ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা


সার্বিয়ায় রেলস্টেশন দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সরকার পতনে ভূমিকা রাখা ছাত্র আন্দোলনের স্মরণসভা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশন ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এই দুর্ঘটনা দেশটিতে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা করে, যা এক সপ্তাহ আগে ডানপন্থী ক্ষমতাসীন দলের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, দুই বছর আগে নোভি সাদ শহরের সংস্কার করা রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে দুইটি বোন ছিল, তাদের বয়স ছিল ছয় বছর এবং ১০ বছর।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আমেরিকায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পোপ লিও

দুর্ঘটনার পর সার্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে রেলস্টেশনটির সংস্কারকাজের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যার ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০০০ সালে সাবেক স্বৈরশাসক স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর এটি ছিল সার্বিয়ায় অন্যতম বৃহৎ গণবিক্ষোভ।

দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী ছেলে স্তেফানকে হারানো দিয়ানা হ্রকা এএফপিকে বলেন, “যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া খুবই কষ্টের।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রতিবার সেখানে ফিরে যাওয়া আগের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠে।”

এবারের বার্ষিকী এমন এক সময় পালিত হচ্ছে, যখন আগাম নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আবারও সেই স্থানে ফিরছেন, যেখানে তাদের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।

দিয়ানা হ্রকা, যিনি ছেলেকে হারানোর পর আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলন তাকে আশার আলো দেখিয়েছে।

তিনি গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “মানুষের সমর্থন আমার কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল।”

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, যারা আন্তরিকভাবে চান আমরা সবাই একসঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

আরও পড়ুন: শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সিঙ্গাপুরে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সন্ধান

তবে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে দায়ী করে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সার্বিয়াজুড়ে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। এই আন্দোলনই গত রোববারের নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন-সমর্থিত জোটের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২৫০ আসনের পার্লামেন্টে ছাত্র-সমর্থিত তালিকাটি প্রায় ১৪০টি আসনে জয় পেয়েছে। ফলে তারা এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

দিয়ানা হ্রকা আশা করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বড় পরিবর্তনের ফলে রেলস্টেশন দুর্ঘটনার তদন্ত আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই মুহূর্তে আমাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র প্রেরণা হলো— একদিন ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে, এই বিশ্বাস।”

নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে আলেকজান্ডার ভুচিচের দল ক্ষমতা ছাড়ার কথা স্বীকার করার পর থেকেই ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দুর্নীতি ও আলোচিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক তদন্তে অগ্রগতি দাবি করে আসছেন।

বিদায়ী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও নতুন করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে ছাত্র আন্দোলন।

আরও পড়ুন: ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

নোভি সাদের রেলস্টেশন দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক তদন্ত চললেও এখনো কোনো মামলার বিচার শুরু হয়নি।

দুর্ঘটনার কয়েক দিন পর পদত্যাগ করা সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে আরও ১২ জনের সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে পৃথক একটি দুর্নীতির তদন্তেও সন্দেহভাজন হিসেবে রয়েছেন ভেসিচ। ওই তদন্তে আরেক সাবেক মন্ত্রী তোমিস্লাভ মোমিরোভিচসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

রেলস্টেশন সংস্কারকাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহারের অভিযোগও আলাদাভাবে তদন্ত করছে ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস।

আরও পড়ুন: ভুটানে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’ গড়ে তোলার অংশে ১০৮টি বৌদ্ধ স্তূপ নির্মাণ

দিয়ানা হ্রকা বলেন, “এখন যদি আমরা দায়ীদের কারাগারে পাঠাতে পারি, তাহলে এমন ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।”

ছেলেকে হারানো এই মা আরও বলেন, “আমি আশা করি, কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাজপথে নামতে হওয়ার ঘটনা এটাই শেষবার। আমার একমাত্র চাওয়া এটুকুই।”

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঞ্চল্যকর সাত খুন, আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


চাঞ্চল্যকর সাত খুন, আবরার ফাহাদ ও মেজর সিনহা হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

এস এম আশিকুজ্জামান

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিচার অঙ্গনে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর মধ্যে একটি।

এছাড়া, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার ঢাকায় দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ, বুয়েটের আবরার ফাহাদ এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল এই মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করেছেন।

সাধারণ মানুষের যে প্রত্যাশা, তা হলো উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা এসব স্পর্শকাতর মামলার বিচার শেষ করে সাজা কার্যকর করা। রাষ্ট্রপক্ষের এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশাকে আশার আলো দেখাচ্ছে।

যদি চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। অপরাধীদের দ্রুত সাজা কার্যকর করার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

সাত খুনের মামলার আপিল শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক মো. ইব্রাহিমও অপহরণের শিকার হন।

তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ, পরদিন পাওয়া যায় আরেকটি লাশ।

নজরুল, চন্দন ও ইব্রাহিম ছাড়া হত্যার শিকার অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাত খুনের মামলায় র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে এবং অপর ১১ আসামির দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ৯ আসামির দণ্ডও হাইকোর্টে বহাল থাকে। দণ্ডিত তারেক সাঈদ, নূর হোসেনসহ মামলার বেশ কয়েকজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর

বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নির্মম এ হত্যায় জড়িতদের সবাই ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতা-কর্মী।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারিক আদালতের রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ। হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

মেজর সিনহা হত্যা মামলার শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় আসামিদের করা আপিল শুনানি আগামী ১ ডিসেম্বর। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর গত ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত এই মামলার মোট ১৫ জন আসামির মধ্যে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয় জনকে যাবজ্জীবন ও সাত জনকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীন। ২০২৫ সালের ২ জুন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৯ অক্টোবর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির এই দিন ধার্য করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা ওই হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মী ছিলেন। এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দু’জনকে খালাস দেয়া হয়।

এ ছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেন তারা হাইকোর্টে খালাস পান।

হাইকোর্টের রায়ে যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। মৃত্যুদণ্ড থেকে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু।

এছাড়া হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনকে।

বিচারিক আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয় তারা হলেন- খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায়গুলোর বিচারের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "সমাজকে ও সাধারণ মানুষের বিবেককে আলোড়িত করা এসব মামলা দ্রুত ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আমরা রাষ্ট্র পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত মামলাগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে শুনানি শুরু হয়ে দ্রুত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।"

"সরকার কাউকে রক্ষা বা তথ্য গোপন করতে চায় না"

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে আগামী  বছর ২৯ এপ্রিল অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে ওই দিন এই মামলার নথিপত্রসহ টাস্কফোর্সের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের  প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন, "বর্তমান সরকার কাউকে রক্ষা করা বা তথ্য গোপন করতে চায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

এদিকে হাইকোর্টে জমা দেয়া টাস্কফোর্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সাথে আলোচনাকালে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর রুনী হত্যাকাণ্ডের সাথে সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই বাছাই করছে মর্মে জানান। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্যাদি পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করবে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি।

পরে আদালত র‌্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। ১২ বছর ৬ মাস ১৫ দিন পর র‌্যাবের কাছ থেকে হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব দেন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্সকে।

এক দশক পর তনু হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর মামলার আসামি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।

তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। ঘটনার পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

এই মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

তনু হত্যাকাণ্ডের সময় হাফিজুর কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তনু হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল.

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


ইন্টারপোল বায়োসিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির আজ সকালে ঢাকা ত্যাগ করে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, ২য় ইন্টারপোল গ্লোবাল বায়োসিকিউরিটি কনফারেন্স-এ যোগ দিতে।

পুলিশ সদরদপ্তরের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ইন্টারপোলের বায়োটেররিজম প্রিভেনশন ইউনিটের উদ্যোগে আগামী ৩-৫ নভেম্বর ফ্রান্সের লিয়ঁতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন শেষে আইজিপি আগামী ৭ নভেম্বর দেশে ফিরে আসবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সহযোগী সংস্থা, জীবাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদগণ অংশগ্রহণ করবেন।

সম্মেলনে বর্তমান ও ভবিষ্যতে বায়োসিকিউরিটি হুমকির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে এবং সম্ভ্যাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


শ্রীলঙ্কার যুদ্ধবিধবা ও নিখোঁজদের সন্ধানে দীর্ঘ প্রতীক্ষা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : গির্জার বাইরের একটি স্থানে বসে সারধাদেবী থাদচানামূর্তি হাতে লেখা চার পৃষ্ঠার তালিকা থেকে একে একে নামগুলো পড়তে শুরু করেন। তালিকায় শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ১২৪ জন স্বামী, বাবা ও ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বাট্টিকালোয়া থেকে এএফপি জানায়, ষাটের কোঠায় থাকা এই তামিল নারী পরে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে নেন। তিনি আরও তিনজনের সঙ্গে যোগ দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ব্যস্ত শহর বাট্টিকালোয়ার সড়কে ‘ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা’ শুরু করেন। নিখোঁজ স্বজনদের পরিণতি জানতে তাদের এ ধারাবাহিক প্রতিবাদের রোববার ছিল টানা ১ হাজার ৬০৪তম দিন।

১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের যুদ্ধ চলেছিল। তামিলরা দেশটির প্রধানত হিন্দু ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু জনগণ।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ যুদ্ধে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হন, যাঁদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) হাতে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, অপহৃত হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অথবা নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার ১৫ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও নিখোঁজদের অধিকাংশের পরিণতি এখনো অজানা।

অভিযোগ, আদালতে আবেদন, প্রতিবাদ, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সরকারের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতি, কোনোটিই এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।

‘তাকে আর কখনো দেখিনি’

থাদচানামূর্তির জীবনের ঘটনা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে উত্তর খুঁজতে পরিবারগুলোর দীর্ঘ সংগ্রামেরই প্রতিচ্ছবি।

১৯৯২ সালের জুলাইয়ে তার ৩৪ বছর বয়সী স্বামী নাল্লাথাম্বির গুলিবিদ্ধ মরদেহ তাদের কৃষিজমিতে পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, একজন সেনাসদস্য তাকে হত্যা করেছেন। স্বামীকে হত্যার অভিযোগ নিয়ে স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে যান।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল, “আপনি যদি বলেন আপনার স্বামীকে একজন সেনাসদস্য হত্যা করেছে, তাহলে তারা আর কখনো তাঁকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেবে না।”'

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি। স্বামীর মরদেহ উদ্ধার করি এবং ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ পাই, যা বর্তমান বিনিময় হারে ১৫১ ডলার। এরপর তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়।’

২০০০ সালের জানুয়ারিতে তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে নাভানীথান নিখোঁজ হন। থাদচানামূর্তির বিশ্বাস, তামিল বিদ্রোহীরা নিজেদের দলে যোগ দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণ করেছিল।

তিনি বলেন, ‘তাঁকে আমি আর কখনো দেখিনি। ২০১৬ সালে আমি কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিষয়ে তথ্য চেয়ে আবেদন করি। জবাবে তারা জানায়, তার পরিণতি অজানা। আমাকে শুধু নিখোঁজ হওয়ার একটি সনদ দেওয়া হয়েছিল, সত্যটা নয়।’

লক্ষ্মী সিলভার অভিজ্ঞতাও খুব বেশি ভিন্ন নয়। ১৯৯০ সালের জুলাইয়ে কলম্বো যাওয়ার পথে বাসে থাকা অবস্থায় তার স্বামী নিখোঁজ হন। একটি চেকপোস্টে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

লক্ষ্মী বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাকে বলেছিলেন, তারা “টাইগার” ছিল।’ তিনি তামিল বিদ্রোহীদের বোঝাতে এ শব্দ ব্যবহার করেন।

পুলিশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছে তাঁর করা আবেদনগুলোর কোনো জবাব মেলেনি। যাঁদের কাছে তিনি গিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে ঝামেলা না বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

১৯৯৪ সালে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তার স্বামীর মৃত্যু সনদ দেন। সেখানে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল ‘অজ্ঞাত’। এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ষাটের কোঠায় থাকা লক্ষ্মী সিলভা স্বীকার করেন, ‘আমি এখন আর মনে করি না যে তিনি ফিরে আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমি শুধু সন্তানদের জন্য বেঁচে আছি।’

তবে অন্যরা এখনো নীরবতা মেনে নিতে রাজি নন।

৬১ বছর বয়সী রাজেশ্বরী চিত্রাভাদিভেল বলেন, ‘আমি সব সময় আশা ধরে রেখেছি।’

তার দেয়ালে কয়লা দিয়ে আঁকা গোঁফওয়ালা এক হাস্যোজ্জ্বল পুরুষের প্রতিকৃতি ঝুলছে। ছবিতে স্ত্রী ও মেয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেনাকাটা করতে গিয়ে মুখোশধারী ব্যক্তিদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর থেকে রাজেশ্বরীর স্বামী নিখোঁজ।

১৯৯৮ সালে কর্তৃপক্ষ তাকে একটি মৃত্যু সনদ দেয়। এর দুই বছর পর রেড ক্রস তাকে শনাক্ত করার জন্য এক ব্যক্তির মরদেহ দেয়। সংস্থাটি জানায়, সেটি তার স্বামীর মরদেহ হতে পারে।

রাজেশ্বরী বলেন, ‘মরদেহটি চেনার উপায় ছিল না। তাই আমি এখনো বিশ্বাস করি।’

এ ধরনের ঘটনার বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের দাবিতেই নারীরা প্রতিদিন প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ আন্দোলনের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ‘মাদার্স অব দ্য প্লাজা দে মায়ো’ আন্দোলনের মিল রয়েছে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত দেশটির সামরিক স্বৈরশাসনের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের পরিণতি জানতে ওই নারীরাও বছরের পর বছর বিক্ষোভ করেছিলেন।

‘এক গভীর নীরবতা’

নিয়মিত পদযাত্রায় অংশ নেওয়া আন্দোলনকর্মী সারালা ইমানুয়েল বলেন, ‘আমরা গোপনে আশা করেছিলাম, হাজার হাজার মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কিন্তু স্পষ্টতই তা ঘটেনি।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু কিছুই বদলায়নি, এখনো এক গভীর নীরবতা বিরাজ করছে।’

২০০৯ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কার নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধকালীন অপরাধ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

২০২৪ সালে অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়।

দেশটির প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট তার নির্বাচনী ইশতেহারে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, নিখোঁজ হওয়া এবং হামলার’ তদন্ত এবং একটি স্বাধীন জাতীয় কৌঁসুলি দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

দুই বছর পর গত সেপ্টেম্বরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সরকার ‘দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর জরুরি প্রয়োজন’ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।

প্রস্তাবিত স্বাধীন কৌঁসুলি দপ্তর সম্পর্কে এএফপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি শ্রীলঙ্কার আইন মন্ত্রণালয়।

তামিল বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রাসামানিক্কাম আর. শানাকিয়ান বলেন, ‘দুয়েকটি আলোচিত মামলায় কিছু তদন্ত হচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো অগ্রগতিই নেই।’

তিনি বলেন, ‘পরপর আসা সরকারগুলো কোনো পদক্ষেপ নিতে ভয় পায়।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশটির অধিকাংশ মানুষ সিংহলি বৌদ্ধ এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক।

তিনি বলেন, ‘তারা জানে, এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই ফিরে আসবে।’

‘জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন’

২০১৮ সালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়ে সরকার নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক দপ্তর (ওএমপি) প্রতিষ্ঠা করে।

দপ্তরটির হিসাবে, তাদের কাছে বর্তমানে ২২ হাজার নিখোঁজের মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের হিসাবে এ সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

গত তিন বছরে দপ্তরটি মাত্র ২৪ জনের সন্ধান পেয়েছে।

দপ্তরটির সদস্য মিরাক রহিম স্বীকার করেন, ‘যেসব পরিবার দুই, কখনো কখনো তিন দশক ধরে অপেক্ষা করছে, তাদের জন্য এটা স্পষ্ট যে কাজ যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক নথি হারিয়ে গেছে এবং মানুষ নিজেদের স্মৃতি থেকে ঘটনাগুলো পুনর্গঠন করেছে।’

ক্লান্ত হলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাদচানামূর্তি পদযাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা টাকা চাই না, শুধু সত্য ও ন্যায়বিচার চাই। আমাদের দুর্ভোগের ভার পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দিতে আমি রাজি নই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ৭২ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ পি.এম


রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ৭২ জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার

রাজশাহী, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের পরিচালিত অভিযানে ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭২ জনকে গ্রেফতার করে এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।

আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১টি খুনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধের জন্য মোট ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, খুন ছাড়া ডাকাতি, দস্যুতা, যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার সুরক্ষা আইন, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা দ্রুত বিচার আইনে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অন্যান্য অপরাধের জন্য ১৮টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ৪টি অপমৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত ৪৫টি অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন পরোয়ানা মূলে, ১২ জন সাজাপ্রাপ্ত, ২৬ জন তদন্তাধীন মামলার আসামি এবং ১০ জন প্রতিরোধমূলক অন্যান্য আসামি রয়েছেন। এছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে, ১৫০ গ্রাম হেরোইন, ৩৭১ পিস ইয়াবা এবং ১২৫ পিস ট্যাপেন্টাডল। তবে এই সময়ে কোনো চোরাচালান পণ্য উদ্ধার হয়নি। পুলিশি সেবার পরিধিও উল্লেখযোগ্য ছিল; গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জ এলাকায় মোট ৮৫৯ জন নাগরিক সেবা গ্রহণ করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%