০৪:০৩ পি.এম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বালু উত্তোলনের কারণে ধলাই সেতু ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ চলাচল করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেতুর পিলারের গোড়ায় বালু উত্তোলন চলছে। এতে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে এবং সেতুর ধসের আশঙ্কা বাড়ছে। সেতুর আশপাশে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে এর ভিত্তি ও স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের নজরদারিতে বারবার অভিযান চালানো হলেও বালু উত্তোলন থামানো যাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শ্রমমন্ত্রী জড়িতদের ধরিয়ে দিতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
সাদাপাথর চুরির পর এবার একই এলাকার একটি সেতু ধ্বংসে বালুখেকোরা উঠেপড়ে লেগেছে। দিনের আলো কিংবা রাতের আঁধারে ধলাই নদীর বুকে বালু উত্তোলন চলছে। এটি শুধুমাত্র নদী থেকে বালু তোলার ঘটনা নয়; অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানীগঞ্জের ধলাই সেতু হুমকির মুখে পড়েছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি দুই তীরের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ২০০৩ সালে নির্মিত ৪৩৪ দশমিক ৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি একসময় সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম ছিল। বর্তমানে এটি দৈর্ঘ্যের দিক থেকে বিভাগে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় তাঁতি দল নেতা হত্যা মামলায় ৫ আসামির মধ্যে ১ জন গ্রেফতার
সেতুর আশপাশে ও পিলারের গোড়ায় বালু উত্তোলনের কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেতুর নিচে তাকালে গভীর গর্ত দেখা যায়। পিলারের গোড়ায় বালু তুলে নেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখলেও ভয়ে মুখ খোলেন না।
কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম ভরসা ধলাই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হবে, দুর্ভোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। অভিযান শেষে আবারও আগের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশাসনের সাথে লুকোচুরি খেলে এই বালুখেকোরা, তবে সেতুটি বাঁচাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ, সেতুর নিরাপত্তা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ
তিনি বলেন, "দোষী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।" তাদের ধরা হলে কোনো নেতা বা এলাকাবাসীর সুপারিশ কাজে আসবে না। প্রয়োজনে এলাকাবাসী তাদের ধরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ও উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ধলাই সেতুটি উদ্ভোধন করেছিলেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন