও ছন্দ তুলে একটি রেকর্ড স্থাপন করেছে ভারতের কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার হোন্নাভারার বিস্ময়বালিকা স্বরশ্রী হেগড়ে। মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সে, ১২টি ভিন্ন তাল বাজানোর পাশাপাশি মুখে সেগুলোর বোল আবৃত্তি করে ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ নাম লিখিয়েছে এই ক্ষুদে প্রতিভা।
সাধারণত শাস্ত্রীয় সংগীতের তালগুলো আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন ও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বরশ্রী ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিখুঁত ছন্দজ্ঞান, সমন্বয় এবং হাতের সুনির্দিষ্ট সঞ্চালনে তা আয়ত্ত্বে এনেছে। এই অর্জন সংস্কৃতি অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শুভ্র সাদা ফ্রক পরে তবলা ও মাইক্রোফোনের সামনে বসে আছে স্বরশ্রী। হাজার হাজার দর্শকের সামনে ছোট ছোট হাতে বাজিয়ে শোনাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন তবলার ১২টি তাল।
স্বরশ্রীর পরিবার সংগীতের সাথে যুক্ত। তার বাবা গুরুরাজ হেগড়ে আদুকালা একজন পেশাদার তবলা বাদক এবং মা শ্রিলতা হেগড়ে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। বাবার কাছে শিক্ষার্থীদের তবলা শেখা দেখেই বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মায়।
মেয়ের আগ্রহ দেখে তার বাবা-মা তার জন্য বিশেষভাবে ছোট আকারের দুটি তবলা তৈরি করে দেন, যা দিয়ে সে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে সংগীতচর্চার শুরু। যা এখন অসাধারণ সাফল্যে রূপ নিয়েছে।
এদিকে, স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিশুটির অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে প্রশংসায় মেতেছেন সংগীতজ্ঞ ও নেটিজেনরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে।
প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালব পরীক্ষার যে জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেটি সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে ‘বি-২’ শুরু হয়, যেখানে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করার পর প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায় শুরু হয়। ‘ক্রিটিক্যালিটি’ হচ্ছে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ বা পরমাণু বিভাজন শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে স্থিতিশীল ও নিরাপদ উপায়ে শক্তি উৎপাদন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমও রাশিয়া শুরু করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইঞ্জিনটি ৩ বগি নিয়ে ২ কিলোমিটার সামনে চলে যায়।
এই ঘটনার ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো পুনরায় সংযুক্ত করার পর ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কাওরাইদ ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
মেরামত ও সংযুক্তির কাজ শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী ট্রেনটির ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকা ক, গ ও ঘ নম্বর বগির সঙ্গে পেছনের বগিগুলোর সংযোগকারী হুক ভেঙে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকা তিনটি বগি নিয়ে ট্রেনটি প্রায় দুই কিলোমিটার সামনে চলে যায়।
ওসি আরও জানান, বিষয়টি বুঝতে পেরে চালক ট্রেনটি থামান। পরে পেছনের দিকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর কাছে নেওয়া হয়।
ট্রেনের চালক, পরিচালক ও রেলওয়ে কর্মীদের প্রচেষ্টায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বগিগুলো পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এরপর ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, যোগ করেন ওসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মা ইলিশ রক্ষার জন্য ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সমুদ্র থেকে ইলিশ বোঝাই ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে টনকে টন মাছ নামছে। তবে এসব মাছের একটি বড় অংশ পচা বা অর্ধপচা অবস্থায় রয়েছে। জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা সমুদ্রে মাছ শিকার করেছেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে এবং বরফের অভাবে বিপুল পরিমাণ ইলিশ নষ্ট হয়েছে।
একেকটি ট্রলারকে মাছ শিকারের জন্য সাত থেকে দশ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকতে হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত শত ট্রলার ইলিশ বোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরেছে। তাহলে কি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অবাধে ইলিশ শিকার করা হয়েছে?
সমুদ্র থেকে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে কেউ কেউ জানাচ্ছেন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ শিকার করেছেন তারা। ট্রলারগুলো ইলিশে পূর্ণ হলেও নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় তারা সমুদ্রে ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন মাছ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বরফ না থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পচে গেছে। কিছু ট্রলারে পচন ঠেকাতে মাছ কেটে লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিছু জেলের মাছ শিকারের ঘটনায় সাধারণ মৎস্যজীবীরা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় একটি চক্র নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করেছে। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘাটে অবস্থান করা সাধারণ জেলেরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে চলা জেলেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
কিন্তু কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সালমান বলেন, "টাকা নিয়ে ম্যানেজ হয়ে জেলেদের মাছ শিকারের সুযোগ দেয়া হয়েছে- এ ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।" তবে তিনি জানান, রাতের আঁধারে পালিয়ে সাগরে যেতে পারে। "আমাদের অভিযান প্রতিদিনই ছিল। তবে বিশাল জায়গা এবং অনেকগুলো ঘাটের কারণে একসঙ্গে অভিযান করা বা নজরদারি করা কঠিন। তাই কেউ পালিয়ে যেতে পারে।" তবে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের অভিযোগকে তিনি অসত্য বলেছেন।
ডিম ছাড়ার জন্য প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সাগরের লোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠাপানিতে আসে। এ সময় নির্বিঘ্নে প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২২ দিনের জন্য নদী ও সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এবারের নিষেধাজ্ঞা ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ