০৪:৩৭ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কিভাবে এবং কখন আরও জোরদার করা হবে, তা নিয়ে কথা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শনিবার দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার সময় ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প চান যে, সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ডে সিঙ্গেলদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ফোনালাপটিকে 'উত্তপ্ত বা টানাপোড়েনপূর্ণ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘সরাসরি’ আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে দুটি পথ অনুসরণ করছে। একদিকে, দেশটির বিরুদ্ধে বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশটিতে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে না, কারণ ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: অবৈধ আকামাধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কুয়েত সরকার
এদিকে, শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। এর পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপের খবর প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তেহরানে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এ অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী শিবিরে সেনা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন