প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিল ত্যাগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো ভূমিকা ছিল না। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন।
এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার বলসোনারো তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। তিনি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল, যার ফলে একাধিক তদন্ত চলমান রয়েছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও উল্লেখ করেন, ‘এর আগে তার ভিসা ছিল। প্রেসিডেন্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে আয়োজক হিসেবে উপস্থিত রুবিও আরও বলেন, ‘নিজ দেশ ছাড়ার বিষয়ে বলসোনারো যে ব্যবস্থা করেছিলেন, তাতে মার্কিন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল না।’
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে একটি বিমানে ব্রাজিল ত্যাগ করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বিমানটি ভাড়া করেছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা জেসন মিলার।
এদিকে, বলসোনারো পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত বিমানের ভাড়া একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মার্কিন ব্যাংক হিসাব থেকে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে এএফপিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রধান।
ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলসোনারোর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। তবে তিনি ব্রাজিলের এই ডানপন্থী সিনেটরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করা হয়েছে। খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাই তিনি যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারবেন।’
এদিকে, ব্রাজিলের একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বলসোনারোকে ব্রাজিল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে ‘নিয়মিত বৈঠকে’ তলব করা হয়েছিল।
তবে পরে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আর্জেন্টিনার ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিল বুয়েনস এইরেসের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকে বলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা বলে দাবি করে আসছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ শিকার হওয়ায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হওয়ার পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন