ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে


পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আলোকিত করবে

তিনা খানম

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারের মাস্টার প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ দেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পিতভাবে পানি সংরক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর করার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা, নদী ভাঙন রোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে পানি ও মাটি থেকে অতিরিক্ত লবণাক্ততা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে।

আরও পড়ুন: এলপি গ্যাসের দাম ২২৩ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ

এ কারণে এটি বাংলাদেশের পানি, কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য অপরিহার্য একটি প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করেছে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের ফলে বছরে মাছের উৎপাদন প্রায় আড়াই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে এবং মোট ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এক সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো ছিল প্রাণবন্ত। তবে ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নেওয়ার কারণে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য অ্যামচ্যামের

নদীগুলোর পলি মাটির স্তর পড়ার ফলে লবণাক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে পানি বাড়লে সেই পানি ধারণের অবস্থাও থাকে না, ফলে এসব অঞ্চলের জনপদ বন্যার কবলে পড়ে।

পরিবেশের এই বিরূপ আচরণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, আবহাওয়া, জলবায়ু, পরিবেশ অর্থনীতি, সেচ, কৃষি, মাছ উৎপাদন এবং নৌ চলাচলে ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এর ফলে পুরো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালগুলোতে লবণাক্ততার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে খাওয়ার পানি পর্যন্ত পাচ্ছেন না। কৃষকরা সেচের পানি না পেয়ে মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে দিচ্ছেন, ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং আর্সেনিকের পরিমাণ বাড়ছে।

এছাড়া মৃতপ্রায় নদীতে শুষ্ক মৌসুমে মাছের উৎপাদন কমছে, ফলে অনেক জেলে বেকার হয়ে পড়ছেন। পানি না থাকায় নদীভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুন: চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ

এদিকে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার (পদ্মা) পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের প্রথম মেগা প্রকল্প পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বাসসকে বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে কাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। পানি ভবনে পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি অফিস আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেছি। গত ২৫ অক্টোবর পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চনপার্ক এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি। ব্যারাজের কাজের অগ্রগতি আরও গতিশীল হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃশ্যমান কাজের উদ্বোধন করবেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক নেতাদের দাবি: আন্দোলনে সহিংসতা-ভাঙচুরের জন্য ভাড়াটে লোক নিয়োগ

পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের সুবিধার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে দেশের চার বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর ওই অঞ্চলে মানুষ বসবাস করতে পারবে না। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং মাছসহ অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ স্বর্ণযুগে প্রবেশ করবে এবং কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক কমিটির সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

তবে দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় আরও বাড়বে। ব্যারাজটি চলতি বছরের জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: অর্থ মন্ত্রণালয়ে ৩৫ জনের চাকরির সুযোগ, নতুন পে স্কেলে বেতন

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে এই ব্যারাজ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূলত বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। প্রকল্পের আওতায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭৮টি পানিনিষ্কাশন কপাট (স্পিলওয়ে), ১৮টি তলদেশ নির্গমন পথ (আন্ডারস্লুইস), দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ।

ব্যারাজটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেইসঙ্গে থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার। প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের কারণে গত দুই দশকে পদ্মা নদী বিধৌত বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।

আরও পড়ুন: এনবিআরের তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম, তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর প্রবাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নদীভাঙনের হার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন বাসসকে বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেশি লবণাক্ততার কারণে খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই পানির সংকটের পাশাপাশি সুন্দরবন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা আরও বাড়বে। এছাড়া বাড়বে পলি জমার কারণে জলাবদ্ধতা। এ জন্য ওই অঞ্চলগুলোতে ফ্রেশ পানির সর্বচ্চ সরবরাহ ও প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পদ্মা ব্যারাজ বড় ভূমিকা রাখবে।

মাশফিকুস সালেহীন বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং পানি ও মাটিতে থাকা লবণাক্ততা হ্রাস পাবে। নিঃসন্দেহে প্রকল্পটি ওই অঞ্চলের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে, তবে নির্মাণের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি জমা, নদীভাঙন, উজানে নদী ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরকার নিশ্চয় সেগুলো বিবেচনা করেই এগোচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারেজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বাসসকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের এক তৃতীয়াংশ ভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষি, অর্থনীতি এবং প্রাণীজ সম্পদসহ নানা ক্ষেত্রে মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ প্রথমে নেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালের দিকে পুনরায় উদ্যোগ নেন। কিন্তু সেটি তখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি আমরা সামনে এনেছি এবং পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নে আন্দোলন করেছি।

সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা করছি অদূর ভবিষ্যতে পদ্মা ব্যারাজ দৃশ্যমান হবে এবং জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সার্বিকভাবে উপকৃত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।

চলমান গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প এবং প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা, ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় প্রকল্পটি প্রথমে বাস্তবায়িত হবে।

হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতীসহ প্রধান নদী ব্যবস্থার প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা কমানো।

এছাড়া সুন্দরবনের জন্য মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-গর্ভস্থ জল পুনঃসঞ্চয়ন এবং আর্সেনিক দূষণ কমানোও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


যাত্রাবাড়ী থানার অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী থানার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে, যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

রোববার, পুলিশ এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মো. আলাউদ্দিন (৩৩), মোহাম্মদ মাসুদ (২৪), মোছা. জামিলা আক্তার (২৭), আব্দুল্লাহ নূর জামিল (৪০), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাপ্পি, ফেরদৌস (২৮), মো. রাহাত (২৬), মেহেদী হাসান (২০), রাব্বি (১৯), ওয়াজকুরুনী (২১), মো. উজ্জ্বল (১৯), মো. মোহামিন উদ্দিন হায়দার (৪৫) এবং মো. লিমন (২০)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কিভাবে এবং কখন আরও জোরদার করা হবে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শনিবার দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার সময় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প চান যে, সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ফোনালাপটিকে 'উত্তপ্ত বা টানাপোড়েনপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘সরাসরি’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে দুটি পথ অনুসরণ করছে। একদিকে, দেশটির বিরুদ্ধে বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে না, কারণ ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এর পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তেহরানে পৌঁছেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এ অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় বাস-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


সাতক্ষীরায় বাস-ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত

সাতক্ষীরা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : জেলার শ্যামনগরের একটি দুর্ঘটনায় বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সাগর আলী (৫০) নামে এক ইজিবাইকের চালক।

আজ সোমবার সকালে, সকাল সাড়ে ৬টায়, উপজেলার বংশীপুর এলাকায় সোনার মোড় মৎস্য আড়তের পাশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সাগর আলী শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর গ্রামের শওকত আলীর পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ভেটখালি থেকে ছেড়ে আসা শ্যামনগর-কালীগঞ্জগামী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে সোনারমোড় এলাকায় ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ইজিবাইক চালক সাগর।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসসকে জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় সেটি জব্দ করা সম্ভব হয়নি। তবে, বাসটি শনাক্তকরণ ও চালককে আটক করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি হামলায় আহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


ইয়েমেনের বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি হামলায় আহত ৭

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি আরবের হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার।

হুথি গোষ্ঠী, যা ইরান দ্বারা সমর্থিত, দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি সানা থেকে এ খবরটি জানায়।

হুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের রস ঈসা বন্দরে হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এছাড়া বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বারবার এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইয়েমেনে সংঘটিত ধারাবাহিক যুদ্ধাপরাধের তালিকায় এসব হামলা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।’

এর আগে হুতিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, সৌদি আরব রস ঈসা বন্দরের একটি জেটি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর হোদেইদা। এটি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ।

শহরটির উত্তরে অবস্থিত রস ঈসা বন্দর দিয়ে তেল আমদানি ও মজুত করা হয়।

হুতি গণমাধ্যম আরও জানায়, রোববার একই প্রদেশে হোদেইদা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদেও হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, এলাকার দুই বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তারা সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত ‘গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিষ্ক্রিয় করতে’ তারা একটি ‘নির্ভুল সামরিক অভিযান’ চালিয়েছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা উপেক্ষা করে হুতিরা ইরানের একটি বিমানকে রাজধানী সানায় অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর পরপরই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।

জাতিসংঘ জানায়, ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%