ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে


আবহাওয়া অধিদপ্তর: সারা দেশে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে। এছাড়া, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি ঘণীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাগরে ফুঁসছে ‘মুরাসু’: নামের অর্থ কী, কোথায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি?

আজ সকাল ৬টায় এটি পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিলো এবং আজ রাত নাগাদ এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে, গতকাল দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুতুবদিয়ায় ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ উত্তর বা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। ভোর ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ।

আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৩ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আসছে, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত জারি

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ১৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৬ মিনিটে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


২০২৭ সালে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে দক্ষিণ কোরিয়া

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৭ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বরাদ্দকে দ্বিগুণ করে রেকর্ড ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোমবার পার্লামেন্টে আগামী বছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিশ্বের শীর্ষ তিনটি মেমোরি চিপ উৎপাদনকারীর মধ্যে অন্যতম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে এসব চিপের চাহিদা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

লি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর, ফিজিক্যাল এআই এবং এআই ডেটা সেন্টার—এই তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে আমরা ২১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন (১৬ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেব। এই বরাদ্দ চলতি বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াতে আমরা এআই এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিগুলোতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করব। অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তি হলো প্রবৃদ্ধির এই সক্ষমতা।’

লি জানান, সরকার নিজস্ব এআই মডেলকে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক এআই উন্নয়ন প্রকল্পে ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করবে। তিনি এআই মডেলকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৭ সালের সরকারি ব্যয় পরিকল্পনা তুলে ধরতে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ৮২১ ট্রিলিয়ন ওন। এটি চলতি বছরের বাজেটের তুলনায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট প্রস্তাব।

তবে, বাজেট কার্যকর করার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন আবশ্যক। প্রেসিডেন্টের দলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী বছর এ খাতে বরাদ্দ ৮ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৭৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, সরকার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ও কেএফ-২১ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট ও ড্রোননির্ভর মানুষচালিত এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার সমন্বয়ে সামরিক বাহিনীকে দ্রুত আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে

তিনা খানম

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে পানি ও মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

এ কারণে এটি বাংলাদেশের পানি, কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অপরিহার্য একটি প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করেছে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের ফলে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে এবং মোট ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো ছিল প্রাণবন্ত। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী।

নদীগুলোর পলি মাটির স্তর পড়ার ফলে লবণাক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে পানি বাড়লে সেই পানি ধারণের অবস্থাও থাকে না, ফলে এসব অঞ্চলের জনপদ বন্যার কবলে পড়ে।

পরিবেশের এই বিরূপ আচরণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ অর্থনীতি, সেচ, কৃষি, মাছ উৎপাদন এবং নৌ চলাচলে ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এর ফলে পুরো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে খাওয়ার পানি পর্যন্ত পাচ্ছেন না। কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে দিচ্ছেন, ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং আর্সেনিকের পরিমাণ বাড়ছে।

এছাড়া মৃতপ্রায় নদীতে শুষ্ক মৌসুমে মাছের উৎপাদন কমছে, ফলে অনেক জেলে বেকার হয়ে পড়ছেন। পানি না থাকায় নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার (পদ্মা) পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বাসসকে বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি অফিস আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছি। গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের সুবিধার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর ওই অঞ্চলে মানুষ বসবাস করতে পারবে না। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মাছসহ অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

তবে দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজটি চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বাসসকে বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই পানির সংকটের পাশাপাশি সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বাড়বে। এছাড়া বাড়বে পলি জমার কারণে জলাবদ্ধতা। এ জন্য ওই অঞ্চলগুলোতে ফ্রেশ পানির সর্বচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজ বড় ভূমিকা রাখবে।

মাশফিকুস সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটিতে থাকা লবণাক্ততা হ্রাস পাবে। নিঃসন্দেহে প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে, তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকার নিশ্চয় সেগুলো বিবেচনা করেই এগোচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারেজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাসসকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের এক তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষি, অর্থনীতি এবং প্রাণীজ সম্পদসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেটি তখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আমরা সামনে এনেছি এবং পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে আন্দোলন করেছি।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হবে এবং জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সার্বিকভাবে উপকৃত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি প্রথমে বাস্তবায়িত হবে।

হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো।

এছাড়া সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী থানার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

রোববার, পুলিশ এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মো. আলাউদ্দিন (৩৩), মোহাম্মদ মাসুদ (২৪), মোছা. জামিলা আক্তার (২৭), আব্দুল্লাহ নূর জামিল (৪০), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাপ্পি, ফেরদৌস (২৮), মো. রাহাত (২৬), মেহেদী হাসান (২০), রাব্বি (১৯), ওয়াজকুরুনী (২১), মো. উজ্জ্বল (১৯), মো. মোহামিন উদ্দিন হায়দার (৪৫) এবং মো. লিমন (২০)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কিভাবে এবং কখন আরও জোরদার করা হবে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শনিবার দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার সময় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প চান যে, সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ফোনালাপটিকে 'উত্তপ্ত বা টানাপোড়েনপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘সরাসরি’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে দুটি পথ অনুসরণ করছে। একদিকে, দেশটির বিরুদ্ধে বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে না, কারণ ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এর পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তেহরানে পৌঁছেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এ অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%