প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত চ্যাটবটের মাধ্যমে প্রচারিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ভোটারদের ভুল তথ্য প্রদান, প্রার্থীদের পরিচয় গুলিয়ে ফেলা এবং রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক বক্তব্য পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাবলীর কারণে দেশটির নির্বাচনী তথ্যব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
লাখ লাখ ভোটার রাজনৈতিক তথ্য জানার জন্য সক্রিয়ভাবে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক তথ্যের পরিবেশ তৈরি করতে এআই চ্যাটবট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
যদিও ষড়যন্ত্রতত্ত্বের অসত্যতা তুলে ধরা কিংবা ভোটারদের নির্বাচনী বিষয়ে সচেতন করতেও এসব চ্যাটবট সহায়তা করতে পারে, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চ্যাটবটগুলো প্রায়ই ইন্টারনেটের উন্মুক্ত উৎস থেকে অবিশ্বস্ত তথ্য সংগ্রহ করে।
ফলে জনসাধারণের আস্থা কমে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী অপতথ্যে ইতোমধ্যে জর্জরিত ইন্টারনেট আরও দূষিত হচ্ছে।
এআই মডেলগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফোরাম এআইয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচনসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশে অন্তত একটি তথ্যগত ভুল বিদ্যমান।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভোট দেওয়ার নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে চ্যাটবটগুলো প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রশ্নের তুলনায় বেশি ভুল তথ্য প্রদান করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, গুগলের জেমিনি ৩.৬ ফ্ল্যাশকে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, এটি ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট চাওয়ার শেষ তারিখ হিসেবে ৩ নভেম্বরের কথা জানায়। অথচ প্রকৃত সময়সীমা ছিল এর এক সপ্তাহ আগে।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো ভোটার চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে, তাহলে তিনি সময়মতো ব্যালট চাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে ব্যর্থ হতে পারেন।
ফোরাম এআই জানিয়েছে, চ্যাটবটগুলো শত শতবার প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষকদের নামে এমন বক্তব্য প্রচার করেছে, যা তারা কখনো বলেননি।
এছাড়া, উত্তরের ক্ষেত্রে রেডিটের বিভিন্ন আলোচনার মতো নিম্নমানের ও অবিশ্বস্ত তথ্যসূত্রের ওপরও নির্ভর করেছে তারা।
গুগল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভোটাররা যাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য পান, সে বিষয়ে তারা কাজ করছে। নির্বাচনী বিষয়সংক্রান্ত এআই সেবাগুলোতে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা অনুসরণ করা হয় বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গবেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো, বিদেশি অপপ্রচার চালানো গোষ্ঠীগুলো এআই চ্যাটবটকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ব্যাপকভাবে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া তথ্যও চ্যাটবটের উত্তরে উঠে আসছে।
অক্টোবরের শেষ দিকে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা একটি ভিডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে সেটিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেন। ভিডিওটি সম্ভবত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে দেখানো হয়, যেন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর এক সাবেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে অভিযোগটির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সঙ্গে রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক প্রচারণার মিল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে, ভুয়া তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নিউজগার্ড বিষয়টি নিয়ে গুগলের এআই ওভারভিউকে প্রশ্ন করলে সেটিও ওই অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরে।
একইভাবে, গুগলের জেমিনি ও মাইক্রোসফটের কোপাইলট— এই দুটি জনপ্রিয় এআই টুলও একই প্রশ্নের উত্তরে মিথ্যা অভিযোগটি পুনরাবৃত্তি করে।
নিউজগার্ডের ১০টি এআই টুলের ওপর পরিচালিত পৃথক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিদেশি অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী ও অন্যান্য অসাধু পক্ষের ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের।
মাইক্রোসফট বলেছে, ঘটনাটি দ্রুত পরিবর্তনশীল ছিল এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি ছিল। এ কারণে প্রথম দিকে কোপাইলটের উত্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোপাইলট হালনাগাদ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এবং অভিযোগটিকে বানোয়াট হিসেবে শনাক্ত করে।
সব উদ্বেগের মধ্যেও এআই চ্যাটবটের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা দেখছেন গবেষকেরা।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের মতে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নির্বাচন, যেখানে বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্মে এআই টুল সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল কনফারেন্স অন সিটিজেনশিপের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে দুজন প্রার্থী, ব্যালটের প্রস্তাবসহ নির্বাচনী বিভিন্ন তথ্য জানতে এআই টুল ব্যবহার করেছেন।
তবে ভোট দেওয়ার সময়, স্থান ও পদ্ধতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রার্থীদের বিষয়ে এআই নিরপেক্ষ তথ্য দেয় কি না— সে ব্যাপারে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের আস্থা খুবই কম অথবা একেবারেই নেই।
তবে এআই চ্যাটবটের ভূমিকা পুরোপুরি নেতিবাচক নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস।
প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটিং মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে— এ ধরনের বহুল প্রচলিত নির্বাচনী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের বিষয়ে বারবার প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ করা হলেও, জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটগুলো সাধারণত এসব দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ গবেষণা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্বাচনী অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় এআই চ্যাটবট গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন