ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও


দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সাম্প্রতিক ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ চতুর্দশ লিও।

এটি কয়েক দশকের মধ্যে একটি উচ্চাভিলাষী বিদেশ সফর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

৭১ বছর বয়সী পোপের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে ক্যানসারের টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

১১ দিনের দক্ষিণ আমেরিকা সফরের জন্য তাকে শারীরিকভাবে উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী ৬ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফর নিয়ে পোপ লিও তার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার জীবনের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত যে মহাদেশে কেটেছে, সেখানে আবার ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

আরও পড়ুন: শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান

এই সফরে পোপকে ১২টি উড়োজাহাজযাত্রা, দুটি হেলিকপ্টারযাত্রা এবং আন্দিজ পর্বতমালার উচ্চতায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নিতে হবে।

লাখ লাখ ক্যাথলিক অনুসারী পোপকে একনজর দেখার জন্য সমাগম হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সফরের সময় তিনি ধর্মীয় ও যাজকীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তাদের মধ্যে আছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপ এখনও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সুস্থতার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। তবুও, উন্মুক্ত স্থানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় সমাবেশ থেকে শুরু করে আমাজন অঞ্চলের আদিবাসী জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ— সব মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও পোপ লিওকে নিয়ে বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার হোয়াইট এএফপিকে বলেন, ‘এটি হবে পোপ হিসেবে লিওর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সফর।’

তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রোপচার না হলেও এই সফরটি বেশ ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং হতো। এখন তার শারীরিক অবস্থার কারণে সফরটি আরও বেশি পর্যবেক্ষণের মুখে পড়বে।’

বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের ধর্মীয় নেতা হিসেবে পোপ তার সফর শুরু করবেন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ উরুগুয়ে দিয়ে। সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন দেশটির বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি।

উরুগুয়ের উদারনৈতিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে সমলিঙ্গের বিয়ে, গর্ভপাত ও স্বেচ্ছামৃত্যু অন্তর্ভুক্ত। গত বছর দেশটিতে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধতা পেয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে পোপ লিও জীবনের সুরক্ষার পক্ষে বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

এরপর তিনি যাবেন আর্জেন্টিনায়, যা তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের জন্মভূমি। পোপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ দেশে সফর না করায় অনেক আর্জেন্টাইন নাগরিকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল।

কর্মকর্তাদের ধারণা, পোপ লিওকে স্বাগত জানাতে প্রায় ৭০ লাখ তীর্থযাত্রী সমবেত হবেন।

বুয়েনস এইরেসে পোপের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি ডানপন্থী উদারনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। সাবেক পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।

পোপ লিওর সঙ্গে মিলেইয়ের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে কম উত্তপ্ত হলেও দেশটির ক্যাথলিক চার্চের নেতারা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রেসিডেন্টের নেওয়া পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

তাদের মতে, এসব পদক্ষেপের বড় মানবিক মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের লাখ লাখ মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

দক্ষিণ আমেরিকা সফরের শেষ পর্বে পোপ লিও যাবেন তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ও নিজের নাগরিকত্বের দেশ পেরুতে। সেখানে তার প্রত্যাবর্তন আবেগঘন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোপের জীবনী লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাটিকান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এলিস অ্যান অ্যালেন এএফপিকে বলেন, ‘আমি জানি, তিনি পেরুতে ফিরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ব্যক্তিগতভাবে এই সফর তার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

পোপ চতুর্দশ লিও হওয়ার আগে তার নাম ছিল রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। তিনি প্রায় দুই দশক পেরুতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটির উপকূলীয় শহর চিকলায়োর বিশপ বা যাজক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

আরও পড়ুন: ভুটানে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার অংশে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া বিশ্বের প্রথম পোপ ও পেরুর নাগরিকত্বধারী লিও দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি একটি মরুভূমির সমতল ভূমিতে ধর্মীয় প্রার্থনা পরিচালনা করবেন।

এরপর তিনি সাবেক ইনকা সাম্রাজ্যের রাজধানী কুসকো ও আমাজন অরণ্যের শহর পুকালপা সফর করবেন।

পেরুর রাজধানী লিমায় তিনি দেশটির ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরির সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি দেশটির প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে।

তার বাবা দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে কারাবন্দি হয়েছিলেন। কেইকো এখনো তার বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

পেরুর বিভিন্ন সংকট নিয়েও পোপ কথা বলতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বেড়ে চলা অপরাধপ্রবণতা, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোকেন উৎপাদন ও বাণিজ্য এবং এর ফলে আদিবাসী জনগণের ওপর পড়া প্রভাব।

এ ছাড়া দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অভিবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দিতে পারেন তিনি।

গত এক দশকে কেইকো ফুজিমোরি দেশটির নবম রাষ্ট্রপ্রধান। বর্তমানে পেরুতে প্রায় ১৬ লাখ ভেনেজুয়েলার নাগরিক বসবাস করছেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কুসকো শহরে পোপের সফর হবে সংক্ষিপ্ত— তিন ঘণ্টারও কম। তবে তার স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে এই সফর বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। অস্ত্রোপচারের পর পোপ তার ক্যানসারের ঝুঁকিকে যথাযথভাবে বিবেচনা করছেন কি না, নাকি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন— তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ফটোকার্ডে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত: বাংলাফ্যাক্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসম্পূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ফটোকার্ডে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত: বাংলাফ্যাক্ট

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : কিছু গণমাধ্যম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অসম্পূর্ণ বক্তব্যের ভিত্তিতে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে। এই বিষয়টি চিহ্নিত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ’-এর প্রথম পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে উল্লেখ করেন, ‘ইন্টেরিম গভর্মেন্টের সময় যে জুলাই জাতীয় সনদ হল তার কি কোন আইনি ভিত্তি আছে? না। কিন্তু এর রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চাইতেও বেশি।’

কিছু সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের কেবল ‘আইনি ভিত্তি নেই’ অংশটুকু শিরোনামে উল্লেখ করেছে, যার ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

স্টার নিউজ ফটোকার্ডে প্রকাশ করে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’। একই শিরোনামে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে চ্যানেল২৪ এবং দৈনিক ইনকিলাব। দেশ টেলিভিশন ও দৈনিক ইত্তেফাক ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ শিরোনামে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে।

এ ধরনের ফটোকার্ড ও শিরোনামের কারণে অনেকেই এটিকে জুলাই সনদবিরোধী বক্তব্য হিসেবে মনে করছেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী বাক্যে বলেছেন, ‘এর (জুলাই সনদের) রাজনৈতিক সমঝোতাটা আইনি ভিত্তির চাইতেও বেশি।’

'বাংলাফ্যাক্ট' প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হতাশ হওয়ার কিছু নেই, শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান হলেই ফলাফল ভালো হবে: এনইউ ভিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


হতাশ হওয়ার কিছু নেই, শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান হলেই ফলাফল ভালো হবে: এনইউ ভিসি

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে হতাশ হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নবান হন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান আন্তরিক হলে আগামীতে পাসের হার স্বাভাবিক ও ভালো হবে। শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও করণীয় বিষয়ে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি উল্লেখ করেন, এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়াকে ‘ফলবিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে মূল্যায়ন ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা আনা হচ্ছে, ফলাফলে তার একটি সাময়িক প্রভাব দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দোষারোপ না করে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা এখন বুঝতে পেরেছে যে পাস করতে হলে তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে হবে।

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর মূল্যবান শিক্ষাজীবন রক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া ও পূর্ণাঙ্গ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি সাধুবাদ জানান।

ড. আমানুল্লাহ বিশ্বাস করেন, শিক্ষামন্ত্রীর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থীদের এক বছর নষ্ট হবে না এবং এতে পাসের হার অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মনোবল জোগাতে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের উচিত একসঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা।

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করে ছুটির দিনে কিংবা নিয়মিত সময়ের বাইরে প্রয়োজনে বিনা সম্মানীতে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তাদের তৈরি করতে হবে।

ড. আমানুল্লাহ মন্তব্য করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্কার উদ্যোগ এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় টেকসই ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাসের হার সাময়িক কমলেও আগামী পরীক্ষাগুলোতে সার্বিক পাসের হার ও শিক্ষার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে বিজিবিকে নিয়ে পুরোনো অপপ্রচার শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে বিজিবিকে নিয়ে পুরোনো অপপ্রচার শনাক্ত

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট বিজিবিকে নিয়ে অপপ্রচার শনাক্ত করেছে, যা সীমান্তে আরাকান আর্মিকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার পুরোনো ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, বিজিবিকে নিয়ে এই অপপ্রচারটি পুরোনো ভিডিওর মাধ্যমে করা হয়েছে, যেখানে সীমান্তে আরাকান আর্মিকে অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধান টিম জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, যার ক্যাপশনে বলা হয়েছে, 'হঠাৎ বিজিবির সামনে ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি!'

যাচাই করে বাংলাফ্যাক্ট দেখতে পায়, ভিডিওটি বিজিবির সামনে ইউপিডিএফের অস্ত্র হাতে উপস্থিতির ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি জানার পর বিজিবির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় পেলো শেষ ঠিকানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বরিশালের মান্তা সম্প্রদায় পেলো শেষ ঠিকানা

বরিশাল, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে নৌকায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী হলো মান্তা সম্প্রদায়। এ মান্তা সম্প্রদায়ের নদীই তাদের ঘর, আর নৌকা তাদের ঠিকানা। জীবিকার তাগিদে যারা কাটে ভাসমান জীবন—মৃত্যুর পর স্বজনদের শেষ বিদায় জানাতে তাদের পড়তে হতো চরম অনিশ্চয়তায়।

স্থায়ী কবরস্থান না থাকার কারণে প্রিয়জন হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হতো দাফনের জায়গা খুঁজে বের করার অসহনীয় দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগ। বরিশালের নদীনির্ভর মান্তা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে এবার এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি স্থায়ী কবরস্থান।

নদীর বুকে জীবন, মৃত্যুর পরও ছিল না নিশ্চয়তা:

বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট, চরবাড়িয়া ও আশপাশের নদ-নদীতে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছে মান্তা সম্প্রদায়। নৌকাকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন-জীবিকা। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা এ জনগণের অনেকেরই স্থায়ী বসতভিটা নেই। প্রতিকূল প্রকৃতি, আর্থিক সংকট ও নানা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করেই কাটে তাদের প্রতিদিনের জীবন।

কিন্তু জীবনের সংকটের পাশাপাশি মৃত্যুর পর দাফনের জায়গা না পাওয়ার কষ্ট ছিল আরও নির্মম। স্বজন হারানোর মুহূর্তে যেখানে শেষ বিদায় জানানোর কথা, সেখানে উপযুক্ত কবরস্থানের অভাবে তাদের পড়তে হতো অনিশ্চয়তায়। কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিও তৈরি হতো।

মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্থায়ী কবরস্থানের অভাব এবং শুধু জমির সংকট ছিল না; এটি ছিল মানবিক মর্যাদা, ধর্মীয় রীতি পালন ও স্বজনদের শেষ বিদায় জানানোর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

এক একর জমিতে আশার নতুন ঠিকানা:

মান্তা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় কবরস্থান স্থাপনের কাজ চলছে। উপজেলার সিংহেরকাঠী আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন খাসজমিতে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এ কবরস্থানটি।

উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের স্বজনদের দাফনের জন্য পাবেন একটি নির্দিষ্ট স্থান। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মৃত্যুর পর প্রিয়জনকে সম্মানজনকভাবে সমাহিত করার সুযোগ তৈরি হবে তাদের জন্য।

শুধু মান্তা সম্প্রদায় নয়, কবরস্থানটি ছিন্নমূল যেকোনো মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নদীনির্ভর প্রান্তিক জনগণের পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের জন্যও এটি হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।

বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের সরদার জসিম সর্দার ও জাকির হোসেন বাসসকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে নৌকায় বসবাস করছি। আমাদের নিজেদের স্থায়ী কোনো বসতভিটা নেই। পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে কোথায় দাফন করব, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। অনেক সময় দাফনের জন্য অন্যের জমির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। স্থায়ী কবরস্থান না থাকায় আমাদের এ কষ্ট দীর্ঘদিনের।

তারা বলেন, উপজেলা প্রশাসন আমাদের জন্য কবরস্থানের ব্যবস্থা করায় আমরা আনন্দিত। এটি চালু হলে মৃত্যুর পর অন্তত স্বজনদের সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে পারব। আমরা চাই, দ্রুত কবরস্থানটির নির্মাণকাজ শেষ করে এটি ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।’

দ্রুত উদ্বোধনের আশা প্রশাসনের:

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বাসসকে বলেন, কবরস্থানটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মান্তা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ছিন্নমূল যেকোনো মানুষও কবরস্থানটি ব্যবহার করতে পারবেন। পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতাও কাম্য।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে মান্তা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানের পথে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কবরস্থানটি পুরোপুরি চালু হলে এর প্রকৃত সুফল পাবেন সেই মানুষগুলো, যাদের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে নদীর বুকে, আর মৃত্যুর পর স্বজনদের শেষ আশ্রয়টুকু নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা।

শেষ বিদায়ে মিলবে একটুকরো মাটি:

মান্তা সম্প্রদায়ের জীবন নদীর সঙ্গে বাঁধা। নদীই তাদের জীবিকা, নদীই তাদের বসবাসের পরিসর। কিন্তু নদীর বুকে ভাসমান এ জীবনেও মৃত্যুর পর স্বজনদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানের নিশ্চয়তা থাকা জরুরি।

সিংহেরকাঠীতে প্রায় এক একর জমিতে নির্মাণাধীন কবরস্থানটি চালু হলে সেই নিশ্চয়তার পথ খুলবে। দীর্ঘদিনের দাফন সংকট থেকে স্বস্তি পাবেন নদীনির্ভর প্রান্তিক জনগণের এ মানুষজন। প্রিয়জন হারানোর শোকের মুহূর্তে অন্তত দাফনের জায়গা খুঁজে বের করার অসহায়তা পোহাতে হবে না তাদের।

নদীতে যাদের জীবন কাটে, মৃত্যুর পর তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানা হবে একটুকরো মাটি—বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে তেমনই এক মানবিক প্রত্যাশার নাম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%