০৪:৫৭ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, নরওয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এই সম্পর্কের বিস্তার ঘটে। নরওয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
আরও পড়ুন: শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ ও শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: শিমুল বিশ্বাস
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে নরওয়ে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।
স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকার গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, নরওয়ে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন: পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘকাল ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে আসছে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে সারাবিশ্বের শান্তিরক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সবসময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ সম্পর্কে তারা মতবিনিময় করেন।
এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য নরওয়ের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।
আরও পড়ুন: নিজ উদ্যোগে খেলার মাঠ তৈরি, বাবুপুর গ্রাম হতে পারে রোলমডেল
বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন