ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

নওগাঁয় ২৪ কেজি গাঁজা ও চোরাই ভ্যানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫১৭ মোবাইল


নওগাঁয় ২৪ কেজি গাঁজা ও চোরাই ভ্যানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৫১৭ মোবাইল

নওগাঁয় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৪ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক কারবারিকে এবং ভ্যান চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ এ সময় ৫১৭টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মান্দা থানা এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান মজুদ রয়েছে— এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রঘুনাথপুর এলাকার আরিফ হোসেনের (৩০) বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তার ঘরের স্টিলের ট্রাংক থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে বিএনপির প্রয়াত নেতা-কর্মীদের স্মরণে সভা ও দোয়া মাহফিল

এরপর আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মোশাররফকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মোশারফের তথ্যের ভিত্তিতে বদলগাছী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শিলং (২৩) ও আরাফাত (২৩) নামে আরও দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে মোট ২৪ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত ২৬ নভেম্বর বাহাদুর নামে এক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন যে, মধু বিক্রির কথা বলে প্রতারকচক্র নওগাঁ শহরের গোস্তহাটি থেকে তার একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানটি ভাড়ায় নেয়। পরে চালককে কৌশলে সরিয়ে তারা ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই ভ্যানসহ চোর চক্রের মূলহোতা মো. সালাম (৪৮) এবং তার ছেলে মো. নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময় হারিয়ে যাওয়া বা মিসিং হওয়া মোট ৫১৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিবসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রত্যেক দোকানদারকে নিজস্ব ডাস্টবিন রাখতে হবে: চসিক প্রশাসক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইওনিয়ার ব্যাংকের নিলামে বিক্রি হওয়া ২৬৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


পাইওনিয়ার ব্যাংকের নিলামে বিক্রি হওয়া ২৬৮ শতাংশ জমি হস্তান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবলুপ্ত ‘পাইওনিয়ার ব্যাংক লিমিটেড’-এর নিলামে বিক্রি হওয়া ৩৭৩ শতাংশ ভূসম্পত্তির মধ্যে ২৬৮ শতাংশ জমি, যা মামলা জটিলতামুক্ত, ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমিশনের মাধ্যমে ১১ জন সর্বোচ্চ বিডকারীর (ক্রেতা) নিকট জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।

জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর-১ ও ডেপুটি গভর্নর-২।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৭ সালের ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের এক আদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাইওনিয়ার ব্যাংকসহ মোট ১৭টি অবলুপ্ত ব্যাংকের ‘অফিশিয়াল লিকুইডেটর’ (সরকারি অবসায়নকারী) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের নির্দেশনার ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী জমি বিক্রয় এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পায় অফিশিয়াল লিকুইডেটর।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খেওড়া মৌজায় অবস্থিত পাইওনিয়ার ব্যাংকের ৩৭৩ শতাংশ জমি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিয়োজিত একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের পরিচালনায় খোলা ডাকে নিলাম করা হয়।

তবে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কিছু অবৈধ দখলদার উক্ত জমির মধ্যে ১০৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেন। এ পরিস্থিতিতে মামলাধীন ১০৫ শতাংশ জমি বাদ দিয়ে বাকি ২৬৮ শতাংশ জমি সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার অনুমতির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ ২৬৮ শতাংশ জমির রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশ বাস্তবায়নেই আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে জমি হস্তান্তর করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তীর্ণ সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ লাখ আসন, উচ্চশিক্ষায় সংকট নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


উত্তীর্ণ সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৫ লাখ আসন, উচ্চশিক্ষায় সংকট নেই

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো আসন সংকট দেখা দেবে না।

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজসমূহের সম্মিলিত ভর্তির সুযোগ প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে, যা এইচএসসিতে উত্তীর্ণ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, এই বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, এর মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট আসনের সংখ্যা ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসস’কে জানিয়েছেন, এ বছর মোট পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। তিনি বলেন, "উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ লাখ আসন রয়েছে, যেখানে এ বছর পাস করেছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব মানদণ্ড ও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট থাকবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে।"

ইউজিসি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি সরকারি (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি আসনের মধ্যে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং এগুলোর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটে মোট আসন রয়েছে ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি আসনের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬,১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩,৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪,০৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,৮৪৮টি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২,৫১৫টি এবং অন্যান্য সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য আসন রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১,৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১,২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১,১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,০৩৪টি এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি আসনও রয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানে সিংহভাগ আসন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজসমূহে রয়েছে, যেখানে আসনের সংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১১ হাজার ৫৫টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির মোট আসন রয়েছে ১১ হাজার ২৯০টি।

ইউজিসি জানিয়েছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫,১০০টি, ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬,০০১টি, ৯টি সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, ২৮টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১,৪৯০টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেলে মোট ৩৭৫টি আসন রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিকভাবে দেশে বিপুল পরিমাণ আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের তুমুল প্রতিযোগিতা হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসন এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর জন্য। এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় তারা মূলত প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির অগ্রাধিকার লড়াইয়ের জন্য নামবে।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভর্তিচ্ছু সব শিক্ষার্থীই তাদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানালেন বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানালেন বাসসের প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সততা ও সত্যকে সমুন্নত রেখে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি মন্তব্য করেন, সাংবাদিকতায় প্রতিযোগিতা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গতি বা তাড়াহুড়ার চেয়ে সত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

রোববার বাসস কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার জেলা প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের গনি চৌধুরী এসব কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সাংবাদিকরা অনেক সময় অন্যের আগে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেন, যা সাংবাদিকতা এবং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

তিনি যে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট-চেকিং) গুরুত্ব তুলে ধরে বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচুর ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাধারণ পাঠক বা দর্শকরা যাতে সহজেই বিশ্বাস করেন- এমনভাবে বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে।

তবে একজন সাংবাদিককে অবশ্যই তথ্যের উৎস যাচাই এবং সত্য অনুসন্ধান করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এটিই মূল পার্থক্য।

খবর সবার আগে প্রচারের তাড়াহুড়ায় অনেক গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে বলেও অভিযোগ করেন কাদের গনি চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কিংবদন্তি সাংবাদিক আতাউস সামাদ জীবিত থাকা অবস্থাতেই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল তার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিল। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকতার পেশার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকতাকে সত্যের সাধনা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মিথ্যার সঙ্গে কখনও আপস না করাই সাংবাদিকতার মূল নীতি।

বাসসের জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একসময় মানুষ বাসস সাংবাদিকদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখত। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাসস এখন অনেক তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়মিত প্রকাশ করছে।

জেলা প্রতিনিধিদের নিজ এলাকা থেকে আরও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং সংবাদের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রতিনিধিদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তারা অত্যন্ত স্বল্প বেতনে কাজ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন বাসসের প্রধান প্রতিবেদক (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন। এ ছাড়া সভায় বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী এবং অডিও-ভিজুয়াল ইনচার্জ তাহমিনা নুপুর জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাসসের সিটি এডিটর হারুন আল নাসিফ, ন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ শারমিন জাহান অজান্তা এবং প্রধান প্রতিবেদক (বাংলা) দিদারুল আলম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় আলেম-উলামাদের ছয় দফা প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষায় আলেম-উলামাদের ছয় দফা প্রস্তাব

কওমি মাদ্রাসার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অপপ্রচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে আলেম-উলামারা ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ইসলামি আইন সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মুফতি বশিরুল্লাহ, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ ও ইসলামি আদর্শ প্রচারের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।"

সভায় সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, "বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়।" তবে শিশু নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ধামাচাপা দেয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করা হয়।

প্রস্তাবিত ছয় দফার মধ্যে রয়েছে-- স্বাধীন তদন্ত সেল গঠন, ভুক্তভোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু, শিশু সুরক্ষা নীতিমালা ও সিসিটিভি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা যাচাই, বালিকা মাদ্রাসায় নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদ্রাসাগুলোর নিবন্ধন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, "দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।"

সভা থেকে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সরকারকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া আলেম-উলামাদের অহেতুক হয়রানি বন্ধের দাবিও জানানো হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%