প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনা, ১ নভেম্বর ২০২৬ : ময়লা-আবর্জনা এবং ফেলনা জিনিসকে আর অবহেলা করা হবে না, বরং সেগুলি থেকে তৈরি হবে বহুমুখী সম্পদ! বাড়িঘর ও বাজারের ফেলে দেওয়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত হবে মূল্যবান জৈব সার ও মাছের খাবার। পরিবেশ দূষণ রোধ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আনতে ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি কমিউনিটিভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন এলাকার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০০০ মানুষ।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্ল্যান্টটির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাত্র ১৫টি মডেল গ্রামের মধ্যে ডুমুরিয়ার টিপনা গ্রাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিই এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় টিপনা গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের বসতবাড়ি থেকে গৃহস্থালির বর্জ্য বা হাউজহোল্ড ওয়েস্ট সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক প্ল্যান্ট নির্মাণ করে সেই বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাছের লার্ভা বা খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়ক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করে তা বিক্রি করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে, এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। আয়ের একটি সুযোগ তৈরি হবে। এটি বর্তমানে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সফলতা সাপেক্ষে বাজার এলাকাগুলোতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বীকৃত ‘ত্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হবে। ফলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রতিটি উপাদানকে উৎপাদন কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িঘর ও বাজার থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মানসম্মত জৈব সার। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে লার্ভা উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আনবে চমৎকার পরিবর্তন। এতে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষি ও মৎস্যখাতে সাশ্রয়ী বিকল্প উপাদানের জোগান নিশ্চিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। কৃষিতে জৈব সার এবং মৎস্য খাতে দেশীয় খাবার ব্যবহারের ফলে চাষিদের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমে আসবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বাসসকে বলেন, ‘আধুনিক এই প্ল্যান্টটি চালুর মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি এলাকার ৬ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
তিনি বলেন, কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, টিপনা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গ্রামের ২৪০টি পরিবারে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট। পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল। নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনে দিয়েছে স্বস্তি।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বাসসকে বলেন, ‘সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপাদনের এই মডেল শুধু টিপনা নয়, পুরো ডুমুরিয়ার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদস্বরূপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন