০৮:২৮ পি.এম
নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর যমজ নবজাতকের মধ্যে একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপর শিশুর whereabouts সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছে না। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে, ভুক্তভোগী পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সুবিচারের দাবিতে প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতি শান্তনা আক্তারের গর্ভাবস্থায় গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি আলাদা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছিল। উভয় পরীক্ষায় প্রসূতির গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে।
আরও পড়ুন: সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ আ‘লীগের ঝটিকা মিছিল: ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলো এসএমপি পুলিশ
প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তার স্ত্রীকে শহরের ‘বলাকা ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর একটি কন্যাসন্তান তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলেও দ্বিতীয় সন্তানের whereabouts সম্পর্কে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে টাকার লোভ দেখানো হয়। বাধ্য হয়ে তিনি থানার পুলিশকে বিষয়টি জানাতে বাধ্য হন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, ‘ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শেই আমি ক্লিনিকে ভর্তি হই। আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী আমি দুটি সন্তানের মা হওয়ার কথা জানতাম। কিন্তু সিজারের পর আমাকে কেবল একটি মেয়েসন্তান দেখানো হয়।’
অস্ত্রোপচার কক্ষে নিগ্রহের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘পরিবারের সদস্যরা দ্বিতীয় সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় ফোনে ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেয়া হয় যে, তাদের কথা না মানলে এ অবস্থাতেই ফেলে রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে শরীরে তীব্র কাঁপুনি শুরু হলে বাধ্য হয়ে আমি তাদের কথা মেনে নেয়ার কথা বলি। এরপর চিকিৎসক রাগারাগি করে সেলাই সম্পন্ন করেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘প্রসূতি নারী ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী ছিলেন এবং তার পরামর্শেই ভর্তি হয়েছিলেন। ওই চিকিৎসকই নিজে অপারেশন করেছেন। গর্ভে সন্তান একটি ছিল না দুটি ছিল, তা চিকিৎসকের জানার কথা; আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
আরও পড়ুন: হৃীলার গহীন পাহাড়ে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে
ঘটনার সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন