ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান


শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সিঙ্গাপুর, যা ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দেশ’ হিসেবে পরিচিত, বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার বিকল্প খুঁজতে বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এ পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে শীতলীকরণ কয়েলযুক্ত বিম, প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহনির্ভর শীতলীকরণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি, যেগুলোর উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ-নিবিড় এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরতা কমানো।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরে মাথাপিছু এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের হার সর্বাধিক। দেশটির প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক ভবনে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বিদ্যমান।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের মোট কার্বন নিঃসরণের এক-পঞ্চমাংশ স্থানীয় ভবন খাতের কারণে ঘটে। অন্যদিকে, একটি ভবনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ শীতলীকরণে ব্যয় হয়।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও

শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর দেশের নির্ভরতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিখ্যাত অর্চার্ড রোড ধরে হাঁটলে। দোকানের দরজা খুললেই ভেতরের শীতল বাতাস রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। সিঙ্গাপুরে সারা বছর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, ফলে এই শীতল বাতাস বিশেষ স্বস্তি দেয়।

তবে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে তাপের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। যন্ত্রের কম্প্রেসর থেকে নির্গত গরম বাতাস পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ায়। এছাড়া, এসব যন্ত্র চালাতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হয়, তবে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি

সিঙ্গাপুরের কিছু ভবনে প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ‘অ্যাকটিভ চিলড বিম’ (এসিবি)। এই প্রযুক্তিতে ছিদ্রযুক্ত প্যানেলের মধ্যে শীতলীকরণ কয়েল থাকে, যা ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

ভবনের উপরের তলায় অবস্থিত একটি শীতলীকরণ কেন্দ্রে পানি ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করা হয়। এরপর পাম্পের মাধ্যমে সেই পানি কয়েলের মধ্যে প্রবাহিত করা হয়। একসাথে, বিমের ভেতরে থাকা ছোট ছোট নজলের মাধ্যমে বাতাস প্রবাহিত হয়।

এই বায়ুপ্রবাহের ফলে নিম্নচাপের একটি অঞ্চল তৈরি হয়, যা নিচের কক্ষের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ বাতাসকে টেনে নেয়। বাতাসটি শীতলীকরণ কয়েলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঠান্ডা হয় এবং পরে আবার কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আটতলা ‘পায়া লেবার গ্রিন’ ভবনের অফিসকক্ষের তাপমাত্রা আরামদায়ক ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হয়। ভবনটিকে সিঙ্গাপুরের অন্যতম পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এএফপির একটি প্রতিনিধি দল ভবনটি পরিদর্শনকালে ছাদের মসৃণ সাদা প্যানেলগুলো থেকে প্রবাহিত শীতল বাতাস অনুভব করে। প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের মতো একটানা যান্ত্রিক শব্দও এ ব্যবস্থায় শোনা যায় না।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

মানবসম্পদ পেশাজীবী রেনুগা শেখর গত বছরের নভেম্বরে পায়া লেবার গ্রিনের একটি অফিসে কাজ শুরু করেন। ৩০ বছর বয়সী রেনুগা ও তাঁর সহকর্মীরা প্রথমে ছাদের খোলা পাইপ ও প্যানেল দেখে ভেবেছিলেন, জায়গাটির সাজসজ্জা অনেকটা গুদামের মতো।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু ভাবিনি। কেউ এ নিয়ে মন্তব্যও করেননি।’

কয়েক মাস পর তারা অফিসের অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ করেন। রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রযুক্তিবিদদের মুখে ‘এসিবি’ শব্দটি শোনার পর তারা জানতে পারেন, অফিসটি অ্যাকটিভ চিলড বিম প্রযুক্তিতে ঠান্ডা রাখা হয়।

রেনুগা বলেন, ‘শীতলীকরণ ব্যবস্থাটি এতটাই স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন ছিল যে, এটি কতটা ভিন্ন, তা আমরা বুঝতেই পারিনি। তাপমাত্রাও অফিসের সবার জন্য আদর্শ।’

আরও পড়ুন: ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

ভবনটির নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি আর্কিটেক্টসের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এই ব্যবস্থা ৩০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলের তুয়াস বন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি রক্ষণাবেক্ষণ ভবনেও বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে রয়েছে ‘প্যাসিভ ডিসপ্লেসমেন্ট কুলিং’ ব্যবস্থা, যা যান্ত্রিক পাখার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগায়।

এ ব্যবস্থায় ছাদের শীতলীকরণ কয়েল বাতাসকে ঠান্ডা করে। ঠান্ডা বাতাস নিচে নেমে আসে এবং উষ্ণ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আবার ওপরে উঠে কয়েলের কাছে পৌঁছায়।

এভাবে চলমান বায়ুপ্রবাহের চক্র তৈরি হয়, যা পাখার প্রয়োজন কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শব্দদূষণও হ্রাস করে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

শীতলীকরণের আরেকটি বিকল্প হলো ‘রেডিয়েন্ট কুলিং’। এ ব্যবস্থায় ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা করা পানি পাইপ বা প্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু থেকে বিকিরিত তাপ শোষিত হয় এবং আশপাশের তাপমাত্রা কমে আসে।

শীতলীকরণের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের উদ্যোগে সরকারেরও সমর্থন রয়েছে।

২০২৪ সালে সরকারের এক গবেষণায় বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তিকে (এসিটি) গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে শীতলীকরণ খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: ভুটানে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার অংশে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ

দেশটির ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি সরকারি ও ১৪টি বেসরকারি ভবনে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে সিঙ্গাপুরের।

তবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে অভ্যস্ত মানুষের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য করে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সমর্থকেরা স্বীকার করেন, প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এসব ব্যবস্থা স্থাপনে বেশি খরচ হয়। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে পরিচালন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি সাশ্রয় সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প হলো হাইব্রিড কুলিং। এতে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেখে সঙ্গে পাখা ব্যবহার করা হয়।

ডিপি আর্কিটেক্টসের পরিচালক চুয়া জি জুন বলেন, ‘সবাই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসে কাজ করতে বেশি অভ্যস্ত। তাই হঠাৎ করে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মেনে নেওয়ার মতো মানসিক পরিবর্তন এখনো সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্যতার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়তে থাকায় শীতলীকরণের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারে বাষ্প-সংকোচন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এতে রেফ্রিজারেন্টের সাহায্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাপ সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তিও একই মৌলিক নীতির ওপর কাজ করে। তবে এসব প্রযুক্তিতে ঠান্ডা বাতাস সরাতে কম বিদ্যুৎ ব্যয় করা হয় অথবা কিছুটা বেশি তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যন্ত্র চালানোর সময় কমানো হয়।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির শীতলীকরণ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ওয়ান ম্যান পুন বলেন, ‘প্রযুক্তিগুলো সঠিক পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রতিনিধিত্ব করে। ভবিষ্যতে এতে আরও উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্ত করা উচিত, যার মধ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থাও থাকবে। কক্ষ অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হওয়ার আগেই এসব ব্যবস্থা তাপমাত্রা সমন্বয় করতে পারবে।’

তবে তিনি বলেন, ‘বাষ্প-সংকোচন প্রযুক্তির তুলনায় বেশি কার্যক্ষমতা বা দক্ষতা রয়েছে—এমন কোনো বিকল্প শীতলীকরণ পদ্ধতি আমরা এখনো খুঁজে পাইনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টায় ১,৮১০ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টায় ১,৮১০ মামলা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গত ২৪ ঘণ্টায় ১,৮১০টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

শনিবার, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এই মামলাগুলি করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৬৩টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৮১টি, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৪১৩টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৯৫টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ২৮৪টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩০৪টি এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩০৩টি মামলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন ৪৯৮টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৮১টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির মামলায় কামালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৩ নভেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


দুর্নীতির মামলায় কামালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২৩ নভেম্বর

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদ্দাছির খান জ্যোতি এবং মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৩ নভেম্বর আদালত নির্ধারণ করেছেন।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ছিল। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য তিনি সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন গ্রহণ করে আগামী ২৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

শুনানির সময় কারাগারে থাকা শাফি মোদ্দাছির খান জ্যোতিকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজন পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে আসাদুজ্জামান খান কামালসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাদুজ্জামান খান একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অসাধু উপায়ে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১৬২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এছাড়া, এই আসামি ৯টি ব্যাংক হিসাবে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ সংঘটনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর বা স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ৩ মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


সরকার ৩ মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পেয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর ইটভাটা রয়েছে, যা থেকে ব্ল্যাক কার্বনের নির্গমন হচ্ছে।

ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ ইটভাটা থেকে আসে। উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০০টি কাঠভিত্তিক ভাটা বন্ধ করে কংক্রিট ব্লক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দূষণ কমানো সম্ভব হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। কাজটি কঠিন হলেও পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ইটভাটা বন্ধ না হলে বায়ুর মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ট্রান্স-বাউন্ডারি দূষণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ সীমান্ত অতিক্রম করে আসে। ভারতের ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য কঠিন।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। এগুলো প্রকৃতিভিত্তিক বায়ুদূষণ সমাধানের উপাদান।

নদী দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শিল্পবর্জ্য, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন এসব নদীতে পড়ছে। ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সরকার নিরলস কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনার টিপনায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


খুলনার টিপনায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট

খুলনা, ১ নভেম্বর ২০২৬ : ময়লা-আবর্জনা এবং ফেলনা জিনিসকে আর অবহেলা করা হবে না, বরং সেগুলি থেকে তৈরি হবে বহুমুখী সম্পদ! বাড়িঘর ও বাজারের ফেলে দেওয়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত হবে মূল্যবান জৈব সার ও মাছের খাবার। পরিবেশ দূষণ রোধ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আনতে ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি কমিউনিটিভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন এলাকার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০০০ মানুষ।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্ল্যান্টটির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাত্র ১৫টি মডেল গ্রামের মধ্যে ডুমুরিয়ার টিপনা গ্রাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিই এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় টিপনা গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের বসতবাড়ি থেকে গৃহস্থালির বর্জ্য বা হাউজহোল্ড ওয়েস্ট সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক প্ল্যান্ট নির্মাণ করে সেই বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাছের লার্ভা বা খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়ক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করে তা বিক্রি করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে, এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। আয়ের একটি সুযোগ তৈরি হবে। এটি বর্তমানে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সফলতা সাপেক্ষে বাজার এলাকাগুলোতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বীকৃত ‘ত্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হবে। ফলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রতিটি উপাদানকে উৎপাদন কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িঘর ও বাজার থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মানসম্মত জৈব সার। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে লার্ভা উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আনবে চমৎকার পরিবর্তন। এতে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষি ও মৎস্যখাতে সাশ্রয়ী বিকল্প উপাদানের জোগান নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। কৃষিতে জৈব সার এবং মৎস্য খাতে দেশীয় খাবার ব্যবহারের ফলে চাষিদের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমে আসবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বাসসকে বলেন, ‘আধুনিক এই প্ল্যান্টটি চালুর মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি এলাকার ৬ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, টিপনা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গ্রামের ২৪০টি পরিবারে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট। পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল। নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনে দিয়েছে স্বস্তি।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বাসসকে বলেন, ‘সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপাদনের এই মডেল শুধু টিপনা নয়, পুরো ডুমুরিয়ার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদস্বরূপ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%