ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীন থেকে আসা পার্সেলের ওপর নতুন দুই ইউরো শুল্ক কার্যকর


ইউরোপীয় ইউনিয়নে চীন থেকে আসা পার্সেলের ওপর নতুন দুই ইউরো শুল্ক কার্যকর

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রোববার থেকে চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ছোট পার্সেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন হ্যান্ডলিং ফি চালু করেছে।

জোটের বাইরের দেশগুলো থেকে আসা প্রতিটি পার্সেলের ওপর দুই ইউরো (২ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার) ফি আরোপ করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও

ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে ও বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন এই ফি কার্যকর হলো। এর ফলে ছোট পার্সেলের ওপর আগে থেকে আরোপিত তিন ইউরো শুল্কের পাশাপাশি নতুন করে দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে।

কীভাবে কার্যকর হবে নতুন ফি?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো দেশ থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পাঠানো পার্সেলে থাকা প্রতিটি ধরনের পণ্যের ওপর এ ফি প্রযোজ্য হবে। পার্সেলের মূল্য যাই হোক, এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পার্সেলে ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে এর জন্য দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি দিতে হবে। তবে যদি একই পার্সেলে দুটি টুপি ও ১০টি টি-শার্ট থাকে, তাহলে দুটি ভিন্ন ধরনের পণ্য থাকায় ফি দিতে হবে চার ইউরো।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম মূল্যের ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপ করেছিল ইইউ। নতুন দুই ইউরো ফি ওই শুল্কের অতিরিক্ত।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, নতুন হ্যান্ডলিং ফি সরাসরি ভোক্তাদের দিতে হবে না। তবে অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বিক্রির আগে পণ্যের দামের সঙ্গে দুই ইউরো যুক্ত করতে পারবেন।

ইউরোপীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থা (বিইইউসি) এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কেনাকাটার শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের ওপর নতুন এ খরচ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, এমনটি করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী বেআইনি। কারণ, আইন অনুসারে কেনাকাটার শুরুতেই ক্রেতাকে পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য জানাতে হবে।

আরও পড়ুন: শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান

কেন নতুন ফি চালু করছে ইইউ?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ পার্সেলই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্য সাধারণত আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছায়।

ব্রাসেলসের মতে, বিপুলসংখ্যক পার্সেল আসার কারণে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে।

এতে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে শুল্ক বিভাগের এ অতিরিক্ত কাজের ব্যয় মেটানো হবে।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

গত জুলাইয়ে ছোট পার্সেলের ওপর তিন ইউরো শুল্ক আরোপের পর ইউরোপে এ ধরনের পণ্য আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনই সময় হয়নি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া চীনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনকারী খেলনাসহ বিভিন্ন অনিরাপদ পণ্য প্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ।

বিইইউসির কর্মকর্তা অগাস্টিন রেইনা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে শুল্ক বিভাগকে অবৈধ পণ্য আমদানি ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। অথচ ছোট পার্সেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে।’

এরপর কী হবে?

আরও পড়ুন: আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন

নতুন দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে। তবে কম মূল্যের পার্সেলের ওপর আরোপিত তিন ইউরো শুল্ক আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে চালু রয়েছে, যা ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ওই তারিখ থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মে নির্ধারিত শুল্ক কার্যকর হবে।

এ ছাড়া নতুন হ্যান্ডলিং ফির পরিমাণ প্রতি দুই বছর পরপর পর্যালোচনা করতে হবে। শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে ফির পরিমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এ পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্রাজিল ত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত নয়: মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্রাজিল ত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত নয়: মার্কো রুবিও

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিল ত্যাগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন।

এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার বলসোনারো তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। তিনি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল, যার ফলে একাধিক তদন্ত চলমান রয়েছে।

জর্জিয়ার আটলান্টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও উল্লেখ করেন, ‘এর আগে তার ভিসা ছিল। প্রেসিডেন্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে আয়োজক হিসেবে উপস্থিত রুবিও আরও বলেন, ‘নিজ দেশ ছাড়ার বিষয়ে বলসোনারো যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তাতে মার্কিন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল না।’

নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে একটি বিমানে ব্রাজিল ত্যাগ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বিমানটি ভাড়া করেছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা জেসন মিলার।

এদিকে, বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত বিমানের ভাড়া একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মার্কিন ব্যাংক হিসাব থেকে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রধান।

ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলসোনারোর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। তবে তিনি ব্রাজিলের এই ডানপন্থী সিনেটরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়েছে। খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাই তিনি যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারবেন।’

এদিকে, ব্রাজিলের একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে ‘নিয়মিত বৈঠকে’ তলব করা হয়েছিল।

তবে পরে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিল বুয়েনস এইরেসের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকে বলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা বলে দাবি করে আসছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ শিকার হওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাওস নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে, ভিয়েতনামে বায়ুবিদ্যুৎ রপ্তানি করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


লাওস নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে, ভিয়েতনামে বায়ুবিদ্যুৎ রপ্তানি করছে

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ লাওসের সবুজ পাহাড়ি অঞ্চলে ১৩৩টি বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন চীনে নির্মিত হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই টারবাইনগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে, এই প্রকল্পটি জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার আঞ্চলিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেও কাজ করছে।

ডাক ওয়াই গ্রামের কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িতে বসে ২৩ বছর বয়সী তুকতা ফনসালা এএফপিকে বলেন, ‘দৃশ্যটা খুব সুন্দর। এগুলো গাছের চেয়েও বড়।’ এ সময় তার কোলে ছিল ছোট্ট শিশু।

লাওসের সেকং প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি, পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুবিদ্যুতের প্রসারের সময় এসেছে। তারা লাওসের ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘মুনসুন উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের’ উদাহরণ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্পটি উৎপাদন শুরু করে।

সিঙ্গাপুরের সমান আয়তনের এলাকায় বিস্তৃত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প এশিয়ার প্রথম আন্তসীমান্ত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে এবং এর মালিকানায় রয়েছে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েতনামের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র। দেশটি আগে থেকেই তার দরিদ্র প্রতিবেশী লাওস থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে।

তবে অলাভজনক সংস্থা এনার্জি ল্যাব এশিয়ার কারিগরি কর্মসূচির প্রধান ট্রিস্টান বেলিংহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক হিসাব এখন বায়ুবিদ্যুতের পক্ষে যাচ্ছে।’ তিনি এএফপিকে বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ বছর আগে জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, এখন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি ও উন্নয়ন-অধিকার নিশ্চিত করতে তেমনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’

লাওসে ইতোমধ্যে ৯০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে আরও কয়েক ডজন। ফলে উপযুক্ত নতুন স্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

উন্নয়নের জন্য ভালো-

বেলিংহাম বলেন, মুনসুন প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন অন্যান্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। লাওসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ থেকে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তুকতা ফনসালা, তার সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের ১৮ সদস্য এবং টারবাইনের আশপাশের ধান ও কফিচাষিদের জন্য মুনসুন প্রকল্প নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে।

তবে প্রকল্পটি থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ঝড়ের সময় এখনো তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। লাওসের নিজস্ব বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোনো। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাটিও বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত।

তবু দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদেশে পাঠাতে পেরে খুশি তুকতা। তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নের জন্য ভালো এবং সমৃদ্ধি আনতে পারে।’

ভিয়েতনামের জন্য এই প্রকল্প তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের উৎস। ২০২৩ সালে খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এদিকে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার।

ইন্দোচায়না এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস জ্যাকবসেন বলেন, ‘মুনসুন প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম স্থানীয়ভাবে যে দামে বায়ুবিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লাওস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’

তার হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ভিয়েতনাম (ইভিএন) মুনসুন প্রকল্প থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রায় ৬ সেন্টে কিনছে। স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে এ হার ২ থেকে ৪ সেন্ট কম।

তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সফরে মুনসুন উইন্ড, ইভিএন এবং প্রকল্পটির অর্থায়ন ব্যবস্থাপক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের এ দাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

‘বিশেষ কিছু রয়েছে’-

২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ভিয়েতনামের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ইভিএনের ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন করপোরেশনের কর্মকর্তা নিন সুয়ান হিয়েপ।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তিনি এএফপিকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে লাওস থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান হবে। স্থাপিত সক্ষমতা বলতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্যকে বোঝায়।

মুনসুন উইন্ড প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক নারুত বোয়াকাজর্ন জানান, প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি বিদ্যুতের একটি অংশ যেন লাওসের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

১১০ মিটার উঁচু একটি টারবাইনের ঘূর্ণায়মান পাখার নিচে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারুত বলেন, ‘লাওসে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বায়ু, পানি ও সৌরশক্তি—সবই আছে।’

তিনি বলেন, ‘একই জায়গায় এতগুলো ভালো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুব বেশি দেশে নেই। এদিক থেকে লাওসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’

নারুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় কর এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাওস সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ঢাকা, ০১ নভেম্বর, ২০২৬ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসংক্রান্ত আইন পাস হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার রাতারাতি সমাধান হবে না বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে। তবে জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

শনিবার রাজধানীতে নিউএইজ পত্রিকা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে এবং জনগণের ওপর জ্বালানি ঘাটতির বোঝা কমাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিতে বাধ্য হয়েছে।

নির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নাগরিকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণও স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ আশা করে।

মন্ত্রী যে কোনো পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে আরও বেশি স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্যে উদ্বেগ, বাড়ছে অপপ্রচারের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ পি.এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এআই চ্যাটবটের ভুল তথ্যে উদ্বেগ, বাড়ছে অপপ্রচারের ঝুঁকি

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চ্যাটবটের মাধ্যমে প্রচারিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোটারদের ভুল তথ্য প্রদান, প্রার্থীদের পরিচয় গুলিয়ে ফেলা এবং রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক বক্তব্য পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাবলীর কারণে দেশটির নির্বাচনী তথ্যব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

লাখ লাখ ভোটার রাজনৈতিক তথ্য জানার জন্য সক্রিয়ভাবে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক তথ্যের পরিবেশ তৈরি করতে এআই চ্যাটবট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

যদিও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের অসত্যতা তুলে ধরা কিংবা ভোটারদের নির্বাচনী বিষয়ে সচেতন করতেও এসব চ্যাটবট সহায়তা করতে পারে, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চ্যাটবটগুলো প্রায়ই ইন্টারনেটের উন্মুক্ত উৎস থেকে অবিশ্বস্ত তথ্য সংগ্রহ করে।

ফলে জনসাধারণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী অপতথ্যে ইতোমধ্যে জর্জরিত ইন্টারনেট আরও দূষিত হচ্ছে।

এআই মডেলগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফোরাম এআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশে অন্তত একটি তথ্যগত ভুল বিদ্যমান।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোট দেওয়ার নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলো প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রশ্নের তুলনায় বেশি ভুল তথ্য প্রদান করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, গুগলের জেমিনি ৩.৬ ফ্ল্যাশকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, এটি ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট চাওয়ার শেষ তারিখ হিসেবে ৩ নভেম্বরের কথা জানায়। অথচ প্রকৃত সময়সীমা ছিল এর এক সপ্তাহ আগে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো ভোটার চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে, তাহলে তিনি সময়মতো ব্যালট চাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে ব্যর্থ হতে পারেন।

ফোরাম এআই জানিয়েছে, চ্যাটবটগুলো শত শতবার প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকদের নামে এমন বক্তব্য প্রচার করেছে, যা তারা কখনো বলেননি।

এছাড়া, উত্তরের ক্ষেত্রে রেডিটের বিভিন্ন আলোচনার মতো নিম্নমানের ও অবিশ্বস্ত তথ্যসূত্রের ওপরও নির্ভর করেছে তারা।

গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভোটাররা যাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য পান, সে বিষয়ে তারা কাজ করছে। নির্বাচনী বিষয়সংক্রান্ত এআই সেবাগুলোতে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, বিদেশি অপপ্রচার চালানো গোষ্ঠীগুলো এআই চ্যাটবটকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ব্যাপকভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া তথ্যও চ্যাটবটের উত্তরে উঠে আসছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা একটি ভিডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে সেটিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেন। ভিডিওটি সম্ভবত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে দেখানো হয়, যেন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর এক সাবেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন।

তবে অভিযোগটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সঙ্গে রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক প্রচারণার মিল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে, ভুয়া তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নিউজগার্ড বিষয়টি নিয়ে গুগলের এআই ওভারভিউকে প্রশ্ন করলে সেটিও ওই অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরে।

একইভাবে, গুগলের জেমিনি ও মাইক্রোসফটের কোপাইলট— এই দুটি জনপ্রিয় এআই টুলও একই প্রশ্নের উত্তরে মিথ্যা অভিযোগটি পুনরাবৃত্তি করে।

নিউজগার্ডের ১০টি এআই টুলের ওপর পরিচালিত পৃথক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশি অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী ও অন্যান্য অসাধু পক্ষের ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের।

মাইক্রোসফট বলেছে, ঘটনাটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ছিল এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি ছিল। এ কারণে প্রথম দিকে কোপাইলটের উত্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোপাইলট হালনাগাদ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এবং অভিযোগটিকে বানোয়াট হিসেবে শনাক্ত করে।

সব উদ্বেগের মধ্যেও এআই চ্যাটবটের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা দেখছেন গবেষকেরা।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের মতে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচন, যেখানে বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্মে এআই টুল সরাসরি যুক্ত রয়েছে।

অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল কনফারেন্স অন সিটিজেনশিপের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে দুজন প্রার্থী, ব্যালটের প্রস্তাবসহ নির্বাচনী বিভিন্ন তথ্য জানতে এআই টুল ব্যবহার করেছেন।

তবে ভোট দেওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রার্থীদের বিষয়ে এআই নিরপেক্ষ তথ্য দেয় কি না— সে ব্যাপারে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের আস্থা খুবই কম অথবা একেবারেই নেই।

তবে এআই চ্যাটবটের ভূমিকা পুরোপুরি নেতিবাচক নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস।

প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটিং মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে— এ ধরনের বহুল প্রচলিত নির্বাচনী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিষয়ে বারবার প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ করা হলেও, জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো সাধারণত এসব দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ গবেষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্বাচনী অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় এআই চ্যাটবট গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%