প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে কিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পেয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর ইটভাটা রয়েছে, যা থেকে ব্ল্যাক কার্বনের নির্গমন হচ্ছে।
ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মোট বায়ুদূষণের প্রায় ১৩ শতাংশ ইটভাটা থেকে আসে। উচ্চ সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০০টি কাঠভিত্তিক ভাটা বন্ধ করে কংক্রিট ব্লক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দূষণ কমানো সম্ভব হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। কাজটি কঠিন হলেও পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ইটভাটা বন্ধ না হলে বায়ুর মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ট্রান্স-বাউন্ডারি দূষণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ সীমান্ত অতিক্রম করে আসে। ভারতের ভারী শিল্পকারখানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয়। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এই ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য কঠিন।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও বৈদ্যুতিক বাস ও গাড়ি আমদানির পরিকল্পনা করেছে। এগুলো প্রকৃতিভিত্তিক বায়ুদূষণ সমাধানের উপাদান।
নদী দূষণের বিষয়ে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু এবং ধলেশ্বরী নদীর ৪২৪টিরও বেশি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি বিষাক্ত বর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শিল্পবর্জ্য, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য, ঢাকা ওয়াসা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার নির্গমন এসব নদীতে পড়ছে। ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সরকার নিরলস কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন