ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

এসএসসিতে বিয়ে, ১৪ বছর পর অদম্য রীতির জিপিএ-৫ অর্জন


এসএসসিতে বিয়ে, ১৪ বছর পর অদম্য রীতির জিপিএ-৫ অর্জন

সংসার জীবন, সন্তান লালন-পালন এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা, কিছুই রীতি খাতুনকে দমাতে পারেনি। ত্রিশ বছর বয়সী এই গৃহবধূ, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নশিরপুর গ্রামের বাসিন্দা, ১৪ বছর পর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

২০১০ সালে এসএসসি পাস করার পর রীতির বিয়ের ঘটনা ঘটে, যখন তার মা-বাবার সংসারে অভাব ছিল। এরপর সংসার জীবনের নানা ব্যস্ততা তাকে ঘিরে ফেলে। কিন্তু তার পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছা এবং জেদ তাকে থামাতে পারেনি। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় ২০২৪ সালে তিনি ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখায় ভর্তি হন। গৃহস্থালির কাজ, গবাদিপশু দেখাশোনা, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির দেখভাল এবং মেয়ে লালন-পালনের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।

রীতি খাতুন বলেন, “আসলে ২০১০ সালে আমি এসএসসি পাস করি মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। তারপরে বাবার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না, উনি আমাকে বিয়ে দেন। তো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। তারপর ২০১১ সালে সেটা আমার বিয়ে হয়। তারপরে আমার মনে সেই ইচ্ছা শক্তিটা ছিল যে আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু প্রতিকূল অবস্থার কারণে আমার পড়াশোনাটা হয়নি। শারীরিক অনেক খারাপ দিক থেকেও পারিনি। সংসারে অনেক ঝামেলা ছিল। তারপরে একসময় সন্তানের মা হই। তখন পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও বাহিরে যেতে যাওয়ার বাইরে যাওয়ার মত আমার অবস্থা ছিল না। কিন্তু তারপরও দু চোখ ভরে আমার স্বপ্ন ছিল, মনে আমার ইচ্ছে ছিল যে আমি পড়াশোনা করব। অন্তত না হলেও কলেজ লাইভটা আমি শেষ করব এইরকম। তো আমার স্বামীকে আমি বলতাম সেও যে খুব যে আমাকে পড়াশোনা করাবে তাও না, সেও পারিপার্শ্বিক ঝামেলার দিক থেকেও তার ক্ষমতা হয়নি কিংবা সেও চেষ্টা করেও পারেনি। কিন্তু অবশেষে তার অনুপ্রেরণায় আমার ইচ্ছা শক্তিতে আমি ২০২৪ সালে ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হই। তো তার অনুপ্রেরণায় অবদান আমি শুধু তার অবদান অবদান নয়, আমি শিক্ষকদের অনেক সহযোগিতায় পেয়েছি। তারা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে, আমাকে ভালোবেসেছে, স্নেহ করেছে। তারা সব সময় আমাকে বলেছে তুমি এই বয়সে ভর্তি হয়েছো, তুমি অনেক কিছু করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে এগিয়ে যাও। তো তাদের অনুপ্রেরণায় আমার স্বামীর অনেক অনেক অবদানের পরে আমি ২০২৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষাতে কৃতিত্বের সহিত এ প্লাস পেয়েছি। তো সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, তিনি যেন আমার প্রতি সদয় হন। আমার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। আমার একটা মেয়ে আছে। আমার স্বামীও যে খুব রোজগার করে তাও না। আমার প্রতি যেন দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি যেন দেশের কল্যাণে এগিয়ে যেতে পারি। আমাকে যেন তিনি একটা চাকরি দেন কিংবা পড়াশোনার জন্য যেন আমার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি যেন আরো পড়াশোনা করতে এগিয়ে যেতে পারি।”

আরও পড়ুন: গভর্নিং বডির সভাপতির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল

রীতির স্বামী আব্দুল আলীম বলেন, “সে কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখেছে। ঘরের কাজ শেষ করে গভীর রাতে কিংবা ভোরে বই নিয়ে বসে যেতো। আমি স্বামী হিসেবে তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছি।”

প্রতিবেশী আবু রাইহান এবং তার কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার জানান, “রীতি চাচী আমাদের এলাকার গর্বিত স্ত্রী। তিনি সংসার সামলিয়ে এইচএসসিতে যদি জিপিএ ৫ অর্জন করতে পারেন, তাহলে আমরা কেন পারবো না।”

ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আনিছুজ্জামান সরদার বলেন, “প্রতিবেশীদের নানা উপহাস আর কটূ কথা সহ্য করে ব্যাগের পরিবর্তে সিমেন্টের বস্তায় করে বই পুস্তক নিয়ে রীতি খাতুন কলেজে আসা যাওয়া করেছে। সংসারের দায়িত্ব পালন করে রীতির এমন ফল সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই অধ্যবসায় অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, “রীতি খাতুন একজন অদম্য ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যক্তির নাম। আপনারা জানেন যে, ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে-হয়ার দেয়ার ইজ এ ইউল, দেয়ার ইজ এ ওয়ে অর্থাৎ ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তো রীতি খাতুনের মাধ্যমে আবারও এই প্রবাদ বাক্যটি প্রমাণ হয়েছে যে, মানুষের ইচ্ছা থাকলে আসলে উপায় হয়। আপনারা অবগত আছেন যে, দীর্ঘ ১৪ বছর রীতি খাতুনের পড়াশোনার একটা গ্যাপ ছিল। পরবর্তীতে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এটা আসলে হচ্ছে আমাদের জন্য খুবই আনন্দের বিষয়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ এবং স্যালুট জানাই। কারণ হচ্ছে, তার এই অদম্য ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সমাজে এমন একটি মেসেজ চলে যাবে যে, ইচ্ছা থাকলে আসলেই উপায় হয়। বয়স কোনো বাধা থাকে না শিক্ষার ক্ষেত্রে। যার ইচ্ছে থাকে, সে সব সময় সফলতা অর্জন করতে পারে।”

আরও পড়ুন: চুয়েটে তিনদিন ক্লাসের পর আবারও শিক্ষাক্রম বন্ধ, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

রীতি খাতুনের এই সাফল্যের মুক্তকণ্ঠ প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্য, স্বজন, এলাকাবাসী, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। রীতি খাতুন প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ইচ্ছা থাকলে এবং সঠিক পরিবেশ পেলে বয়স বা সামাজিক বাধা পড়াশোনার পথে কখনো দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুর-উত্তরায় হকারদের জন্য বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


মিরপুর-উত্তরায় হকারদের জন্য বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১ ও ১০ নম্বর এবং উত্তরা অঞ্চলে হকারদের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজে বের করার কাজ চলছে, এমনটি জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে, ডিএনসিসি প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রশাসক উল্লেখ করেন, ‘হকাররা আমাদের অংশ এবং মিরপুর-১০, মিরপুর-০১ ও উত্তরা এলাকায় তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিকল্প স্থান খোঁজা হচ্ছে। দ্রুত তাদের জন্য বিকল্প বসার স্থান তৈরি করা হবে। হকারদের জন্য হলিডে মার্কেটের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদকৃত হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ব্যবস্থার চেষ্টা করছি। যদি আমরা হকারদের জন্য বিকল্প স্থানে তিন থেকে পাঁচশো দোকান বসানোর ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে ক্রেতারাও সেখানে আসবে এবং কেনাবেচা আরও ভালো হবে।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়েই ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদ করেছি এবং আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কিছু সিন্ডিকেট ও হকাররা দায়ী। কারণ তারা ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রেখেছিল, যেখানে সাধারণ জনগণের হাঁটার কোনো পথ ছিল না এবং সাধারণ জনগণ জানতেই পারত না তাদের জন্য ফুটপাত ছিল।’

তিনি জনগণের উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মিরপুর ১০ ও মিরপুর-১ এর ফুটপাতে হকারদের আর বসতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রশাসক প্রতিনিধি দলকে জানান, ‘বিকল্প স্থানে নিজস্ব যান চালিত দোকান থাকবে এবং এখানে কোনো চৌকি বসানো যাবে না।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকাস'র সভাপতি শাহীন ও মহাসচিব মাহবুবের অভিষেক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


বাকাস

বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের তৃতীয় শ্রেণি নির্বাহী কর্মচারী সমিতি-বাকাস'র ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

৩১ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (আইডিইবি) ভবনে নির্বাচন কমিশন নব-নির্বাচিত কমিটির চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। পরে সেখানে শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নব গঠিত কমিটিকে শপথ পাঠ করান নির্বাচন কমিশনার মো. শামস উদ্দিন।

নির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি পদে সাব-ইনস্পেক্টর মোহাম্মদ শাহীন মিয়া এবং মহাসচিব পদে সাব-ইনস্পেক্টর মাহবুব হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন অর্থ সস্পাদক মো. বাবুল হোসেন, সাংগঠনিক সস্পাদক মো. আবু রায়হান শাওন, প্রচার সম্পাদক মো. মাহাবুবর রহমান, দফতর সস্পাদক যাকারিয়া জামান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুকনুজ্জামান এবং আইন ও কল্যাণ সম্পাদক শাকিল হোসেন।

নতুন কমিটি আগামী দুই বছর বাকাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাকাএভ) সভাপতি রাজস্ব কর্মকর্তা কে. এম মাহবুব আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল বসর, সহ সভাপতি রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাসউদুর রহমান, কার্যকরী মহাসচিব শাহ মোহাম্মদ যোবায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক মো. নাফিস আমীন রিজভী, বাকাসের সাবেক সভাপতি মো. সালেক খান, মো. আবু শিহান, সাবেক মহাসচিব মো. আলহেলাল তাজ, মো. মাইনুদ্দিন, মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্যান্য সাবেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সভা সঞ্চালনা করেন মিঠুন চন্দ্র সাহা ঢাকাস (দক্ষিণ), ঢাকা এবং শায়লা জামান ঢাকাস (পূর্ব), ঢাকা। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন দিদারুল ইসলাম-সাধারণ সম্পাদক (ঢাকাস (দক্ষিণ), ঢাকা) ও মিঠুন গোস্বামী-ঢাকাস (উত্তর)।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোবাইলের ভিডিওতেই মিলল সূত্র: ধর্ষণের পর তরুণী হত্যায় রিফাতের ফাঁসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


মোবাইলের ভিডিওতেই মিলল সূত্র: ধর্ষণের পর তরুণী হত্যায় রিফাতের ফাঁসি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামের যুবককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ এবং রাষ্ট্রপক্ষের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনে পঞ্চগড় যাওয়ার সময় দিনাজপুর রেলস্টেশনে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে রিফাতের পরিচয় ঘটে। পরে নানা প্রলোভনে তাকে আটোয়ারীর কিসমত রেলগেট এলাকার একটি সুপারিবাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার ভয়ে তরুণীর মাথায় ও শরীরে ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন রিফাত। এরপর মরদেহ আড়াল করতে টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ১৪ জানুয়ারি সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনাক্ত না হলেও একই বছরের ৮ মার্চ পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় রিফাতকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় তার মুঠোফোনে কিছু ছবি ও ভিডিও দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

ঘটনার পর আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি আটকের পর স্বীকারোক্তি দেয়াসহ সব তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এই সাজা অনুমোদন এবং আসামির আপিল বা মার্জনা আবেদন নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সাজা পরোয়ানামূলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। আসামিকে বর্তমানে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হায়দার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বেল্লাল হোসেনের আত্মসমর্পণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৭ পি.এম


হায়দার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বেল্লাল হোসেনের আত্মসমর্পণ

ঝালকাঠির আলোচিত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হায়দার হোসাইন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বেল্লাল হোসেন (৪০) আত্মসমর্পণ করেছেন।

তিনি সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আদালত বেল্লাল হোসেনসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল, এশার নামাজ শেষে ঝালকাঠির গোরস্থান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন হায়দার হোসেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন, নিহতের ছেলে মো. তারেক ইবনে হায়দার ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম। রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টও ওই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন: মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মো. তানভীর ওরফে মেহেদি, আমিনুল ওরফে আমির হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন ও সমীর হোসেন ভূঁইয়া। তবে বিল্লাল হোসেন এতদিন পলাতক ছিলেন।

২০০৫ সালে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় সরকার পক্ষের কৌশলী ছিলেন হায়দার হোসেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য হাসান সিকদার জানান, দণ্ডিত পলাতক বেল্লাল হোসেন যখন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন, তখন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%