ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন সোনিয়া গান্ধী


বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন সোনিয়া গান্ধী

১৯৯২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন, এমন মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

সোনিয়া গান্ধী বলেন, "বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনে দেখার সময় আমি কেঁদে দেই। এরমাধ্যমে আমি বুঝতে পারি ভারতের সামনে তার ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য দীর্ঘ লড়াই সামনে রয়েছে।"

আরও পড়ুন: ভারত সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেফ হারবার সুবিধা বাতিলের কথা ভাবছে

উত্তর প্রদেশের উগ্রপন্থিদের মধ্যে ওই সময় রামজন্মভূমি আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছিল। বাবরি মসজিদের নিচে প্রাচীন মন্দির আছে এমন অভিযোগ তুলে এটি ভেঙে ফেলা হয়।

সোনিয়া গান্ধী ওই কাজে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হাত ছিল সেটি উল্লেখ করে বলেন, "আমি বুঝতে পারি মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং তার সহকর্মীরা যে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটি রক্ষায় ভারত কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হচ্ছিল।"

তিনি আরও বলেন, ভারতে বিজেপি ও তাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদের যে উত্থান হয়েছে সেখানে কংগ্রেসেরও ভূমিকা আছে বলে স্বীকার করেছেন সোনিয়া।

এদিকে, সোনিয়া বাবরি মসজিদ নিয়ে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর বিজেপি তাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস হলো ‘হিন্দু বিরোধী’।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি প্রদেশ হচ্ছে?

তিনি এক্সে লিখেছেন, "সোনিয়া গান্ধী বাবরি মসজিদের জন্য চোখের পানি ফেলেন, সোনিয়া গান্ধী বাটলা হাউজের জন্য চোখের পানি ফেলেন। সোনিয়া গান্ধী প্রমাণ করেছেন কংগ্রেস হলো বাবরপন্থি এবং ভগবান রাম বিরোধী। সোনিয়া গান্ধীর ভোট ব্যাংক কমতেই থাকবে।"

বাবরি মসজিদ ভাঙার জেরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় দ্বন্দ্ব বাধে। যার রেশ দীর্ঘদিন ছিল। বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালে সেখানে মন্দির নির্মাণ করে সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়িয়ায় দুই মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক, জব্দ এক লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


মঠবাড়িয়ায় দুই মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক, জব্দ এক লাখ টাকা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে দুই হাজার ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে নগদ এক লাখ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট লাখ ছয় হাজার টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মুজাম্মেল বেপারীর ছেলে মো. রুবেল বেপারী (২৯) এবং অপরজন মিরুখালী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মৃত মো. আমির হোসেনের ছেলে ইমাদুল দফাদার (২৭)।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমবায়ের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী আজাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


সমবায়ের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী আজাদের

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সমবায়ের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ ও জাতি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমবায়ের মূল শক্তি হলো ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নারী-পুরুষ সকলকে সমবায়ের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন চত্বরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

সমবায়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, "ছোটবেলায় আমরা একটি গল্প পড়েছি- একজন বাবার ছয় সন্তান ছিল। বাবা প্রত্যেককে একটি করে কাঠি দিয়ে ভাঙতে বললে তারা সহজেই তা ভেঙে ফেলতে পারে। কিন্তু ছয়টি কাঠি একসঙ্গে বেঁধে দিলে কেউ আর তা ভাঙতে পারে না।" এই গল্পের শিক্ষা হলো, ঐক্যবদ্ধ শক্তি অনেক বেশি দৃঢ়। ১০ জন, ২০ জন কিংবা ২০০ জন মানুষ যখন একটি ভালো উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন, তখন সেই উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনাও বহুগুণ বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সমবায় শুধুমাত্র একটি নিবন্ধনকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়। এটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ঐক্য ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের নারী-পুরুষকে সমবায়ভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন, সঞ্চয় ও কর্মসংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে দলবদ্ধ উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারলে মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

সমবায়ের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা গেলে নারী-পুরুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এর মধ্য দিয়েই দ্রুত একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, জেলার সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতিতে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের হ্রাস পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "গত মাসের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় খুন, দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, সামগ্রিকভাবে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলার সব সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের আরও জনবান্ধব হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করতে হবে।

তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারা দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি একটি বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। কেবল কিশোর-কিশোরী নয়, বয়স্ক মানুষের মধ্যেও এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পারিবারিক, সামাজিক ও সম্মিলিত সচেতনতা। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়েও সভা-সমাবেশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মানুষের মধ্যে এমন সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে হতাশাগ্রস্ত ও মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিরা পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পান এবং আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে পারেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসন চত্বরে নেমে সমবায় দিবসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ফিতা কেটে দিবসটির উদ্বোধন করেন তিনি।

এসময় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের ইসলামির আমির ইকবাল হোসাইন, পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবিতে প্রথমবার দেখা মিলল উত্তুরে হনুমান, বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


জাবিতে প্রথমবার দেখা মিলল উত্তুরে হনুমান, বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে বিপন্ন প্রজাতির নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর বা উত্তুরে হনুমানের। বাংলাদেশে এটি ‘যশোরের হনুমান’ নামেও পরিচিত।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) সংলগ্ন এলাকায় প্রাণীটিকে দেখতে পান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

রসায়ন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সুমন, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার এলাকার পাশ দিয়ে ক্যাম্পাসের মনপুরা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তারা প্রাণীটিকে দেখতে পান এবং এর ভিডিও ধারণ করেন।

শাহাদাত হোসেন সুমন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে মনপুরার দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের কাছাকাছি প্রাণীটিকে দেখতে পাই। পরে আমরা এর ভিডিও ধারণ করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান জানান, জাবিতে আগে কখনো হনুমান দেখা যাওয়ার রেকর্ড নেই। মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে বানর দেখা গেলেও এ ধরনের হনুমান এর আগে দেখা যায়নি।

তিনি জানান, জাবিতে দেখা প্রাণীটি নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুর বা যশোরের হনুমান নামে পরিচিত। এ প্রজাতির মূল উৎস বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় রয়েছে।

মনিরুল এইচ খান বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির হনুমান রয়েছে। এটি একটি আরবান হনুমান। বন্যপ্রাণী হলেও এটি সাধারণত বনে থাকে না, বরং বসতিপূর্ণ এলাকায় থাকে।

মানুষের খাবার এবং মানুষের লাগানো গাছপালার ফল ও ফসল খাওয়ার কারণে এরা প্রায়ই লোকালয়ে বিচরণ করে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, খাবার বা ফল পরিবহনকারী ট্রাকে উঠে এ প্রাণীগুলো অনেক সময় দূর-দূরান্তে চলে যেতে পারে। ট্রাক গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সুযোগ বুঝে নেমে নতুন এলাকায় অবস্থান করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাওয়াটিও এভাবেই হয়ে থাকতে পারে।

সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলাতেও এ প্রজাতির একটি হনুমান দেখা গেছে, যেখানে এর আগে প্রাণীটির উপস্থিতির কোনো রেকর্ড ছিল না বলে জানান মনিরুল।

প্রাণীবিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুরের বৈজ্ঞানিক নাম সেমনোপিথেকাস এন্টেল্লাস। বাংলাদেশে এ প্রজাতির হনুমান মূলত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দেখা যায়। বিশেষ করে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলায় এদের উল্লেখযোগ্য আবাসস্থল রয়েছে। এরা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ির আশপাশের গাছপালা, বাগান ও ফলের বাগানে বিচরণ করে।

বাংলাদেশের জাতীয় লাল তালিকায় নর্দার্ন প্লেইনস ল্যাঙ্গুরকে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। আবাসস্থল সংকট, খাদ্যের অভাব এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত এ প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি।

জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আওতাধীন ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাণীটি বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটিকে উদ্ধার করে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, আমি আমার টিমকে যথাসম্ভব চেষ্টা করতে বলব, যাতে নির্দিষ্ট এলাকায় খোঁজ করে এটিকে উদ্ধার করা যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ১১ গুণ বেশি: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


নারীদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ১১ গুণ বেশি: গবেষণা

দেশের গ্রামীণ নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণায়। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা নারীদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত রয়েছে। অন্যদিকে, পুরুষদের মধ্যে এ হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মানে হলো, নারীদের রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে, মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি।

গবেষণাটি চট্টগ্রাম বিভাগের চারটি গ্রামীণ ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ গত ১০ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া ৪৫৯ জনের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

গবেষণায় নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্তের হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে ২৭ শতাংশ মৃদু, ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ মাঝারি এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ তীব্র রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীদের মৃদু রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় ২ দশমিক ৫১ গুণ এবং মাঝারি রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি ১১ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি। এছাড়া, স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় কম ওজনের ব্যক্তিদের মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩ দশমিক ৪২ গুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ পুষ্টিহীনতা, মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্ব। গর্ভাবস্থা এবং সন্তান জন্মদানের সময় শরীরে পুষ্টির চাহিদা বেড়ে গেলেও অনেক নারী প্রয়োজনীয় আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার পান না। ফলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আফসানা হাবিব শিউলী গণমাধ্যমকে বলেন, "নারীদের পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পুষ্টিবিষয়ক শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব রক্তস্বল্পতার কারণ আয়রনের অভাব নয়। ফলেট ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, সংক্রমণ এবং বংশগত রক্তরোগের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। তাই রক্তস্বল্পতা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

গবেষণার সহগবেষক ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "গ্রামীণ নারীদের নিয়মিত রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে কিশোরী, সন্তান ধারণের বয়সী নারী ও গর্ভবতীদের। পাশাপাশি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের বড়ি গ্রহণ এবং চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও শাকসবজি রাখতে হবে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খেলে শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং সন্তান জন্মদানের মধ্যে যথেষ্ট বিরতি নিশ্চিত করাও জরুরি।"

অন্যদিকে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহ গণমাধ্যমকে জানান, "চট্টগ্রাম অঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। তাই রক্তস্বল্পতার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।"

তবে গবেষণাটির ফলাফল দেশের সব নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে এবং হিমোগ্লোবিন পরীক্ষার তথ্য পাওয়া ৪৫৯ জনকে চূড়ান্ত বিশ্লেষণে রাখা হয়েছিল। গবেষণায় রক্তস্বল্পতার সব সম্ভাব্য কারণও আলাদাভাবে নির্ণয় করা হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%