ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চাঁদের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা


চাঁদের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন এই প্রকল্পের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

গত জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, রাশিয়া চীনের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁদের গহ্বরের গভীরে জমাট বাঁধা পানি উত্তোলনের জন্য এই চুল্লিগুলোর প্রয়োজন হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই পানি থেকে ভবিষ্যতে চাঁদে ঘাঁটিগুলোর জন্য খাবার পানি, বাতাস এবং রকেটের জ্বালানি পাওয়া যাবে। এছাড়া, চাঁদের ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যও এই চুল্লিগুলো ব্যবহৃত হবে।

আরও পড়ুন: শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিট টিমের আগমন

কোন দেশ কী পরিকল্পনা করছে?

যুক্তরাষ্ট্র জানায় যে, নাসার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই পাঁচ বছর পর্যন্ত চলতে সক্ষম হবে। চুল্লিটি আকারে ছোট এবং বহনযোগ্য হবে, যার ওজন ৬ হাজার কেজির কম। ৩.৭ মিটার লম্বা এবং ৫.৫ মিটার প্রশস্ত রকেটের একটি নির্দিষ্ট অংশে এটি বহন করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, রাশিয়া ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করছে। এটি ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম এবং প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে। ২০৩৬ সালের দিকে এটি চীনের নেতৃত্বাধীন চন্দ্রঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেলেনা চুল্লির ওজন আনুমানিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি হবে। নাসার চুল্লির তুলনায় এটি অনেক হালকা হওয়ায়, চাঁদের পৃষ্ঠে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিরাপদে অবতরণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও

তবে মহাকাশে পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর ঘটনা নতুন নয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৬০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীর কক্ষপথে ৩০টিরও বেশি পারমাণবিক ‘ফিশন চুল্লি’ পাঠিয়েছিল। গুপ্তচর উপগ্রহে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এসব চুল্লি ব্যবহৃত হত।

প্রায় ১ হাজার কেজি ওজনের এসব চুল্লি ইউরেনিয়াম পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে ৩ থেকে ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। যদিও বর্তমানে সেগুলো আর কার্যকর নেই।

গত ৭০ বছরে মহাকাশে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। তবে ১৯৬৫ সালে একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ছাড়া এখন পর্যন্ত সফলভাবে কোনো পারমাণবিক চুল্লি মহাকাশে পাঠাতে পারেনি দেশটি।

ওই পরীক্ষায় পারমাণবিক শক্তি দিয়ে উপগ্রহ পরিচালনার সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছিল। শুরুতে পরীক্ষা সফল হলেও, উপগ্রহের একটি অ-পারমাণবিক বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাত্র ৪৩ দিনের মাথায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেষ এখনো মহাকাশে ভাসছে।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

যুক্তরাষ্ট্রের আগের কয়েকটি মহাকাশ পারমাণবিক প্রকল্প বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে থমকে গিয়েছিল।

কীভাবে চাঁদে নেওয়া হবে পারমাণবিক চুল্লি?

প্রথমে বিজ্ঞানীদের পৃথিবীতে একটি চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) তৈরি করতে হবে, যা পরবর্তীতে একটি রোবোটিক মহাকাশযানের মাধ্যমে চাঁদে নিয়ে যাওয়া হবে। এই মহাকাশযানটি রকেট ইঞ্জিন ব্যবহার করে অত্যন্ত ধীরগতিতে ও সাবধানে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি কমাতে চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। চাঁদের পৃষ্ঠে যথাযথভাবে স্থাপন করার পরই সেগুলো চালু করা হবে।

আরও পড়ুন: শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান

একবার স্থাপন করা হলে চুল্লিগুলো বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলার উপযোগী করে তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে চাঁদে খনিজ উত্তোলন, গবেষণা ও বসবাসের জন্য নির্মিত ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

চাঁদে কেন পারমাণবিক চুল্লি প্রয়োজন?

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় ঘাঁটি নির্মাণ করতে চায়। ওই অঞ্চলে পানির বরফের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। চাঁদের এমন কিছু গহ্বর আছে, যেখানে লাখ লাখ বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছায়নি। এসব স্থানে জমে থাকা বরফকে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চাঁদের ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি, এই চুল্লিগুলো খনির কাজের জন্যও পর্যাপ্ত শক্তি জোগাবে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন চাঁদে জমে থাকা পানি আহরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই পানি থেকে মুক্ত হওয়া উপাদানগুলো চাঁদের সেই ঘাঁটিগুলোতে জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে মানুষ বসবাস করতে ও গবেষণা চালাতে পারবে।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও চাঁদ থেকে অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকনের মতো খনিজ উত্তোলনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা স্যাটেলাইট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়।

তবে চাঁদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত হবে। কারণ চাঁদের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রায় অর্ধেক সময় সূর্যের আলো থাকে না। ফলে প্রতি মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সোলার প্যানেলগুলো অকার্যকর অবস্থায় থাকবে।

ব্যাঙ্গর ইউনিভার্সিটির ‘নিউক্লিয়ার ফিউচারস ইনস্টিটিউট’ (এনএফআই)-এর পরিচালক সাইমন মিডলবার্গ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, চাঁদে কোনো ঘাঁটি স্থাপনের জন্য যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন, তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সৌরশক্তি অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে, ব্যাটারি বা ডিজেল ব্যবহার করাও অত্যন্ত ব্যয়বহুল, কারণ এসবের প্রতিটি জিনিসই পৃথিবী থেকে মহাকাশে পাঠাতে হবে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প। তবে এটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে হবে।

মিডলবার্গের ধারণা, চাঁদের বরফ উত্তোলন এবং ঘাঁটির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে একসঙ্গে তিন থেকে চারটি পারমাণবিক চুল্লির প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

কেন এত তাড়াহুড়া?

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এই প্রতিযোগিতার পেছনে রয়েছে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২০৩০ সালের মধ্যে উৎক্ষেপণের উপযোগী চন্দ্র পারমাণবিক চুল্লি তৈরির নির্দেশ দেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানান।

চলতি বছরের আগস্টে মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, চাঁদে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মিডলবার্গের মতে, ২০৩০ সালের সময়সীমা মূলত চুল্লি তৈরির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হবে সেটিকে নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করানো এবং সেখানে কার্যকরভাবে স্থাপন করা। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পারমাণবিক প্রযুক্তি নয়, বরং উৎক্ষেপণের অনুমোদন, উপযুক্ত উৎক্ষেপণযানের প্রাপ্যতা এবং চাঁদের পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণ ও চুল্লি স্থাপন নিশ্চিত করা।’

পৃথিবীর বাইরে ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রতিযোগিতার মধ্যে চাঁদেও এই প্রতিযোগিতা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ‘অস্ত্র’ মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্র মহাকাশে থাকা মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হবে।

অস্ত্রগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো না হলেও, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এগুলো সরাসরি হামলা চালানোর অস্ত্রের পরিবর্তে মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত করার প্রযুক্তি হতে পারে।

এ ঘোষণার পর মহাকাশকে সামরিক কাজে ব্যবহার এবং জিপিএস, যোগাযোগ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে?

মিডলবার্গ আল জাজিরাকে বলেন, চুল্লিগুলো চালু করার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা শুনতে যতটা ভীতিজনক মনে হয়, বাস্তবে ততটা নাও হতে পারে। কারণ চুল্লিতে ব্যবহারের আগে ইউরেনিয়াম নিজে খুব একটা তেজস্ক্রিয় থাকে না। তবে চুল্লি চালু হয়ে গেলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, চালু অবস্থায় কোনো পারমাণবিক চুল্লি পৃথিবীতে আছড়ে পড়লে ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে।

১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লিবাহী স্যাটেলাইট পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে। এতে কানাডার উত্তরাঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ।

এ ঘটনায় অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ধ্বংসাবশেষ ও অতি ক্ষুদ্র কণা অপসারণে ব্যয়বহুল সামরিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হয়েছিল।

মিডলবার্গের মতে, চাঁদে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয় দূষণ তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট ও সীমিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চাঁদের ‘মালিকানা’ কার?

আইনগতভাবে কোনো দেশই চাঁদের মালিক নয়। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র চাঁদ বা এর কোনো অংশের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারবে না। তবে কোনো দেশ মহাকাশে যে যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম পাঠাবে, সেগুলোর মালিকানা সেই দেশেরই থাকবে। এই চুক্তিতে মহাকাশে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।

লুনার পলিসি প্ল্যাটফর্মের পরিচালক আন্তোনিনো সালমেরি আল জাজিরাকে বলেন, চুক্তির মূলনীতি মেনে চললে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন আইনসম্মত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় দূষণ এড়িয়ে চলা।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাভিত্তিক প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী নরবার্ট শর্গহোফার বলেন, চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে খনিজ উত্তোলনের অধিকার রাখে’।

তবে যে দেশ প্রথমে চাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পানির বরফের উৎসের কাছে পৌঁছাবে, তারা সেখানে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি না করলেও কার্যত অন্য দেশগুলোর প্রবেশ সীমিত করতে পারে।

সালমেরির মতে, কোনো নিরাপত্তা অঞ্চল ঘোষণা করলেই সংশ্লিষ্ট দেশের ভূখণ্ডগত অধিকার তৈরি হয় না। কিন্তু সেখানে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হলে অন্য দেশগুলো তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকির কারণে ওই এলাকায় প্রবেশে অনীহা দেখাতে পারে।

গত মাসে প্রকাশিত লুনার পলিসি প্ল্যাটফর্মের এক প্রতিবেদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তা হলো - চাঁদে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে?

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদ্যমান আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও আইনগত কাঠামো যথেষ্ট নয়। ফলে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের আগে নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা জরুরি।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আসছে, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আসছে, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি

বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং এর কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি তে (ক্রমিক-৪) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

রোববার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে সোমবার (২ নভেম্বর) ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাঙা আঙুল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলা মার্তিনেজ হাত মুঠো করতে পারছেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


ভাঙা আঙুল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলা মার্তিনেজ হাত মুঠো করতে পারছেন না

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেছেন। আঙুলের চোটের কারণে চেলসি গোলরক্ষক বর্তমানে বিপদে রয়েছেন, কারণ তিনি হাত মুঠো করতে পারছেন না।

বিশ্বকাপের আগে মার্তিনেজ আঙুলে চোট পেয়েছিলেন, যখন তিনি অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলছিলেন। তার ডান হাতের অনামিকা আঙুলটি স্থানচ্যুত হয়ে যায়। তবে, অস্ত্রোপচার করে বিশ্বকাপ মিস করার ইচ্ছা তার ছিল না। তাই তিনি চোট নিয়েই খেলার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ খেলার পর আঙুলের অবস্থা কিছুটা ভালো মনে হলেও বর্তমানে তিনি হাত মুঠো করতে পারছেন না।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ বলেন, অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্তটি ছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চোট নিয়েই বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

মার্তিনেজ বলেন, “যদি অস্ত্রোপচার করতাম এবং ছয় সপ্তাহ সুস্থ হওয়ার জন্য সময় পেতাম, তাহলে আঙুলটি আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যেত, অন্য আঙুলগুলোর মতো। কিন্তু এখন এটি সারাজীবন এমনই থাকবে। আমি আর পুরোপুরি হাত মুঠো করতে পারব না।”

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ইতালির সিরি আর একটি ক্লাবে মার্তিনেজের যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আঙুলের চোটের কারণে সেই দলবদল শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। মার্তিনেজ বলেন, “বিশ্বকাপ শেষ হলো। আমি ছুটিতে গেলাম। কিন্তু আমার আঙুলে ব্যথা হচ্ছিল। বিশ্বকাপ শেষ করার সময় আঙুলটি ঠিক জায়গাতেই ছিল। অ্যাস্টন ভিলার চিকিৎসক আমাকে এক্স-রে করাতে বলেছিলেন। পরীক্ষা করার পর দেখা গেল, আঙুলটি আবার মাঝখান থেকে দুই ভাগ হয়ে ভেঙে গেছে। আর তখনই অন্য একটি ক্লাবে যাওয়ার দলবদলটি ভেস্তে যায়।” পরে মার্তিনেজ চেলসিতে যোগ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে নতুন রূপে হান্টার ৩৫০ ও ক্লাসিক ৩৫০ আনল রয়্যাল এনফিল্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


দেশের বাজারে নতুন রূপে হান্টার ৩৫০ ও ক্লাসিক ৩৫০ আনল রয়্যাল এনফিল্ড

বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করতে হান্টার ৩৫০-এর আটটি আকর্ষণীয় মডেল এবং ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর তিনটি নতুন মডেল নিয়ে এসেছে রয়্যাল এনফিল্ড বাংলাদেশ।

প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিশ্বব্যাপী মাঝারি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন (২৫০–৭৫০ সিসি) মোটরসাইকেল খাতে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত রয়্যাল এনফিল্ড বাংলাদেশে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন মডেল উন্মোচন করেছে। এই নতুন মডেলগুলোর মাধ্যমে দেশের বাজারে ব্র্যান্ডটির মোটরসাইকেল মডেলের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ বাংলাদেশের বাজারে রয়্যাল এনফিল্ডের টাইপ-২ ম্যানুফ্যাকচারার ইফাদ মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয় এই দুটি মোটরসাইকেল মডেলে যুক্ত হয়েছে নতুন ও আকর্ষণীয় রঙের সমাহার। এর ফলে গ্রাহকেরা নিজেদের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় রাইডিং অভিজ্ঞতা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।

নতুন হান্টার ৩৫০ পাওয়া যাবে আটটি আকর্ষণীয় মডেল ও রঙে—রেবেল ব্লু (Rebel Blue), ড্যাপার গ্রে (Dapper Grey), লন্ডন রেড (London Red), টোকিও ব্ল্যাক (Tokyo Black), রিও হোয়াইট (Rio White), গ্রাফাইট গ্রে (Graphite Grey), মুনশট হোয়াইট (Moonshot White) এবং মুম্বাই ইয়েলো (Mumbai Yellow)।

নতুন হান্টার ৩৫০-এ যুক্ত হয়েছে অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ, এলইডি হেডলাইট এবং টাইপ-সি ইউএসবি ফাস্ট চার্জিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। উন্নত সাসপেনশন ও আরামদায়ক সিট মোটরসাইকেলটির ব্যবহারিক সুবিধা আরও বাড়িয়েছে। রয়্যাল এনফিল্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক ডিজাইন, সহজ নিয়ন্ত্রণ ও গতিশীল পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে হান্টার ৩৫০ শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলের জন্য একটি আদর্শ মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে, ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন মডেলগুলো পাওয়া যাবে তিনটি আকর্ষণীয় রঙ ও সিরিজে—ডার্ক সিরিজের গান গ্রে (Gun Grey), হেরিটেজ প্রিমিয়াম সিরিজের মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ (Medallion Bronze) এবং ক্রোম সিরিজের এমারেল্ড গ্রিন (Emerald Green)।

রয়্যাল এনফিল্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর অনন্য নকশা ও চিরায়ত আবেদন নতুন মডেলগুলোতেও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ফিচারের সমন্বয়ে মোটরসাইকেলটি আরও ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠেছে। অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ এবং টাইপ-সি ইউএসবি ফাস্ট চার্জিংয়ের মতো সুবিধা দৈনন্দিন যাত্রাকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

নতুন মোটরসাইকেল উন্মোচনের উপলক্ষে ইফাদ মোটরস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তাসকিন আহমেদ মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন মডেলগুলো নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দুটি মোটরসাইকেলেরই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র আবেদন, যা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রাইডারদের পছন্দ ও রুচির প্রতিফলন ঘটায়। নতুন রঙের সংযোজনের ফলে গ্রাহকেরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও পছন্দ অনুযায়ী মোটরসাইকেল বেছে নেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এই মডেলগুলো বাংলাদেশের রাইডারদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ডের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে।”

হান্টার ৩৫০ রয়্যাল এনফিল্ডের একটি আধুনিক রোডস্টার মোটরসাইকেল, যা মূলত কমপ্যাক্ট ডিজাইন, সহজ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজস্ব স্টাইল পছন্দ করেন এমন রাইডারদের জন্য তৈরি। এর স্বতন্ত্র নকশা, আরামদায়ক রাইডিং পজিশন এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা শহরের ব্যস্ত সড়কে চলাচলকে আরও সহজ ও উপভোগ্য করে তোলে। মোটরসাইকেলটিতে রয়্যাল এনফিল্ডের নিজস্ব পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

নতুন হান্টার ৩৫০-এর আটটি মডেল—রেবেল ব্লু, ড্যাপার গ্রে, লন্ডন রেড, টোকিও ব্ল্যাক, রিও হোয়াইট, গ্রাফাইট গ্রে, মুনশট হোয়াইট এবং মুম্বাই ইয়েলো। মার্জিত ও অভিজাত রঙ থেকে শুরু করে উজ্জ্বল ও সাহসী রঙের এই বৈচিত্র্য রাইডারদের নিজস্ব রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেবে।

ক্ল্যাসিক ৩৫০: Stay True. Stay Classic

রয়্যাল এনফিল্ডের ঐতিহ্যবাহী রেট্রো ডিজাইনের সঙ্গে আধুনিক প্রকৌশল ও রাইডারদের সুবিধার্থে সংযোজিত ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি ক্ল্যাসিক ৩৫০। এর অশ্রুবিন্দু আকৃতির (Teardrop-shaped) ফুয়েল ট্যাংক, স্বতন্ত্র হেডল্যাম্প, নান্দনিক মাডগার্ড এবং আইকনিক রূপ ক্ল্যাসিক ৩৫০-কে সড়কে সহজেই আলাদা করে চেনার সুযোগ করে দেয়।

ক্ল্যাসিক ৩৫০-এর নতুন তিনটি মডেল—গান গ্রে, মেডালিয়ন ব্রোঞ্জ এবং এমারেল্ড গ্রিন। এই নতুন রঙগুলো মোটরসাইকেলটির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে এর নকশায় আধুনিকতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নতুন এই মডেলগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাইডারদের জন্য মাঝারি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের বৈচিত্র্যময় সম্ভার নিশ্চিত করার প্রতি রয়্যাল এনফিল্ডের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হলো। প্রতিটি মোটরসাইকেল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘদিনের দর্শন ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ বা মোটরসাইকেল চালানোর বিশুদ্ধ আনন্দকে তুলে ধরে।

নতুন হান্টার ৩৫০ ও ক্ল্যাসিক ৩৫০ এখন সারা দেশে রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত ডিলারশিপগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।

বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহী গ্রাহকেরা তাদের নিকটস্থ রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমোদিত শোরুমে যোগাযোগ করতে পারবেন।

রয়্যাল এনফিল্ড সম্পর্কে

রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বের প্রাচীনতম মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড, যার উৎপাদন কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি আকর্ষণীয় নকশা ও উন্নত কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে মোটরসাইকেল তৈরি করে আসছে। যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৫ সালে ভারতের মাদ্রাজে একটি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করে। এর মাধ্যমে ভারতের মাঝারি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন দুই চাকার যানবাহনের বাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রয়্যাল এনফিল্ড।

রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরসাইকেলগুলো সহজে ব্যবহারযোগ্য, আকর্ষণীয় এবং চালানোর জন্য আনন্দদায়ক। এগুলো রাইডারদের নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। ব্র্যান্ডটি এই দর্শনকে ‘পিওর মোটরসাইক্লিং’ নামে অভিহিত করে।

রয়্যাল এনফিল্ডের প্রিমিয়াম মোটরসাইকেলের সম্ভারে রয়েছে বিয়ার ৬৫০, ক্ল্যাসিক ৬৫০, বুলেট ৬৫০, গেরিলা ৪৫০, হান্টার ৩৫০, মিটিওর ৩৫০, সুপার মিটিওর ৬৫০, ইন্টারসেপ্টর ৬৫০, কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০, শটগান ৬৫০, হিমালয়ান ৪৫০, স্ক্র্যাম ৪৪০, বুলেট ৩৫০, ক্ল্যাসিক ৩৫০ এবং গোয়ান ক্ল্যাসিক ৩৫০।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি শহুরে চলাচলের জন্য নতুন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ‘ফ্লাইং ফ্লি’ উন্মোচন করেছে। এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী নকশার সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

রয়্যাল এনফিল্ড স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে রাইডারদের একটি শক্তিশালী ও উৎসাহী কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতের গোয়ায় আয়োজিত বার্ষিক মোটরসাইকেল উৎসব ‘মোটোভার্স’ (পূর্বনাম রাইডার ম্যানিয়া), যেখানে হাজার হাজার রয়্যাল এনফিল্ডপ্রেমী অংশ নেন। এ ছাড়া ‘হিমালয়ান ওডিসি’ নামে বার্ষিক রাইড আয়োজনের মাধ্যমে রাইডাররা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও বিশ্বের উচ্চতম গিরিপথগুলোর কিছু অংশ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ১,২১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আইশার মোটরস লিমিটেডের একটি বিভাগ হিসেবে পরিচালিত রয়্যাল এনফিল্ডের ভারতে প্রধান শহর ও নগরগুলোতে ২,০৭৪টির বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দুটি বিশ্বমানের কারিগরি উন্নয়নকেন্দ্র রয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্রান্টিংথর্প এবং ভারতের চেন্নাইয়ে। চেন্নাইয়ের কাছে তিরুভোত্তিয়ুর, চেইয়ার, ওরাগাদাম ও ভাল্লাম ভাদাগালে রয়েছে অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা।

বিশ্বজুড়ে রয়্যাল এনফিল্ডের সাতটি আধুনিক সিকেডি (CKD) সংযোজন কারখানা রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ, নেপাল, ব্রাজিল (দুটি), থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় অবস্থিত।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ: [email protected] ও [email protected]

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় ২৪ কেজি গাঁজা ও চোরাই ভ্যানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫১৭ মোবাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


নওগাঁয় ২৪ কেজি গাঁজা ও চোরাই ভ্যানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫১৭ মোবাইল

নওগাঁয় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৪ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে এবং ভ্যান চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ এ সময় ৫১৭টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মান্দা থানা এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান মজুদ রয়েছে— এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রঘুনাথপুর এলাকার আরিফ হোসেনের (৩০) বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তার ঘরের স্টিলের ট্রাংক থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।

এরপর আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মোশারফের তথ্যের ভিত্তিতে বদলগাছী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শিলং (২৩) ও আরাফাত (২৩) নামে আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে মোট ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত ২৬ নভেম্বর বাহাদুর নামে এক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন যে, মধু বিক্রির কথা বলে প্রতারকচক্র নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি থেকে তার একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানটি ভাড়ায় নেয়। পরে চালককে কৌশলে সরিয়ে তারা ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ভ্যানসহ চোর চক্রের মূলহোতা মো. সালাম (৪৮) এবং তার ছেলে মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় হারিয়ে যাওয়া বা মিসিং হওয়া মোট ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%