ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

খুলনার টিপনায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট


খুলনার টিপনায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট

খুলনা, ১ নভেম্বর ২০২৬ : ময়লা-আবর্জনা এবং ফেলনা জিনিসকে আর অবহেলা করা হবে না, বরং সেগুলি থেকে তৈরি হবে বহুমুখী সম্পদ! বাড়িঘর ও বাজারের ফেলে দেওয়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদিত হবে মূল্যবান জৈব সার ও মাছের খাবার। পরিবেশ দূষণ রোধ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আনতে ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি কমিউনিটিভিত্তিক আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট। প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবেন এলাকার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০০০ মানুষ।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ২১ সেপ্টেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্ল্যান্টটির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মাত্র ১৫টি মডেল গ্রামের মধ্যে ডুমুরিয়ার টিপনা গ্রাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিই এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি।

আরও পড়ুন: খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ জনি নামে যুবক গ্রেফতার

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় টিপনা গ্রামের প্রায় ৮০০ পরিবারের বসতবাড়ি থেকে গৃহস্থালির বর্জ্য বা হাউজহোল্ড ওয়েস্ট সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তীতে গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক প্ল্যান্ট নির্মাণ করে সেই বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাছের লার্ভা বা খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়ক বাই-প্রোডাক্ট তৈরি করে তা বিক্রি করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে, এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। আয়ের একটি সুযোগ তৈরি হবে। এটি বর্তমানে পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে, যা পরবর্তীতে সফলতা সাপেক্ষে বাজার এলাকাগুলোতে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজের অর্ডার বা কার্যাদেশ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব স্বীকৃত ‘ত্রি-আর’ (হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ) নীতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হবে। ফলে বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমবে, তেমনি প্রতিটি উপাদানকে উৎপাদন কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বাড়িঘর ও বাজার থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে। এরপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হবে মানসম্মত জৈব সার। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিতে লার্ভা উৎপাদনের মাধ্যমে মাছের খাবার তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকসহ অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে আনবে চমৎকার পরিবর্তন। এতে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষি ও মৎস্যখাতে সাশ্রয়ী বিকল্প উপাদানের জোগান নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। কৃষিতে জৈব সার এবং মৎস্য খাতে দেশীয় খাবার ব্যবহারের ফলে চাষিদের উৎপাদন খরচও অনেকাংশে কমে আসবে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বাসসকে বলেন, ‘আধুনিক এই প্ল্যান্টটি চালুর মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে পরিণত হবে। পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি এলাকার ৬ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, টিপনা আদর্শ গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুক্ত হয়েছে আরও কিছু উদ্যোগ। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে গ্রামের ২৪০টি পরিবারে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক টয়লেট। পাশাপাশি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ৫০টি ডিপ টিউবওয়েল। নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনে দিয়েছে স্বস্তি।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বাসসকে বলেন, ‘সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপাদনের এই মডেল শুধু টিপনা নয়, পুরো ডুমুরিয়ার জন্য এক বিরাট আশীর্বাদস্বরূপ।

আরও পড়ুন: শিথিলের দিনেও আবরোধ চলছে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া: কেসিএনএ

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়া এবার ভয়ংকর ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে এসব অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়, শনিবার এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এর আগে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া একের পর এক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে আক্রমণাত্মক ড্রোন, নতুন নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুই কোরিয়ার মধ্যে ব্যাপক সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক সেই সময় উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা সম্পন্ন করল।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় পিয়ংইয়ং নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার এবং সীমান্তে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারণা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) রোববার জানায়, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত করার জন্য তৈরি ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করাই ছিল শনিবারের পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।

দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ওয়ারহেডটি সর্বোচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরণক্ষমতা ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে সক্ষম।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক মন্তব্য করেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই আমরা বিভিন্ন সামরিক ইউনিটকে তাদের পরিচালনাগত লক্ষ্য ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এসব অস্ত্রের ধরন বেছে নিয়ে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করব।’

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি চলমান উৎক্ষেপণযান থেকে কমলা রঙের আগুনের শিখা ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু আকাশে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে একটি দ্বীপে ক্লাস্টার বোমার একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

শনিবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর আগে গত এপ্রিলে তিনি নিজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ওই সময় তার মেয়ে জু আয়েও তার সঙ্গে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি দেশের বিশাল যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


রাষ্ট্রপতি দেশের বিশাল যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের বিশাল যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশের জনসংখ্যার কাঠামোতে সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে যুবসমাজ। এটিকে বলা হয় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। এটি দেশের জন্য একটি বড় সম্পদ ও সুযোগ। এই বিশাল যুবশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে নিঃসন্দেহে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে।’

রাষ্ট্রপতি আজ জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার কথা। এ জন্য প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।’

রাষ্ট্রপতি জানান, ‘এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দেশের যুবসমাজ। তারাই ভবিষ্যতের প্রধান চালিকাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্বও তাদের হাতেই।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে হবে। তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, একই সঙ্গে দেশকে নির্মাণও করতে হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতি যুব উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন অবদান ও কার্যক্রমের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

দেশ ও যুবসমাজের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবকদের সামনে নিয়ে আসতে হবে। দেশ গঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজকে সবক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

রাষ্ট্রপতি নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের তরুণ-তরুণীরা এত ভালো কাজ করছেন, দেখে অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছি। তাঁরা খুব স্বল্প পুঁজি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও নিজেদের পণ্য উৎপাদন করছেন। দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও সাফল্য অর্জন করছেন।

তিনি বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যকে উল্লেখ করে বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা দেশীয় খাবার ও মিষ্টি তৈরি করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। নিজের পরিবারকে সহযোগিতার পাশাপাশি তাঁর পণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ ধরনের সাফল্য উৎসাহব্যঞ্জক বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

তিনি যুব সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একইসাথে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার কথাও বলেন।

তিনি আরো বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ঋণ সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে হবে। প্রশিক্ষণ, ঋণ এবং অন্যান্য সহায়তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে বেকারত্ব কমানো এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সুযোগ পেলে একজন মানুষ নিজের অবস্থার পরিবর্তন করে অন্যদের জন্যও সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেন। তিনি বলেন, আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, এ ধরনের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য ন্যূনতম মূলধনের ব্যবস্থা করা।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যথাযথভাবে সহযোগিতা করা গেলে তাঁরা নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

একই সাথে তিনি দেশের যুব সমাজকে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যুব সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে বেঁচে থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে আমাদের যুবসমাজের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে মাদকাসক্তি। তরুণদের মধ্যে মাদকের আসক্তি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

তিনি বলেন, এই আসক্তি বন্ধ করতে আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি, প্রচারণা এবং কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ।

রাষ্ট্রপতি এ সময় নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক, বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যসহ সকল সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এসব সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবসমাজের আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

নিজেদের উদ্যোগে এবং প্রতিটি অঞ্চলে সংগঠন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গড়ে তুলতে হবে, যাতে সমাজকে নষ্ট করে এমন সব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।

দেশে বায়োগ্যাস উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বায়োগ্যাস প্রকল্পের ধারণাটি অনেক পুরোনো হলেও এটি অত্যন্ত কার্যকর ও উপযোগী। বর্তমানে আমরা যে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি, বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে সেই চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্প সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদের এই অর্জন ও সাফল্য দেশের অন্য তরুণ-তরুণী ও যুবকদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী জব ফেয়ার এবং দেশব্যাপী স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টসমূহের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এর আগে তিনি জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান।

অনুষ্ঠানে যুব কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্টল ও যুবমেলা পরিদর্শন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১৩.৮৮ শতাংশ

ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৬ : দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে প্রধান সূচকগুলোর পতন ঘটলেও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহটিতে আগের সপ্তাহের তুলনায় দৈনিক গড় লেনদেন ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, লেনদেনের পরিমাণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৈনিক গড় লেনদেন অন্তত ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে এই পরিমাণ ছিল ৩৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৫০ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে তিন কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। দেশের অর্থনীতির আকার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের কম লেনদেন প্রত্যাশিত নয়। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে, তবে তা এখনও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার মতো তেমন খারাপ পরিস্থিতি নেই। ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে এবং পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে এই সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট।

একই সময়ে, ডিএস৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে রয়েছে। তবে এসএমই সূচক ডিএসএমইএক্স ৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৯৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্টে উঠেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৮৭ কোটি ১৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহে এ পরিমাণ ছিল ৪০ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ার। অর্থাৎ, টাকার অঙ্কে লেনদেনের পাশাপাশি শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও বেড়েছে।

তবে, দরবৃদ্ধির চেয়ে দরপতনের প্রবণতা ছিল বেশি। সপ্তাহজুড়ে ১০৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ২৫টির দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং ২৫০টির দাম কমেছে। এ সময়ে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি।

এছাড়া, গত সপ্তাহে ব্লক মার্কেটে ১৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এসএমই বোর্ডে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে ৫২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে ৩০ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই বিবেচনায় পুঁজিবাজারে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়া প্রত্যাশিত। যদি এ পর্যায়ে লেনদেন না পৌঁছায়, তবে বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান—কোনো পক্ষের জন্যই বাজার টেকসই হবে না।

বাজারে লেনদেন বাড়াতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড দ্রুত মূল বোর্ডে আনার উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, বন্ডগুলো মূল বোর্ডে এনে লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্ডের তুলনামূলক বেশি সুদের হার ও সহজে কেনাবেচার সুযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। যদি কোনো বিনিয়োগকারী প্রায় ১৩ শতাংশ মুনাফার সুযোগ পায় এবং প্রয়োজনের সময় সহজে বন্ড বিক্রি করতে পারে, তবে তাতে তার আগ্রহ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড মূল বোর্ডে আনার বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যার সংশোধনের কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা হওয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে কিছুটা সময় লাগছে।’

তবে চলতি বছরের মধ্যেই বন্ডগুলো মূল বোর্ডে লেনদেনের জন্য আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিবিএ সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় ফেসবুকে অস্ত্রসহ ভিডিও প্রকাশে চার কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


কুমিল্লায় ফেসবুকে অস্ত্রসহ ভিডিও প্রকাশে চার কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

কুমিল্লা, ১ নভেম্বর ২০২৬ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশীয় অস্ত্র হাতে থাকা কিশোর-তরুণদের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ÔSBSÕ নামে পরিচিত কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য এবং ÔCTGÕ নামের একটি গ্রুপের একজন অ্যাডমিন রয়েছেন। এ তথ্য আজ কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন টমছম ব্রিজ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জেলা পুলিশের নজরে আসার পর সদর দক্ষিণ মডেল থানার একটি অভিযানিক দল ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের কাজ শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ÔSBSÕ গ্রুপের তিন সদস্য এবং ÔCTGÕ গ্রুপের একজনসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই তারা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্তব্যরত পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে ÔSBSÕ গ্রুপের সদস্য মো. হাবিব (১৭), ইয়াছিন আহমেদ আকাশ (১৭) ও হাবিব (১৭) রয়েছেন। অপরজন ÔCTGÕ গ্রুপের অ্যাডমিন মো. শাওন (১৯)।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক তিন কিশোরের বর্তমান ঠিকানা সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসার এলাকা। তাদের স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অবস্থিত। অপরদিকে শাওনের স্থায়ী ঠিকানা বরুড়া উপজেলা হলেও বর্তমানে তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইসার এলাকায় বসবাস করছেন।

পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%